ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত অবনতি হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার প্রতিনিয়ত অবনতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল শনিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বর্তমান অবৈধ সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করার পর তাকে সুচিকিৎসা না দেওয়ায় প্রতিনিয়ত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। শুক্রবার তার সঙ্গে স্বজনরা দেখা করেছেন। তারা বলেছেন, ম্যাডাম খুবই অসুস্থ। তার অবস্থার অবনতি ঘটছে। রিজভী বলেন, সরকারের নিষ্ঠুর নির্যাতনের কারণে দীর্ঘদিন থেকে তার ঠাণ্ডা-জ্বর সারছেই না। নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হলেও তার ইচ্ছানুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। তাকে কষ্ট দিয়ে তিলে তিলে শারীরিক অবস্থা আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। রিজভী বলেন, গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো শেখ হাসিনা নিষ্ঠুর রসিকতা করেছেন। নিজের সন্তুষ্টি অনুযায়ী চিকিৎসা পাওয়া যেকোনও বন্দীর অধিকার। কিন্তু ভোটারবিহীন সরকার খালেদা জিয়ার প্রতি যে আচরণ করছেন তা অমানবিকতারই বহিঃপ্রকাশ। আমি দলের পক্ষ থেকে আবারও তাকে পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি। অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেজন্য রাজধানীর মোড়ে মোড়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনকে মনিটরিংয়ের নামে দাঁড় করিয়ে রাখা হবে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। যদি আওয়ামী লীগ এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে, তাহলে জনগণ ও অভিভাবকরা তাদের ক্ষমা করবে না। এর পরিণাম শুভ হবে না। তবে ইতোমধ্যে খবর বেরিয়েছে যে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে। এতে অনেকেই হতাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
রিজভী বলেন, সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে সড়কে নিহত হচ্ছে ২০ জন। গত সাড়ে তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে ২৫ হাজার মানুষ। আহত হয়েছেন ৬২ হাজার মানুষ। সড়কে দীর্ঘ মৃত্যুর-মিছিলের জন্য দায়ী সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও সরকারের অনাচারমূলক নীতি। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার নিরাপদের সড়কের জন্য কোন নীতিমালা  তৈরি করতে পারেননি। নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের ঘোষণা, সড়ক দুর্ঘটনা রোধের জন্য বিভিন্ন সংগঠন যখন আন্দোলন করছিলেন তিনি তখন আন্দোলনকারীদের উপর লেলিয়ে দিয়েছিলেন তার পোষা শ্রমিকদের। তখন তিনি বলেছিলেন রাস্তায় গরু ছাগল চিনতে পারলেই তাকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। সরকারও তার দাবি মেনে নিয়ে শাহজাহান খানের বাহিনীকে উৎসাহ দিয়েছিল। তাই গরু ছাগল বাঁচাতে গিয়ে আজ শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষদের বাসের চাকার নিচে ঠেলে দিয়েছে শাহজাহান খানরা, থামেনি সড়কে মৃত্যুর মিছিল। শুক্রবারও কিভাবে মগবাজারে বাস পিষে মারল এক যুবককে, টাঙ্গাইলে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীকে, ধামরাইয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হলো আরও ৪ জন, এছাড়াও কুমিল্লায় আরেক ছাত্রীসহ গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলো আরও ১০ জন।
তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। ধানমন্ডিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। সাংবাদিকরা হামলার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রিয়.কমের অফিসে। তাদের অফিসে ব্যাপক ভাংচুরও করেছে ছাত্রলীগ। এ সময় সাংবাদিকদের উপরও হামলা করা হয়। আমি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করছি। তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেজন্য রাজধানীর মোড়ে মোড়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনকে মনিটরিংয়ের নামে দাঁড় করিয়ে রাখা হবে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
মন্ত্রীদের নির্দেশে দেশব্যাপী গণপরিবহণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, কষ্ট দেয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই গণপরিবহণ বন্ধ করেনি। মূলত পরিবহণ সেক্টরে  নৈরাজ্যকারীদের হুকুমেই পরিবহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আজকের আন্দোলনে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে অবস্থান করছে। সরকার সুদীর্ঘ বাহু বিস্তৃত করে শিশু-কিশোরদের আন্দোলনকে দমানোর এক মহাপ্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছে। তারপরও ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন বেগবান। অত্যাচারী খড়গকৃপানকে ধুলোয় লুটিয়ে তারা বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে। শিশু-কিশোরদের এই অনবদ্য ভূমিকা ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীদের এই অভিনব প্রতিবাদ যেন অত্যাচারিত জনগণের অন্তঃরুদ্ধ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষার্থীদের চলমান ন্যায্য আন্দোলনকে জনদৃষ্টি থেকে ভিন্ন দিকে ফেরাতে শিক্ষার্থীদের ছদ্মাবরণে ছাত্রলীগ-যুবলীগ গাড়ি ভাংচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ সবই করছে ছাত্রলীগ। চট্টগ্রাম মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফাতেমা বাদশাকে এবং ঢাকার নবাবগঞ্জে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পবন মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক পল্লব হোসেনকে গ্রেফতার করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একইসাথে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ