ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকলে সব দোষ আমার ওপর চাপানো হতো

স্টাফ রিপোর্টার : ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকলে আমার ওপর সব দোষ চাপিয়ে আন্দোলন বানচাল করা হতো। কারণ অতীতেও তাই হয়েছে। তাই বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে আমাকে কাজ করতে হয়। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঘটনায় দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীন বক্তব্যের প্রতিবাদে এ মানববন্ধন করা হয়।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ২৫ বছর ধরে রক্তক্ষরণ নিয়ে স্বজন হারিয়ে আন্দোলন শুরু করি। যেন আর কোন স্বজনকে সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের হারাতে না হয়। এ ২৫ বছর কি রকম কষ্ট, নির্যাতন আমাকে দেওয়া হয়েছে, তারপরও দমে থাকিনি। এ অবস্থা নিরসনের জন্য শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা উপলদ্ধি করতে পেরেছে একটা কিছু করা দরকার। নয়তো প্রতিদিনই সড়কে জীবন দিতে হবে। প্রতিদিন জীবন দেওয়ার চেয়ে প্রতিবাদ করে সাময়িক অসুবিধা হলেও দাবি আদায় করা ভালো। সেজন্য আজকে তারা রাস্তায় এসেছে। আমি তাদের সঙ্গে শুরু থেকেই সংহতি প্রকাশ করে এসেছি। তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে আমি সমর্থন করে এসেছি।
প্রসঙ্গত,নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে না থাকার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিচসা) আন্দোলনের নেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের সমালোচনা হচ্ছে। এই সমালোচনার জবাব দিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে, তাদের পাশে সরাসরি আমি না থাকার কারণে অনেকে ফেসবুকে বলেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন কই, তিনি কোথায় আছেন? তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, আমি যা করি, বিবেক বুদ্ধি বিবেচনা দিয়েই করি। পেছনের দিকে আমি তাকিয়ে দেখি। এদেশে কী হয়, কী হয়েছিল, কীভাবে অন্যান্য আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি সেই আন্দোলনগুলোর নাম বলতে চাই না। আমিও যদি এই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতাম তাহলে এই সব দোষ আমার গায়ে চাপিয়ে দেওয়া হতো। এই আন্দোলনটিকে বানচাল করা হতো। আজ তারাই (শিক্ষার্থীরা) তাদের নেতৃত্বে আন্দোলন করছে। এই সন্তানেরা আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ইলিয়াস কাঞ্চন যে ডাক দিয়েছে, ২৫ বছর ধরে যে আন্দোলন করছে, আমার সন্তানরা আমাকে ভুলে যায়নি। নিরাপদ সড়ক চাই দাবি নিয়েই তারা রাস্তায় নেমেছে। অন্য কিছু নিয়ে নয়।'
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল যারা সরকারে ও পরিবহন সেক্টরের নেতৃত্বে আছেন তাদের দায়িত্বহীন কথাবার্তা ও আজকে পরিবহন সেক্টর যে অমানবিক হয়েছে তার প্রতিবাদে আজকের এই মানববন্ধন। এর মাধ্যমে আমি সরকারকে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই এটি মানুষের প্রাণের দাবি। এদেশের মানুষ আর সড়কে মরতে চায় না। পঙ্গুত্ব বরণ করতে চায় না। আর সময় ক্ষেপণ করা উচিত নয়। যতই সময় যাবে ততই জীবন যাবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য জাতীয় বাজেটে চালকদের দক্ষতা বাড়ানো ও ইনস্টিটিউট তৈরির জন্য বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি।
সরকারকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, সন্তানেরা রাস্তায় নেমে একটা সুযোগ করে দিয়েছে। যে পরিবহন সেক্টরের ভয়ে আইন প্রয়োগ করতে বা নতুন আইন করতে পারেননি। সারাদেশের মানুষ এ দাবির পক্ষে। সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের পক্ষে দেশের মানুষ। কিছু লোক বিরোধিতা করলেও সারাদেশের মানুষ আপনাদের পক্ষে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, তারা যেন একটি গাড়ীও ভাংচুর না করে। তারা একটি গাড়ী ভাংচুর করলে সুযোগ সন্ধানীরা ১০/২০টা ভাংচুর করবে। সুযোগ সন্ধানীরা যেন আন্দোলন বানচাল করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেন। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, রাস্তায় যারা ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করেন তাদের নিজেদের লাইসেন্সগুলো ঠিক নাই। এজন্য অধিদফতর ও মন্ত্রণালয় থেকে যেন নির্দেশনা আসে। আইন অমান্য করে মন্ত্রীরা উল্টো দিকে চলছেন। আপনারা জাতির কাছে বলেন যে, আমরা আর করবো না। আমরা লজ্জিত, অপমানিত। সন্তানদের কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছি আমরা আর এটা করবো না, নিয়ম মেনে চলবো। বাবারা তোমরা ঘরে ফিরে যাও। এভাবে বলেন নিশ্চয়ই সন্তানরা ঘরে ফিরে যাবে।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সব অধিদপ্তর যদি তাদের কর্মকা-গুলো শুরু করে দেয় তাহলে আমার সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলবো তোমরা অবশ্যই ঘরে ফিরে যাবে, লেখাপড়া করবে। বাবা-মায়ের কাছে থাকবে। প্রয়োজনে আবারও যদি কোনো অসুবিধা হয়, তখন অবশ্যই আমরা তোমাদের সঙ্গে থেকে আবার রাজপথে নামবো।
মানববন্ধনে অংশ নেয় কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, সেভ দ্যা রোড, সন্ধীপ সমিতি ঢাকা, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি ও ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশসহ রাজধানী ও রাজধানীর বাইরের কলেজের ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নিয়েছেন অনেকেই সংহতি প্রকাশ করে।
ইলিয়াস কাঞ্চনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান ও নিরাপদ সড়ক চাই এর উপদেষ্টা আইয়ুবুর রহমান, মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম, বাস থেকে ফেলা দেওয়ার পর নিহত ছাত্র পায়েলের মামা সোহরাওয়ার্দি বিপ্লব, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতি লায়লা হাসান প্রমূখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ