ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ৩১২ জন কর্মচারিকে দুদকে তলব

খুলনা অফিস : মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ৩১২ জন কর্মচারীকে দুদকে তলব করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন্দর কর্মচারিদের মধ্যে অজানা আতংক বিরাজ করছে। এ অবস্থায় গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার বন্দরের কর্মচারি নিয়োগের আরেক দফার নির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অনিবার্য কারণে ওই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হলেও পরবর্তীতে ফের সময় নির্ধারণ করে পরীক্ষার্থীদের ডাকা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মংলা বন্দর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নিয়োগ প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে জাল সার্টিফিকেট, কোঠা ও বয়সসীমা জালিয়াতিসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনিয়ম করে বন্দরের বিভিন্ন কর্মস্থলে কয়েকশ’ লোকজনকে চাকুরি পাইয়ে দেন বন্দরের কর্মচারীদের সংগঠন (সিবিএ)। বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কর্মস্থলে নিয়োগের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে সিবিএ হস্তক্ষেপ করায় এসব অনিয়ম হয়ে আসছে বলে জানান চাকুরি প্রত্যাশীদের অবিভাবকরা। জনবল সংকট মোকাবেলায় ২০১৩ ও ১৪ সালে জলযানসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কর্মচারি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ । আর ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা তদ্বির ও অর্থ বাণিজ্যে নেমে পড়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ও সিবিএ নেতারা। এতে বেশিরভাগ পদেই অভিজ্ঞদের টপকে অযোগ্যরা নিয়োগ পেয়ে যায়। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৩১২ জনকে কর্মচারীর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে বন্দরের নিজস্ব জলযান এম এল গাংচিল, এ মটি শিবসা, এ টি সারথী-২, বি এল ভি মালঞ্চ, এম এল ঝিনুক, এম এল উষা, এম টি সারথী-১, এম ভি রুহী, এম এল রাজহংস, এম ভি তৃষা, এফ এফ টি অগ্নি প্রহরী, এম এল ময়ীরপঙ্খী, এম এল বলাকা, এম এল পান্না, এম এল, হীরা, এম এল মতি, এম এল অনুসন্ধানী, এম এল উর্মি, ও এম এল মুক্তার ‘ভান্ডারী’ (রাধুনী) ছাড়াও যান্ত্রিক ও তড়িৎ বিভাগের ‘ক্রেন হেলপার’ পদের নব্বই শতাংশ কর্মচারীই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ৫ বছর পর তদন্তে নেমেছে দুদক। ২০১৩ ও ১৪ সালে নিয়োগ পাওয়া ৩১২ জন কর্মচারীর অধিকাংশের বিরুদ্ধেই অযোগ্যতার অভিযোগ উঠায় চলতি বছরের জুলাই মাসে দু’দফায় ২৮ জনকে তলব করে। আর গত ২ আগস্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্দরের আরও ৩২ জন কর্মচারীকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এ ব্যাপারে খুলনার দুর্নীতি দমন কমিশনের ডি ডি নীল কমল পাল বলেন, জাল সার্টিফিকেট, কোঠা ও বয়সসীমা জালিয়াতি করে যারা মংলা বন্দরে চাকুরীতে নিয়োগ নিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে ডাকা হচ্ছে। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের এ বিষয়ে তদন্ত করছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার (মামলা) দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বন্দরের কর্মচারি নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় শেষ দফায় কর্মচারি নিয়োগ পরীক্ষা গতকাল শুক্রবার নির্ধারিত থাকলেও তা বাতিল করা হয়। এ পরীক্ষায় আরও প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের কথা ছিল। তবে, পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের একদিন আগেই ফোন করেই অবগত করা হয়।
এ ব্যাপারে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন অনুপ কুমার জানান, বিগত দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে দুদক কর্মচারিদের অনেককে তলব করেছে বলে শুনেছেন। আর এর বেশি কিছু তিনি কিছু জানেন না। আর গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার কর্মচারি নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার বিষয় তিনি আরও বলেন, অনিবার্য কারণে এ পরীক্ষা স্থগিত হলেও পরবর্তীতে আবারও সময় নির্ধারণ করে পরীক্ষার্থীদের ডাকা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ