ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিআরটিসি বাস রেল ও লঞ্চে যাত্রীর চাপ বেড়েছে

মুহাম্মদ নূরে আলম : অঘোষিত পড়িবহন ধর্মঘটের কারণে সড়ক মহাসড়ক প্রায় পরিবহনশূন্য, ফলে বাড়তি চাপ বাড়ছে সরকারি পরিবহন ট্রেন ও বিআরটিসি বাসে। গতকাল শনিবার ঢাকাসহ সকল জেলার খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রায় জেলারই দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস বন্ধ রয়েছে। সপ্তম দিনের মতো চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। একই সঙ্গে অঘোষিতভাবে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে না কোনও গণপরিবহন। গতকাল শনিবারও সকাল থেকে কোনও গণপরিবহন রাস্তায় নামেনি। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার কারণ দেখিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিক-শ্রমিকরা। তবে শুক্রবার রাতের মতো গতকাল শনিবারও রাতে বাস চলবে না বলে জানিয়েছের তারা। গতকাল শনিবার সকাল থেকে নগরীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, গাবতলী, শ্যামলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বাস টার্মিনালগুলো থেকেও আন্তঃনগর কিংবা দূরপাল্লার কোনও পরিবহন ছেড়ে যায়নি। নগরীতেও দূরপাল্লার কোনও পরিবহন প্রবেশ করেনি। তবে মাঝেমধ্যে বিআরটিসির দুই একটা বাস দেখা যাচ্ছে। ভাঙচুরের আশঙ্কায় পরিবহন নামাচ্ছেন না বলে দাবি করছেন মালিকরা। ফলে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, তারা চাইলেও রাস্তায় পরিবহন নামাতে পারছেন না। নামালেই নানা অজুহাতে ভাঙচুর করা হচ্ছে। এখনও তারা সড়ককে নিরাপদ মনে করছেন না। তাদের অভিযোগ, সঠিক কাগজপত্র থাকার পরেও অনেক পরিবহন ভাঙা হয়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত চারশতাধিক পরিবহন ভাঙা হয়েছে। পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আরও অন্তত ৮টি পরিবহন। হামলার শিকারও হয়েছেন অনেক শ্রমিক। এ অবস্থায় রাস্তা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা গাড়ি চালাবেন না। সপ্তম দিনের মতো চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। একই সঙ্গে অঘোষিতভাবে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে না কোনও গণপরিবহন। তবে দূরপাল্লার বাস একেবারেই বন্ধ রয়েছে। আজ  রাত ১২ টার পর থেকে সব ধরনের নাইট কোচ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায় ট্রেনে তিলঠাই নাই যে যেমন করে বাদুর-জোলা হয়ে গন্তেব্যের দিকে ছুটছে। আর এই অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে বেশি বিপদে পরেছে নারী ও শিশুরা। তবে মহানগরীতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিআরটিসি বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় ছিল উপচেপরা ভিড়।
ময়মনসিংহ: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস বন্ধ রয়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে বাস না পেয়ে লেগুনা ও পিকআপে করে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। আবার ময়মনসিংহগামী লোকাল বাস ও লেগুনাগুলো ভালুকা ও ত্রিশাল পর্যন্ত যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ট্রেনের আশায় স্টেশনে ছুটছে। ট্রেনে উপচেপড়া ভিড় থাকার কারনে কারো চেষ্টা বিফল হচ্ছে।
পটুয়াখালী: সড়কের যানবাহন চলাচলে নিরাপত্তা প্রদানের দাবিতে পটুয়াখালী থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পটুয়াখালী বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই শুক্রবার সকাল থেকে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রী ও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা অনেকটা বিপাকে পড়েন।
রাজশাহী: জানা যায় রাজশাহী থেকে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। সড়কে নিরাপত্তার শঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকরা। তবে বাস বন্ধের খবরে পথে নেমে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাধ্য হয়ে বিকল্প যানে চাপছেন কেউ কেউ। বাস বন্ধ থাকায় চাপ বেড়েছে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনে। আসন না পেলেও অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছেন অনেকেই।
রংপুর: দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে নিরাপত্তার অভাবে রংপুরে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। শুক্রবার সকাল থেকে জেলার কোনো রুটেই বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে কার নির্দেশে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে সে ব্যাপারে সরাসরি দায় নিচ্ছেন না পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
 মেহেরপুরে: মেহেরপুরে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। যাত্রী, চালক এবং গাড়ির নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে বাস বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।
সিরাজগঞ্জ: যানবাহন ভাঙচুরের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে মালিক-শ্রমিকরা সংগঠন। শুক্রবার সকাল থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। হবিগঞ্জে শুক্রবার সকাল থেকে আন্তঃজেলার সকল সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বগুড়া: বগুড়া থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস মালিকরা। শুক্রবারও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। চালকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের বাস চালানোর জন্য বলা হলেও তারা বাস চালাচ্ছে না। তারা বলছে তাদের দাবি আছে। সেই দাবিগুলো সরকার মেনে নিলে বাস চলাচল শুরু হবে। জাবালে নূর বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর থেকে দূরপাল্লার কোনো রুটে বাস ছেড়ে যায়নি। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকে বিকল্প হিসাবে ট্রেনে বাড়তি যাত্রী হয়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। পরিবহন নেতারা জানিয়েছেন, বাস ও চালকদের নিরপত্তার স্বার্থে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘরস্থ পৌর বাস টার্মিনাল ও পৈরতলা বাস স্ট্যান্ড থেকে ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অভিমুখে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।
জয়পুরহাট: ঢাকায় পরিবহন ভাঙচুরের প্রতিবাদে জয়পুরহাটে গত শুক্রবার সকাল থেকে মালিক-শ্রমিকদের ডাকে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জানান, ঢাকায় বিভিন্ন পরিবহনে ভাঙচুর করছে শিক্ষার্থীরা। এতে শ্রমিক ও মালিকদের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ কারণে জয়পুরহাট থেকে দূরপাল্লা ও আঞ্চলিক বাস চলাচল বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছে তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ