ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মানব রচিত শ্রম আইন দ্বারা শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় -লস্কর মো. তসলিম

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় গার্মেন্ট বিভাগের উদ্যোগে শ্রম আইন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিম

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষাই হওয়া উচিৎ শ্রম আইনের মূল উদ্দেশ্য। উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে জাতীয় অর্থনৈতিক অবকাঠামো মজবুত করার মাধ্যমে উন্নয়ন সাধন করতে হলে শ্রমিকের জন্য ইসনাফপূর্ণ শ্রম আইন প্রয়োজন। কিন্তু মানব রচিত শ্রম আইন দ্বারা শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় গার্মেন্টস বিভাগের উদ্যোগে শ্রম আইন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের সভাপতিত্ব ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বাছিরের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শ্রমিকনেতা নুরুল আমিন, আব্দুল মুমিন, আলমগীর হোসাইন, হাসানুল বান্না, নাসির আহমেদ, মুজাহিদুল ইসলাম, আক্তার হোসেন, নূরুল আলম, হোসাইন হাবিব, আবু হানিফ, আশরাফুল আলম ইকবালসহ বিভিন্ন শ্রমিক অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ।
লস্কর তসলিম আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান আইএলও কনভেনশন এবং জাতীয় শ্রমনীতি অনুসরণ করে শোষণ-বৈষম্য কমিয়ে রাষ্ট্রের অধিকার বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা মৌলিক নীতি হলেও তা বাস্তবায়ন না করে বরং শ্রম আইন ও বিধি সংশোধনের নামে শ্রমিকদেরকে অতীতের প্রাপ্ত সুযোগ-সবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে ইপিজেড শ্রমিকদের জন্য ভিন্ন আইন করে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার বঞ্চিত করে এক দেশে দুইনীতি করা হয়েছে। ২০০৬ সালে নতুন করে শ্রম আইন করে শ্রমিকদের স্বার্থকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে বারবার শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রম আইন সংশোধনের দাবি তোলা হয। শ্রমিকদের দাবি হলেও শ্রমিকদের শ্রমিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণয়ন না করে মালিকদের স্বার্থে মালিকদের দেয়া শর্তানুসারে অধিকাংশ ধারা সংশোধন করা হয়। যা প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকদের নির্যাতন করতে সহায়তা করে। আর এটা দ্বারাই প্রমাণিত হয় মানব রচিত শ্রম আইন দ্বারা শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।তাই মালিক-শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা একমাত্র  ইসলামী শ্রমনীতি দ্বারাই সম্ভব। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ