ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর শক্তি প্রয়োগের পরিণতি শুভ হবে না -ব্যারিস্টার মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারের শক্তি প্রয়োগের পরিণতি শুভ হবে না।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একদিকে আপনারা বলছেন শিক্ষার্থীদের দাবি যুক্তিযুক্ত, তাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে। অন্যদিকে সরকারের মন্ত্রীর অধীনে যে সংগঠন নিয়ন্ত্রিত সেই সংগঠন ধর্মঘট ডেকেছে কিশোর-কিশোরীদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর জন্যে। এর চাইতে হীন ষড়যন্ত্র আর কী হতে পারে ? আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে দমন করার জন্য যদি আপনারা শক্তি প্রয়োগ করেন, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ রুখে দাঁড়াবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মামুন হাসান, ছাত্রদলের ইসহাক সরকার ও খন্দকার এনামুল হকের মুক্তির দাবিতে সম্মিলিত ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়।
প্রসঙ্গত, ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর গত সাতদিন ধরে রাস্তায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর বাইরেও। তারা রাস্তায় যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা ছাড়াও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠারও নজির রেখেছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দুইদিন ধরে বাস চালানো বন্ধ রেখেছেন মালিক-শ্রমিকরা।
মওদুদ আহমদ বলেন, শিশু-কিশোরদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করুন। দমননীতি দিয়ে এই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থিমিত করা যাবে না, তাদের ঠা-া করা যাবে না। আমরা বলে দিতে চাই, পরিবহন ধর্মঘট দিয়ে শিশু-কিশোরদেরকে প্রতিহত করার যে ষড়যন্ত্র সরকার গ্রহণ করেছে, ষড়যন্ত্রমূলক যে কর্মসূচি নিয়েছে সেটাকে আমরা ধিক্কার জানাই।
জনদুর্ভোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই পরিবহন ধর্মঘট সরকারের মন্ত্রীর অনুপ্রাণিত সংগঠনের ধর্মঘট। এই ধর্মঘটের কারণে জনগণের যে দুর্ভোগ হচ্ছে সেজন্য সরকারই দায়ী।
সাবেক আইনমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, মন্ত্রীরা একদিকে বলছেন, শিক্ষার্থীদের দাবি যুক্তিযুক্ত আর অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়েছেন, ছাত্রলীগকে এখন রাস্তায় নামিয়েছেন, পুলিশকে এখন রাস্তায় নামিয়েছেন। শিশু-কিশোরদের ওপর পুলিশকে দিয়ে হামলা চালিয়েছেন। ঠিক আগের মতো। কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর যেরকম ব্যবহার করেছে আজকে এই কিশোর শিক্ষার্থীদের ওপরও একই রকম ব্যবহার সরকার করছে। আজকে এই সরকারকে কোনো মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে না।
ব্যারিস্টার মওদুদ আরও  বলেন, দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এগুলো মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কোটা আন্দোলনে সরকারের প্রতারণার কারণে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসকে শিক্ষার্থীরা এখন আর বিশ্বাস করে না। নির্লজ্জ মিথ্যাচার প্রতারণার সরকারের আচরণে দেশের মানুষ মর্মাহত। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন যত কাছে আসছে সরকারের রূপ তত পরিষ্কার হচ্ছে। সরকার যে জনগণ থেকে কতটুকু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সেটা দিনদিন ধরা পড়ছে। সিটি নির্বাচনগুলোতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে এই সরকারের জনসমর্থন নেই। যে কারণে কারচুপি করে বেআইনীভাবে কেন্দ্র দখল করে এজেন্টদের সরিয়ে দিয়ে জোর করে নির্বাচনে জয়ী হচ্ছে।
সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ