ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যাত্রী সংকটে ১০টি হজ্ব ফ্লাইট বাতিল ॥ দায় নিচ্ছে না কেউ

মিয়া হোসেন : যাত্রী স্বল্পতার কারণে গতকাল শুক্রবারও তিনটি হজ্ব ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আজ শনিবার আরো একটি ফ্লাইট বাতিল হবে। সেই সাথে কয়েকটি ফ্লাইট ডিলে (বিলম্ব) করে রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১০টি হজ্ব ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান। এতে করে প্রায় ৭ হাজার হজ্বযাত্রী পরিবহণের ক্যাপাসিটি লস হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে আরও কিছু হজ্ব ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু এর দায়ভার কেউ নিচ্ছে না। বিমানের পক্ষ থেকে দায়ী করা হচ্ছে এজেন্সীদের। আর এজেন্সীদের পক্ষ থেকে বিমানকেই দোষারোপ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নির্দিষ্ট ফ্লাইটের বাইরে সৌদি কর্তৃপক্ষ আর কোনো স্লট দেবে না বাংলাদেশকে। এতে সব হজ্বযাত্রী পরিবহণ নিয়ে তৈরি হচ্ছে শঙ্কা। এজন্য বাংলাদেশ বিমানের পক্ষ থেকে টিকিট কিনতে এজেন্সিগুলোকে বার বার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
হজ্ব এজেন্সি অব বাংলাদেশ (হাব) বলছে, ফ্লাইট বাতিল হওয়ার জন্য বিমান দায়ী। আর এর সমাধান বিমানকেই করতে হবে। আর বিমান বলছে এজেন্সিগুলোকে বার বার বলার পরও টিকিট কনফার্ম না করায় এ অবস্থা হয়েছে। দায় নিতে হবে তাদেরই।
বাংলাদেশ বিমান ও হজ্বক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার যাত্রী স্বল্পতার কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তিনটি ফ্লাইট বিজি ৫০৬৩, বিজি১০৬৩ এবং বিজি৭০৬৩ বাতিল করা হয়েছে।
এদিন এ তিন ফ্লাইট বাদে বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ৫টি ফ্লাইট। একই অজুহাতে এর আগে আরও ৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
হজ্বযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে ধর্মমন্ত্রণালয়। রিপ্লেসমেন্টের জন্য শুক্রবারের মধ্যে আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে।
এ বিষয়ে হাব মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, আমরা বাংলাদেশ বিমানকে হজ্বযাত্রার আগেই হজ্ব ওয়াইজ সব তথ্য দিতে বলেছি। কিন্তু তারা এজেন্সিকে কোনো তথ্য দেয় না। এখন বিমান যাত্রীর অভাবে ফ্লাইট বাতিল করছে। এজন্য তারাই দায়ী, এর দায়ভার তাদের নিতে হবে এবং সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা বিমানের ব্যবস্থাপনা বরাবর একটি চিঠি দিয়েছিলাম। আমরা চেয়েছি সমন্বয় করে কাজ করতে। মদিনায় হজ্বযাত্রীদের রাত্রিযাপনের সঙ্গে মিলিয়ে টিকিটের কথা জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের তথ্য দেয়নি। তাদের কারণে যেহেতু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তাই বিমানকেই এর সমাধান করে সব যাত্রী পরিবহণ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিমান তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করেনি। তারা ৮ মে থেকে ২০ মের মধ্যে টিকিট দেয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা দিতে পারেনি। আর সর্বোচ্চ প্যাকেজ হওয়ার কথা ছিল ৪৫ দিনের কিন্তু বিমান ৫৫ দিনের প্যাকেজ করেছে। বিমান ফ্লাইট ভিত্তিক কোন তথ্য আমাদের দেয়নি। যার কারণে হাবও ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শাকিল মেরাজ বলেন, যাত্রী সংকটের কারণে দশটি হজ্ব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে করে প্রায় ৭ হাজার হজ্বযাত্রীর ক্যাপাসিটি লস হয়েছে। সৌদি আরব অতিরিক্ত কোন স্লট দেবে না। এ বিষয়টি উদ্বেগের বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাবের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, হাব যে সব অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। আমরা ৫২৮টি এজেন্সিকে প্রতিনিয়ত ইমেইল করে জানিয়ে দিচ্ছি। তাদের বার বার করে টিকিট নিশ্চিত করার জন্য বলেছি। তারা টিকিট নিশ্চিত করলে কোনো ফ্লাইট বাতিল করা লাগতো না। এটা বলতে পারি এজন্য এজেন্সিগুলো দায়ী। আর হাবের সাথে ধর্ম মন্ত্রণালয় ফ্লাইটের বিষয়গুলো সমন্বয় করছে। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ীই প্যাকেজের সময় নির্ধারণ করে ফ্লাইট শিডিউল দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ