ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নরসিংদীতে বিশ্ববিদ্যালয় চাই

ভৌগোলিকভাবে নরসিংদী বাংলাদেশের মাঝখানে অবস্থিত যার উত্তরে কিশোরগঞ্জ, পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং পশ্চিমে গাজীপুর জেলা। এই জেলাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ কোটি লোকের বসবাস। ৫টি জেলা থেকে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছাত্রছাত্রী এইচএসসি পাস করলেও উচ্চ শিক্ষার পরশ থেকে বঞ্চিত হয়। অনেকেই যার মধ্যে বেশির ভাগই ছাত্রী, এতিম ও প্রতিবন্ধী। যাদের দূরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয় না। নরসিংদী জেলার সাথে অন্যান্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সুবিধাজনক। এই জেলার মধ্যে প্রবাহিত হওয়া নদ-নদীগুলো হলো মেঘনা, শীতলক্ষ্ম্যা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, হাঁড়িধোয়া ও পাহাড়িকা।
এই নদ-নদীগুলো দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকারম ও মালামাল পরিবহন সহজযোগ্য। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট দেশের দুই ব্যস্ততম রেলরুটও নরসিংদী দিয়ে নির্মিত হয়েছে। সড়কপথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নরসিংদীর উপর দিয়ে গেছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের সাথেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ঢাকার পার্শ্ববর্তী নরসিংদী জেলার সাথে অন্যান্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত।
প্রাচীনকাল থেকে নরসিংদী অর্থনীতিতে সমৃদ্ধশালী। দেশীয় ফলের শতকরা ৩০ ভাগ যোগান দেয় নরসিংদী জেলা, যার মধ্যে কলা, লটকন, কলম্বো লেবু, কাঁঠাল, পেয়ারা উল্লেখযোগ্য। নরসিংদীর কুটির শিল্পের অবদান বাংলাদেশে অনস্বীকার্য। যেখানে রয়েছে ৪ শতাধিক শিল্পকারখানা। বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের প্রাণকেন্দ্র এই জেলা। এদেশের সবচেয়ে বড় পাইকারী কাপড়ের হাট এই জেলার মাধবদীতে অবস্থিত বলেই তা প্রাচ্যের ম্যানচেষ্টার বলে খ্যাত। 
এই জেলার অধিবাসীরা প্রতিবছর প্রায় ৩-৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিলেও নেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়।  অতএব, প্রধানমন্ত্রীর নিকট সবিনয় নিবেদন এই যে, তিনি যেন এই জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে নরসিংদী ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।
রমজান মিয়া, গ্রাম-সিন্ধুর উড়া, ইউনিয়ন-নাটাই, উপজেলা-সদর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ