ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আসামে রোহিঙ্গাদের মতো আরেকটি গণহত্যার করুণ পরিণতি দেখতে চাই না -আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী

বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্য আসামের ক্ষমতাসীন বিজেপী সরকার গত ৩০ জুলাই সংশোধীত যে নাগরিকত্ব তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে প্রায় ৪০ লাখ ভারতীয় বাসিন্দা বাদ পড়েছে। যাদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বাংলাদেশী বলে নাগরিক তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এই ৪০ লাখ মানুষের বেশির ভাগই মুসলমান। গোটা ঘটনাটি ষড়যন্ত্রমূলক ও চরম অমানবিকই শুধু নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপরও মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সরকারের কর্তব্য, বিজেপীর মুসলিম ও বাংলাদেশ বিরোধী এমন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ করা।
গতকাল শনিবার দেয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব প্রবীণ আলেমে-দ্বীন শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত উৎকন্ঠার সঙ্গে ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে ভারত থেকে মুসলমানদের বিতাড়িত করা এবং ‘রামরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতের এক শ্রেণির হিন্দু ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিবিদদের তৎপরতা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করে আসছি। উচ্চবর্ণের হিন্দুর হাতে এই উপমহাদেশে দীর্ঘকাল ধরেই জৈন, বৌদ্ধ, শূদ্র, মুসলমান ও অন্যান্য গরীব ও মজলুম নিপীড়িত। বৌদ্ধধর্মের আবির্ভাব ঘটেছে ভারতে, অথচ বৌদ্ধদেরকে ভারতের মাটিতে হত্যা ও নির্মূল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাতচল্লিশে উচ্চ বর্ণের জালিম হিন্দুরা দেশভাগ করে দোষ চাপিয়েছে মুসলমানদের ওপর। বাংলা ও পাঞ্জাব আজও তার খেসারত দিয়ে চলেছে। আজ আবার তারা ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে আইনের মারপ্যাঁচে আসাম থেকে ৪০ লক্ষ গরিব ও মজলুম মুসলিম অধিবাসীদেরকে উৎখাত ও নির্মূল করবার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এটি আদতে মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও বিতাড়নের মতোই বিজেপির ‘রোহিঙ্গাকরণ’ প্রক্রিয়া।
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, নাগরিকপঞ্জির নামে পূর্ব পুরুষ থেকে স্থায়ীভাবে ভারতে বসবাসকারী ৪০ লক্ষ মানুষকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নিজ দেশে পরবাসী করা এবং অভিবাসন ক্যাম্প তৈরি করে তাদেরকে সেখানে আবদ্ধ রাখার উদ্যোগ নিশ্চিত করছে, এটি আদতে বিজেপির মুসলিম গণহত্যার প্রস্তুতি। তেলেঙ্গানায় বিজেপির এমএলএ রাজা সিং লোধ প্রকাশ্যেই বলেছেন, তথাকথিত ‘বাংলাদেশি সেটলার’রা যদি স্বেচ্ছায় ফিরে না যায়, তাহলে তাদেরকে গুলী করে হত্যা করা হবে।
তিনি বলেন, আসামে কোন অবৈধ বাংলাদেশী নেই। যে ৪০ লাখ মানুষের ভারতীয় নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তারা পূর্ব পুরুষ থেকেই ভারতে বসবাস করে আসছে। এরা অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক। এদেরকে বাংলাদেশী বলে বহিষ্কারের উদ্যোগ মুসলিম ও বাংলাদেশ বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তিনি বলেন, আসামের ঘটনাপ্রবাহে জোর সন্দেহ করা যাচ্ছে, ভারতে রোহিঙ্গাদের মতোই ভয়াবহ রক্তপাতের পরিস্থিতি আসন্ন। পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও রক্তগঙ্গা ও গৃহযুদ্ধ ঘটতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।
আল্লামা কাসেমী বলেন, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদিদের চরম উস্কানির মুখেও বাংলাদেশের জনগণ ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সরকারের নির্লিপ্ততা আমাদের বিস্মিত করেছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক নীতিমালা ভঙ্গ করে ভারতীয় নাগরিকদের ‘বাংলাদেশী’ আখ্যা দিয়ে পুশব্যাক করবার প্রস্তুতি এবং স্বেচ্ছায় না গেলে গুলী করার হুমকির বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে অবশ্যই অবিলম্বে জোর প্রতিবাদ জানাতে হবে। রোহিঙ্গাদের মতো আরেকটি গণহত্যার করুণ পরিণতি আমরা দেখতে চাই না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ