ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেপরোয়া গাড়ি চালকদের মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত -এরশাদ

স্টাফ রিপোর্টার : বাসচাপায় নিহত দিয়া খানম মিমের পরিবারকে সান্ত¡না জানাতে গিয়ে সড়ক পরিবহন আইন আরও কঠোর করে দোষী চালকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে মত জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি থাকতে আমি মৃত্যুদণ্ডের আইন করেছিলাম। কিন্তু আন্দোলনের কারণে আইনটি পরে বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়েছে। কিন্তু যারা সড়কে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষ মারবে, তাদের মৃত্যুদণ্ডই হওয়া উচিত। নিরাপদ সড়কের দাবিতে থাকা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বাঁচার দাবি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি বাঁচার দাবি।
গতকাল শুক্রবার (৩ আগস্ট) সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দিয়া খানম মিমের বাসায় এসে তার পরিবারকে সান্তনা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন। নিজের সন্তানের প্রসঙ্গ টেনে এরশাদ বলেন, ‘আমার ছেলে গাড়িতে করে স্কুলে যায়। যদি সে বাসে করে স্কুলে যেত তাহলে আমি সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতাম যে সে ফিরে আসবে কি না? আর এমন কোনো খবর পেলে আমি আত্মহত্যা করতাম। আমি মৃত ছেলের মুখ দেখতে চাই না। এর আগে প্রায় ১০ মিনিটের মতো নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এরশাদ। এ সময় তাকে দিয়ার পরিবারের সদস্যদের মাথায় হাত দিয়ে সান্ত¦না দিতেও দেখা গেছে। আর সার্বিক বিষয়েই কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর।
এরশাদ বলেন, আমরা এ আন্দোলনকে সমর্থন করি এবং সরকারেরও সবগুলো দাবি মেনে নেয়া উচিত। এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকার চাইলে আরো বেশি টাকা দিতে পারত। ২০ লাখ টাকা কোনো টাকা না। প্রধানমন্ত্রী এসে দেখে যেতে পারতেন এরা কতটা কষ্টে একটা ঘরে কতগুলো মানুষ বসবাস করে। আপনারা কোনো সহায়তা দেবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেখানে ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন সেখানে আমরা আর কতোইবা দিবো। আমাদের এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা এই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেব। নৌ-মন্ত্রীর আচরণে খুব কষ্ট পেয়েছেন উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, ‘এখানে শিক্ষার্থীরা মারা গেছে। আর তা দেখে উনি হাসছেন। ভারতে দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা যাওয়ার বিষয়টিকে উনি উদাহরণ দিচ্ছেন। কিন্তু সেটা তো দুর্ঘটনা। আর এখানে যা হয়েছে তা তো হত্যাকা-। এর আগে, সকালে দিয়াদের বাসায় আসেন ক্যান্টম্যান্ট বোর্ডের সিইও ব্রিগেডিয়ার মো. জালাল গণি খান ও শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ নূর নাহার ইয়াসমিন। তারা কলেজের পক্ষে দিয়ার পরিবারের হাতে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ