ঢাকা, শনিবার 4 August 2018, ২০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরের রাউতারা স্লুইচ গেট এক যুগের বেশি সময় ধরে অকেজো

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : বড়াল নদীর তীরে রাউতারা স্লুইচ গেট

এম,এ,জাফর লিটন,শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : শাহজাদপুর উপজেলার বড়াল নদীর তীরে অবস্থিত রাউতারা স্লুই গেট এখন এ জনপদের মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৪ সালে নির্মিত এই স্লুইচগেটটি কার্যত কোন উপকারেই আসছেনা কৃষকদের জন্য। দেশের বৃহত্তম গো-চারন ভূমি ও চলনবিল অঞ্চলের ইরি-বোরো ধানক্ষেত যাতে আগাম বন্যার পানিতে ডুবে না যায় সে লক্ষে পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য এই স্লুইচগেট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বড়াল নদীর রাউতারা পয়েন্ট থেকে তাড়াশের নিমাইচড়া পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই বাঁধ আর স্লইচ গেট কোনটাই কাজে আসেনা এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য। নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত শাহজাদপুর ও চলনবিল এলাকার লাখ লাখ একর জমির ফসল ও ধান আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য এই স্লুইচগেট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু স্লুইচ গেটটির যন্ত্রাংশ নষ্ট এবং পরিত্যক্ত এবং চুরি হয়ে যাওয়ায় কার্যত কোন উপকারেই আসছেনা এটি। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে স্লুইচ গেটটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। গত কয়েক বছরে কয়েকদফা বড়ালের তীরে রাউতারা নিমাইচড়া বাঁধটি ভেঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষকদের ধান ও ফসল প্লাবিত হয়েছিলো। কারণ স্লুইচ গেট এলাকার বাঁধগুলো নীচু এবং ক্ষনস্থায়ীভাবে তৈরী তরা হয়। এ ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ থাকে প্রতি বছর। বাঁধটি কয়েক ফুট উচ্চ করলেও বন্যার আগাম পানিতেই ডুবে যায়। বালু দিয়ে তৈরী এই বাঁধটি এমাসও স্থায়ী হয়না বিধায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা জানান,রাউতারা-নিমাইচড়া বাঁধটি সিসি ব্লক দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী করা হলে শাহজাদপুরসহ চলনবিল অঞ্চলে চাষাবাদ বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম গোÑচারন ভূমি বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে। দুগ্ধ শিল্পের প্রধান চালিকা শক্তি চারনভূমি প্রতি বছর বন্যার পানি প্রবেশের সাথে সাথে প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে গো-খাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা যায়।

তাই রাউতারা স্লুইচ গেটটি সংস্কারের পাশপাশি একটি শক্তিশালী বন্যা নিয়ন্ত্রিত বাঁধ নির্মাণ করা এখন এ অঞ্চলের কৃষকদের সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে। রাউতারা স্লুইচ গেট ছাড়াও শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে পরিত্যক্ত অর্ধশত স্লুইচগেট যা সবই এখন অকেজো। স্লুইচ গেট গুলির যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। তাই বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছেনা। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এসব স্লুইচ গেট ভেঙ্গে ব্রীজ নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে জানান এলাকাবাসী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ