ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নৌখাতও মাফিয়াচক্রের নিয়ন্ত্রণে

স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক পরিবহণ খাতের মতো নৌ পরিবহণ খাতও মাফিয়াচক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এদের কারণেই পিনাক-৬ এর মতো ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হয়নি এবং এই খাতে দেদারছে ঘুষ-দুর্নীতি চলছে। এই মাফিয়াচক্রকে উৎখাত ও গ্রেফতার করতে না পারলে আধুনিক, জনবান্ধব ও নিরাপদ নৌ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে না।
গতকাল পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞসহ বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন।  যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমএল পিনাক-৬’ ট্রাজেডির চার বছর পূর্তি উপলক্ষে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সঞ্জীব বিশ্বাস। আলোচনা করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট শ্রমিক শ্রমিক নেতা মনজুরুল আহসান খান, বুয়েটের নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মীর তারেক আলী, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাবেক সচিব মাহাবুবুল আলম, সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক বাদশা ও সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট তাসনীম রানা। পিনাক-৬ দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দুর্ঘটনা-পরবর্তী গৃহীত সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে সূচনা বক্তব্য নাখেন জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে।     
মনজুরুল আহসান খান বলেন, যে সময় আমরা পিনাক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ ও নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কথা বলছি, সে সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করছে। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহণ খাতের মতো নৌ পরিবহণ খাতও মাফিয়াচক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এদের কারণেই পিনাক-৬ এর মতো ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনার চার বছরেও প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হয়নি। পিনাক-৬ দুর্ঘটনার জন্য প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে মনজুরুল আহসান খান আরো বলেন, মাফিয়াচক্রকে উৎখাত ও গ্রেফতার করতে না পারলে আধুনিক, জনবান্ধব ও নিরাপদ নৌ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে না।
মীর তারেক আলী বলেন, নৈরাজ্য শুধু সড়কেই নয়, নৌ পরিবহণ খাতেও ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, ঘুষ ও দুর্নীতি চলছে। নৌযানের নকসা অনুমোদনের জন্য মালিকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। নৌযানের নিবন্ধন ও ফিটনেস পরীক্ষার জন্য শিপ সার্ভেয়ারদেরকে ঘুষ দিতে হয়। মাস্টারশিপ ও ড্রাইভারশিপ পরীক্ষায় ঘুষের বিনিময় প্রার্থীরা পাস করেন ঘুষের বিনিময়। তিনি বলেন, অধিকাংশ নৌ দুর্ঘটনার পরই যথাযথ তদন্ত হয় না, প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ শনাক্ত হয় না। পিনাক-৬ দুর্ঘটনার তদন্তের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এই বিশেষজ্ঞ অভিযোগ করেন, অধিকাংশ তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হয় না, দোষীদের শাস্তি হয় না।  ২০১৪ সালের ৪ আগস্ট পদ্মা নদীতে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় ‘এমএল পিনাক-৬’ লঞ্চ। সরকারিভাবে ওই দুর্ঘটনায় ৪৯ এবং বেসরকারি হিসেবে ৮৬ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ থাকে ৫৩ জন; যাদের হদিস আজো মেলেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ