ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদকে সামনে রেখে বাড়ছে মসলার দাম

এইচ এম আকতার : কুরবানির ঈদ মানেই যেন নিয়ম মেনে ঊর্ধ্বমুখী দেশের মসলার বাজার। এবারও তার ব্যতিক্রম নেই। ঈদের প্রায় ৩ সপ্তাহ আগেই বেড়েছে অনেক মসলার দাম। মনিটরিং না থাকায় স্বক্রিয় মসলার সিন্ডিকেট। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে এখন থেকেই সক্রিয় হচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেট। পাইকাররা বলছে দাম বাড়েনি আর খুচরা বিক্রেতারা বলছে আমাদের কিছু করার নেই। বেশি দামে কিনলে বেশি দামেই আমরা বিক্রি করে থাকি। সিন্ডিকেটের সাথে আমাদের কোন সর্ম্পক নেই।
 কুরবানির ঈদ, মানেই গরম মসলার গরম অবস্থা। সারা বছরের চাহিদার প্রায় অর্ধেকই হয় এ সময়ে। কুরবানির ঈদের আগে তাই বরাবরের মতো রাজধানীর বাজারগুলোতে বেড়েছে মসলার চাহিদা।              
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারীতে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬শ থেকে ২ হাজার টাকায়, জিরা প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৪শ ১০ টাকায়, লবঙ্গ ১ হাজার ৫০ টাকায়, আর দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ২শ ৯০ টাকায়। পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে যা আগের সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেশি। এলাচ আর জিরার দাম কিছুটা বাড়লেও অন্যান্য মসলার দাম তেমন বাড়েনি বলে জানান বিক্রেতারা। এছাড়া মসলার সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে।
ঈদের আরো বেশ কিছুদিন বাকি। সামনের দিনগুলোতে যথাযথ নজরদারি না থাকলে বাজারে আরও বাড়বে মসলার দাম।
কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী চোরাচালানের মাধ্যমে মসলা আনছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় বছরে এ খাতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
কুরবানির ঈদের এখনও প্রায় এক মাস বাকি। এরই মধ্যে ঈদের অন্যতম প্রয়োজনীয় পণ্য মসলা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে তেলেসমাতি কারবার। কুরবানির ঈদে প্রায় সব মসলার দামই বাড়তি থাকে। বলতে গেলে এটা একরকম নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে এখন থেকেই সক্রিয় হচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেট। এরই মধ্যে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ঈদের আগে এসব পণ্যের দাম আর কমবে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মসলা ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য থাকে সারা বছরের লাভ কুরবানির ঈদ মৌসুমেই তুলে নেয়া। কারণ এ সময় গরম মসলার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও শুকনা মরিচের চাহিদা বাড়ে। আর চাহিদা বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানি বাড়ান। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জোগানও বাড়ে। কিন্তু বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে ইচ্ছামতো এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এবারও তেমনটিই ঘটতে যাচ্ছে। রোজার ঈদের সময় মসলার দাম সেই যে বেড়েছে তা এখন পর্যন্ত কমেনি। দিনে দিনে দাম কেবল বাড়ছেই।
গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজি আদার দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা, রসুনেরও একই অবস্থা। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি লবঙ্গ ১৫০, জিরা ৪০, এলাচি ১২০ ও ধনে ১০ টাকা করে বেড়েছে। তা ছাড়া ভোক্তাদের অভিযোগ অস্বাভাবিক লাভ করছেন দোকানিরা। একই অবস্থা চীনা আদার ক্ষেত্রেও। পাইকারিতে যে আদা ৯০-১০০, সেটি খুচরায় ১৩০-১৫০ পর্যন্ত।
 পাইকারি বাজারে বার্মিজ আদা ৪৫-৫০, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকায়। মসলার বড় পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ছোট এলাচের কেজি ১৬শ টাকা থেকে ১৭শ টাকা, বড় এলাচ ১৫শ ৫০ থেকে ১৭শ টাকা। কালো গোলমরিচ পাইকারিতে ৫৮০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, প্রতি কেজি দারুচিনি পাইকারিতে ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা, তেজপাতা পাইকারিতে ৯০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, আলুবোখারা ৫২০ টাকা; লবঙ্গ ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা এবং কাজু বাদাম ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিশমিশ ৩৫০, জিরা ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা ও ধনিয়া ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। পাইকারি দাম বৃদ্ধির ফলে এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও।
এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ গরমমসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী এনায়েতুল্লাহ’র সঙ্গে। তিনি বলেন, ভারতের বাজারে মসলার দাম গত বছরের মতো এবারও বাড়তি। এ প্রভাব দেশের বাজারে পড়তে পারে। ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি আরও আগেই শুরু হয়ে গেছে। কারণ মসলার বাজার অনেকটাই আমদানিনির্ভর। সে ক্ষেত্রে এলসি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আগে থেকেই শুরু করতে হয়। তিনি বলেন, কুরবানির ঈদে মসলার চাহিদা বাড়ার কারণে আমদানি ও সরবরাহ বাড়াতে হয়। এ কারণে অনেক সময় বাড়তি দামেও এসব পণ্য আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ গরমমসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি হাজী আলতাফ উদ্দিন বলেন, কুরবানিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের সব মুসলিম দেশেই মসলার চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম বাড়তি থাকে। তাই স্থানীয় বাজারেও মসলার দাম বাড়ে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী চোরাচালানের মাধ্যমে মসলা আনছে। এসব চোরাকারবারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় বছরে এ খাতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অবৈধ পথে আসা মসলা বাজারে কম দামে বিক্রি হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে অসম প্রতিযোগিতাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের কয়েক ব্যবসায়ী জানান, দেশের ছয়টি সীমান্ত পথ দিয়ে চোরাই পথে ভারত, মিয়ানমার ও নেপাল থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসছে মসলা। ভোমরা ও হিলি বন্দর, ফেনীর ছাগলনাইয়া, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজার, নওগাঁ ও নোয়াখালীর সীমান্ত পথ দিয়ে দেশে চোরাই পথে আসা এসব মসলা বাজারজাত করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
 চোরাই পথে ভারত থেকে মসলা আসায় বন্ধের পথে  বৈধ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা। তারা বলেন, আমরা প্রতি বছর সরকারকে এ খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিই। অথচ ভারত থেকে দেশে আমদানি করা মসলার ৫০ শতাংশ চোরাচালান হয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের বাইরে থেকে মসলা আমদানি করব কি করব না তা ভাবতে হবে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় বাজারে সিন্ডিকেট স্বক্রিয়। সরবারাহের অজুহাতে কোন কারন ছাড়াই বাড়িয়ে দিয়েছে মসলার দাম। প্রতি বছরই তারা ঈদের আগে মসলার দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না বলেই মসলার মৌসুম এলেই বাজার বাড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটা টাকা হাতিয়ে নেয়।
প্রতি বছর তারা একই অজুহাত দাড় করায়। সরবরাহ কম চাহিদা বেশি। আবার কখনও বলে আর্ন্তজাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। আমাদের কিছুই করার নেই। অথচ রসুন পেঁয়াজ হলুদ মরিচ আমাদের দেশে উৎপাদন হলেও ঈদ এলে এসব পন্যের দামও বাড়ে। দেশিয় মসলার দাম বৃদ্ধির কারন কি। আসলে কোন কারনই নেই। এগুলো দাম বাড়ানো খোঁড়া অজুহাত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ