ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিরিয়া পুনর্গঠনে মার্কিন সহায়তা চাইলো রাশিয়া

৪ আগস্ট, মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স : কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা একটি চ্যানেল ব্যবহার করে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া পুনর্গঠন ও বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের ফেরাতে মার্কিন জেনারেলের সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ করেছে রাশিয়া। মার্কিন সরকারের এই সংক্রান্ত নথি হাতে পাওয়ার দাবি করে এই খবর দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা। ১৯ জুলাই রুশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ভ্যালেরি গেরাসিমভ এই প্রস্তাব মার্কিন মেরিন জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ডকে পাঠান বলে ওই নথিতে বলা হয়েছে। রাশিয়ার এই পরিকল্পনায় ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া শীতল বলে দাবি করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটর। ওই নথির বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, সাত বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারে-শুধু এমন নীতিতে সমর্থন দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনও থাকতে পারে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে কিভাবে রাশিয়া সহায়তা দিয়ে এসেছে তা ওই নথিতে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। এখন তার নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্গঠনে ওয়াশিংটন ও অন্যদের সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছে তারা। তাদের এই ধরনের পদক্ষেপ আসাদের ক্ষমতাকেই সংহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই নথিতে বলা হয়েছে, ‘প্রস্তাবে বলা হয়েছে সিরিয়া পুনর্গঠনের মাধ্যমে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে শাসকদের যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও তহবিলের অভাব রয়েছে।’ ওই নথিতে সিরিয়ার সরকারের নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

২০১১ সালে গ্রহণ করা এক মার্কিন নীতিতে বলা হয়েছিল সিরিয়ার আসাদকে অবশ্যই ক্ষমতা থেকে সরতে হবে। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্র পুনর্গঠনে সহায়তার আভাস দিয়ে বলছে, তারা এমন একটি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে চায় যাতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সিরিয়ার নির্বাচন ও সেখানে একটি রাজনৈতিক পালাবদল দেখতে চায়। তবে রুশ যোগাযোগের বিষয়ে রয়টার্সের কাছে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে ডানফোর্ডের কার্যালয়।

ধারনা করা হয়, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দেশে ছেড়েছে প্রায় ৫৬ লাখ মানুষ আর বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে আরও ৬৬ লাখ মানুষ। রয়টার্সের হাতে পাওয়া মার্কিন নথিতের রুশ পরিকল্পনার বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র শুধু তখনই শরণার্থী প্রত্যাবাসনে সমর্থন দেবে যখন তারা নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানের সঙ্গে ফিরতে পারবে।’ জাতিসংঘের হিসাবে সিরিয়া পুনর্গঠনে ব্যয় হবে অন্তত ২৫ হাজার কোটি টাকা। কোনও কোনও মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাস পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর ওপর সিরিয়ার নির্ভরশীলতা ও সিরিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির সমর্থিত বাহিনীর উপস্থিতির কারণে ওয়াশিংটন দেশটির যুদ্ধের পরিসমাপ্তির জন্য জোর খাটতে পারছে। তবে চলতি বছরের শুরুতেও ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সিরিয়ায় মার্কিন দূত হিসেবে কাজ করে আসা রবার্ট ফোর্ড বলেছেন, সিরিয়ায় আমেরিকার অবস্থান ‘কৌশলগতভাবে নির্বোধ আর কার্যকারিতায় বিপদজনক।’ সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, বিদেশি কূটনীতি বিষয়ক কোনও কোনও আমলা মনে করেন ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে সেখানে সেনা উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা দেবে। ফোর্ড গত এপ্রিলে মিডলইস্ট মনিটর করে বলেছিলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে ‘এটা খুবই ভাববাদী বিশ্লেষণ।’

গত ১৬ জুলাই হেলসিঙ্কিতে ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আলাপচারিতায়ও সিরিয়া ও শরণার্থী প্রসঙ্গ উঠে আসে। তবে রয়টার্সের হাতে পাওয়া মার্কিন নথি জোরালোভাবে বলেছে, রাশিয়ার এই প্রস্তাব কোনওভাবেই ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের ফলাফল নয়। গত মাসে ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়া প্রসঙ্গ উঠলে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইসরায়েলকে সহায়তা করছেন। আমরা দুজনেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছি আর তারা সিরিয়ার প্রতি সম্মান ও ইসরায়েলের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে যা করা উচিত তা করতে সম্মত হয়েছেন। আর তার প্রতি সম্মান দেখাতে আমাদের ইসরায়েলকে সহায়তা দিতে কাজ করতে হবে আর ইসরায়েলকেও আমাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। সুতরাং দুই দেশই যৌথভাবে কাজ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ