ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঐক্যের মাধ্যমেই নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করে নিবো-ইনশাল্লাহ -ড. কামাল হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার: গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা জনগণের ঐক্যের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। অতীতে সব সময় আমরা ঐকবদ্ধ আন্দোলন করে জনগণের দাবি আদায় করে নিয়েছি। তাই সামনের দিনে জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করে নিবো-ইনশাল্লাহ।
গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি একথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, আ.ও.ম শফিকউল্লাহ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান,  এডভোকেট শান্তিপদ ঘোষ, জামালউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপিকা বিলকিস বানু, মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, মোশতাক আহমেদ, আলী নুর বাবুল, খান সিদ্দিকুর রহমান, সাইদুর রহমান সাইদ, রফিকুল ইসলাম পথিক প্রমুখ।
ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবি আন্দোলনরত ছাত্রদের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং এর পাশাপাশি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ঐক্যের বিজয় সব সময়ই হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ সুনিশ্চিত করতে আলাপ অলোচনার মাধ্যমে মুক্তিযদ্ধের চেতনা এবং গণফোরামের প্রস্তাবিত সাত দফা, লক্ষ্য ও কর্মসূচির ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, শ্রেণী-পেশা ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে স্বৈরাচার বিরোধী জাতীয় ঐক্য গঠনের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এটি দলে গতকালের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে বলে জানান তিনি।
ড. কামাল হোসেন বলেন, এ সরকারের প্রতি ষোল আনা অবিশ্বাস জন্মাছে। সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ব্যাপারে তাদেরকেই জনগণের কাছে প্রমাণ করতে হবে যে তারা নিরপেক্ষ। তাদেরই প্রমাণ করতে হবে তারা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে পারে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে তাদের এধরনের কর্মকা- কেউ আশা করেনি। এখানেও তারা দু’নম্বরী করেছে। বঙ্গবন্ধুর নামে তারা এসব করছে। তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে কলঙ্কিত করছে। তিনি প্রশ্ন করে এটা কোন আওয়ামী লীগ? তিনি নিজেকে এখনও আওয়ামী লীগ কর্মী বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এটা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ না।
তিনি বলেন, এ ধরনের নির্বাচন কমিশনের ওপর এখন কারো আস্থা নেই। এদের দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আশা করা যায় না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনতো একটা বিচারকের ভূমিকায় থাকবে। একজন বিচারক তো পক্ষপাতিত্ব করতে পারে না। তাদের তো নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখতে চায় জনগণ। কিন্তু নির্বাচন কমিশনতো এখানে স্বাক্ষী গোপালের মত আছে। তাদেরতো সব কিছুতে সব ঠিক সব ঠিক বলার মত অবস্থান জনগণ আশা করে না।
এদিকে পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, দলের বর্ধিত সভায় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় অত্যন্ত ভয়াবহ বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। সন্ত্রাস, গুম, খুন বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে আটক ও জেল জুলুম নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকারসহ মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ কেড়ে নেয়া হয়েছে। দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই এবং ভিন্ন মতের কাউকে নির্বিগ্নে সভা সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ