ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সোনারগাঁয়ের মহিলা কবিরাজের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মহিলা কবিরাজের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছে এলাকাবাসী। মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস গ্রামের সোনিয়া কবিরাজের নামে এ প্রতারণা অভিযোগ তুলে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরসহ ফারুকুল ইসলাম এ অভিযোগ দায়ের করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার বাড়ি মজলিস গ্রামের ওহাব মিয়ার স্ত্রী কবিরাজ সোনিয়া আক্তার রুবিনা আংটি পড়ার মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকেন। আমার পরিবার তার কাছে এ আংটির জন্য যান। আমার সমস্যা তিনি সমাধান করতে পারেননি। তিনি প্রতারণা করেছেন এমন বুঝতে পেরে আমি সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে প্রতারণার সত্যতা পান। যা বিভিন্ন  পত্র পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে কবিরাজ ক্ষিপ্ত হয়ে তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমার পরিবারের লোকজনকে হুমকি দিয়ে আসছে। আমাকে চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমি আতংকিত হয়ে সোনারগাঁ থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও মহিলা কবিরাজের বিরুদ্ধে এলাকায় গণস্বাক্ষর প্রদান করে। বাড়ি মজলিস গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, সোনিয়া কবিরাজ একজন ভূয়া। তার দেওয়া আংটিতে কোন প্রকার সমস্যার সমাধান হয় না। তিনি মানুষের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা করছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাড়ি চিনিষ গ্রামের সানোয়ার হোসেন ও আলেয়া দম্পত্তি অভিযোগ করে জানান, সোনিয়া কবিরাজকে আমরা সমস্যা সমাধানের জন্য টাকা দিয়েছি। যে সমস্যার জন্য টাকা দিয়েছি এ সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোনিয়া কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাকে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আরো জানান, সমস্যার সমাধান মূহুর্তের মধ্যেই হয় না। আস্তে আস্তে সমস্যার সমাধান হবে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম পিপিএম জানান, সোনিয়া আক্তার রুবিনা নামের এক মহিলার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে দায়ের করা অভিযোগের কপি এখনো পাইনি। কপি পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিথ্যা মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে একটি পরিবার : সোনারগাঁয়ে প্রতিপক্ষের মিথ্যা মামলায় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে একটি পরিবার। উপজেলার ৯নং ওয়ার্ড জয়রামপুর গ্রামের বাবর আলীর ছেলে ইমান আলী ও তার ভাই মোতালেবের স্ত্রী আলেয়ার মধ্যে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে আলেয়া বেগম তার প্রতিপক্ষকে গত এক সপ্তাহ ধরে মামলা ও পুলিশ দিয়ে হয়রানী করছে বলে ইমান আলী অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় ইমান আলী তার পরিবার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ইমান আলী জানায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ আমি থানায় মামলা করেও বাড়িতে থাকতে পারি না। আদালতে পিটিশন মামলা করে বাড়ির নির্মান কাজ বন্ধ করায় আমাকে পুলিশ দিয়ে হয়নানী করাচ্ছে আলেয়া। আলেয়ার এক আত্মীয় সরকারী কর্মচারী বিধায় আমাকে পুলিশ দিয়ে হয়রানীা করাচ্ছে।
থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আদালতের নিষেধাজ্ঞাও মানছে না প্রতিপক্ষ। বাড়ির সীমানা প্রাচীরের বিরোধ না মিটিয়ে বাড়ির উপর বহুতল ভবন নির্মানের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আদালতে পিটিশন জারি করা হয়েছে। আইন আদালত মানছেনা।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার নিকটবর্তী গ্রাম জয়রামপুর গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে ইমান আলী ও তার ভাই মোতালেবের স্ত্রী আলেকার মধ্যে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আলেকা জোড়পূর্বক সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করে ইমান আলীর বাড়িতে বিল্ডিং বানাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের কাছে গত ২৪মে অভিযোগ করে কোন প্রকার প্রতিকার পায়নি বাদী পক্ষ। বাড়ির মালিক বাদী ইমান আলী জানান, গত ১১জুন পুলিশের সামনেই আলেকা ও তার দুই মেয়ে সনিয়া, রুবিনা আমাকে কিল ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশ সীমানা নির্ধারনের আগে বাড়ি নির্মানের কাজ বন্ধ রাখার কথা বলে গেলেও আলেকা স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের কথা অমান্য করে অবধৈভাবে বাড়ির সীমানার উপর পিলার দিয়ে বিল্ডিং বানাচ্ছে।
ইমান আলী আরো জানায়, গত ১৩জুলাই আবার আলেকা অবৈধ সীমানা প্রাচীরের কাজ করলে বাধা দিতে গেলে আলেকা আমাকে ইট দিয়ে আঘাত করে ফেলে দেয়। আশপাশের লোক জন উদ্ধার করে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। উল্টো আলেকা পুলিশ দিয়ে হয়রানী করছে বলে ইমান আলী অভিযোগ করেন।
পরে সোনারগাঁ থানায় ইমান আলী কোন বিচার না পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা হাকিম মোঃ আসাদুজ্জামানের আদালতে একটি পিটিশন জারি করে। যার নং ৩৫৯/২০০১৮।
এ ব্যাপারে আলেয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি তার নিজের বাড়িতেই বিল্ডিং নির্মান করছেন। ইমান আলী তার বিল্ডিং তৈরি দেখে প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ