ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিরাপদ সড়ক চাই

আজহার মাহমুদ : নিরাপদ সড়কের জন্য আজ বাংলার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। গত রোববার রাজধানীর শহীদ বীরবিক্রম রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী সড়কে বাসের চাপায় নিহত হওয়ার পরে এই নিরাপদ সড়ক নিয়ে আমাদের ভাবনা বেড়েছে। সড়কে নেমেছে বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থী। এ বিষয় নিয়ে নানা ঘটনাও হয়ে গিয়েছে আমাদের সামনে। নৌমন্ত্রীর বেপরোয়া হাসি এবং অযৌক্তিক কথা শুনে যেমন কষ্ট পেলাম, তেমনি সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক মনে করার মতো ভালো কিছুও দেখলাম। এছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে সেটাও একটি দৃষ্টান্ত আমাদের দেশের মানুষের কাছে। রাজীবের মৃত্যুর কিছু দিন না যেতেই আবারো সেই সড়কের মৃত্যুপুরি যেনো সড়কে স্বরূপে ফিরেছে। এই মৃত্যু কি আসলেই থামবে? প্রশ্নটার উত্তর দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমার নাই। আজ মাঠে নেমেছে বিআরটিএ। পরিবহণের ফিটনেস, লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কিছু ঠিক আছে কিনা যাচাই করার জন্য। কিন্তু এটা আমার কাছে একটি হাস্যকর নাটকের মতো মনে হয়। মানুষ প্রাণ হারালে তারা মনে করে এই পন্থা অবলম্বন করলে মানুষ শান্ত হবে। কিন্তু তারা বুঝেনা বাংলার মানুষ এই নাটকগুলো দেখতে দেখতে এখন ক্লান্ত। সড়কের এই মৃত্যু অনবরত চলবেই। এটা যেনো একটা সামান্য বিষয়। এটা অপরাধও নয়। এটা নিয়ে আন্দোলন করলে পরিবহন মালিকরা স্ট্রাইক দিয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেয়। তারপর সাধারণ মানুষকে দেয় সীমাহীন ভোগান্তি। তাদের কাছে যেনো সাধারণ মানুষ জিম্মি। মানুষকে তারা মানুষ মনেই করে না। সড়ক দুর্ঘটনা তাদের কাছে দুর্ঘটনা। এটা তাদের জন্য অপরাধ নয়। যদি অপরাধ হতো তবে কতবার একই অপরাধ করে পার পেয়ে যায় এসব খুনীরা। এ সকল ঘাতকদের ভেতর একটু হলেও ভয় আসতো যদি তাদের বিচারের আওতায় আনা হতো। তাদের যদি ফসিতে ঝুলিয়ে শাস্তি দিতো। মাননীয় প্রধ্নামন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন সেটা বাস্তবায়ন কখন হবে তাও আমার জানা নেই। আমরা মুখের বাণী শুনতে শুনতে আজ বড়ই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। দয়া করে কিছু বাণী বাস্তবায়ন করে সাধারণ মানুষকে শান্তি দান করুন। গত রোববার দুই শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। এটাও আমাদের দেখতে হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় এমন নিদর্শন দেখতে পাওয়া যাবে তা অকল্পনীয়। আজ শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা দেখে দেশ ও জাতি বিব্রত। মনে হয় মিনিটের জন্য থমকে গেলো দেশটি, পাল্টে গেলো মানবতা, হারিয়ে গেছে মনুষ্যত্ব। এসবকিছু নিয়ে কার কাছে যাবো? কাকে বিচার দিবো? কে এই অরজকতা আর অন্যায়কে রুখবে? যখন কোনো অপরাধ করাকে অন্যায় মনে হবে না তখন সৃষ্টি হয় অরাজকতা। আর এই অরাজকতার জন্ম দিয়েছে সড়ক পরিবহনের চালকরা। যে সকল চালকরাই আইনের সম্মুখীন হয়েছে সকলেই জবানবনন্দী দিয়েছে তাদের অদক্ষতার কথা। এরপরেও কেনো অদক্ষ চালকদের হাতে গাড়ি তুলে দেওয়া হয়? এর জবাব কে দেবে? এতো কিছুর পরেও যদি এই অরাজকতা না থামে, সড়কে মৃত্যুর মিছিল যদি বন্ধ না হয়, তবে একসাথে দেশের সকল মানুষকে মেরে ফেললেই হয়। এভাবে আর আমার ভাই বোনদের প্রাণ হারানো সহ্য হয়না আমাদের। এই কষ্টের ভার আমরা আর নিতে পারছিনা।
আমরা তো মানুষ, পশু তো আর না। আমাদের হৃদয় বলতে কিছুতো রয়েছে। সেই হৃদয়ে মানুষের জন্য মায়া, মমতা, ভালোবাসা একটু হলেওতো আছে। এভাবে নির্লজ্জের মতো চেয়ে চেয়ে দেখতে আর কত পারা যায়। হয় দেশের মানুষকে বাঁচান আর নয়তো সবাইকে একসাথে মেরে ফেলুন। আমরা আর সমবেদনা চাই না। আমরা বিচার চাই। চাই শাস্তি। বঙ্গবন্ধুর এই সোনার বাংলায় মানুষ হত্যার বিচার হবে না এটা মানা যায় না। হ্যাঁ। এটা দুর্ঘটনা নয় এটা হত্যা। এ সকল হত্যা বন্ধ করার জন্য যে সকল পদক্ষেপ নেওয়ার তা সল্প সময়ের মধ্যে নিয়ে আর যেনো কোনো ভাই বোনের লাশ দেখতে না হয় সেই ব্যবস্থা করুন। আর যারা এই হত্যাকা- ঘটায় তাদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক। এই সোনার বাংলায় যেনো আর কোনো প্রাণ সড়কের মধ্যে পড়ে না থকে সেটাই আমার কাম্য।
* শিক্ষার্থী, বিবিএ (অনার্স), হিসাববিজ্ঞান বিভাগ (প্রথম বর্ষ), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ওমরগনী এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ