ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করে ক্লাসে ফিরে যাও

স্টাফ রিপোর্টার: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে বহিরাগতদের দ্বারা বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রলীগের একটি দল শাহবাগে এসে তাদের সঙ্গে দেখা করে আন্দোলন বন্ধ করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। অপরদিকে ধানমন্ডি ও জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলা করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, গতকাল সকাল নয়টার পর থেকে সোহরাওয়ার্দী কলেজ, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ও সেন্ট্রাল উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে এসে জড়ো হয়। তারা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে থাকে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন দিক থেকে আসা শাহবাগ মোড়ের যানবাহনগুলোর কাগজপত্র, চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করতে থাকে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির মধ্যেও অবরুদ্ধ করে রেখেছে শাহবাগ মোড়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনের জমায়েত আজকের মতো শেষ বলে ঘোষণা করেছে শাহবাগে অবস্থানরত বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে আবার একই দাবিতে শাহবাগ মোড়ে এসে জড়ো হওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি দল সেখানে আসে। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে আন্দোলন বন্ধ করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার কথা বলেন এবং আন্দোলনকারীদের কোনো বহিরাগতদের দ্বারা বিভ্রান্ত না হতে পরামর্শ দেয়।
সদ্য নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি দল শাহবাগে আসে। দলের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের বলেন, তাঁরা শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সমর্থন জানাতে এসেছেন। তবে ছাত্রলীগের নেতারা শিক্ষার্থীদের কোনোভাবে ভিন্নপথে পরিচালিত এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সে নির্দেশনাই দিয়েছেন।
সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য, যাতে তারা মিস গাইডেড না হয়। ওরা যে রাস্তায় নেমেছে, এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো আক্ষেপ নেই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। ওরা আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছে। শাহবাগে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা বলছে, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশী হামলা বার বার চলতে থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হবে। কারণ, এ অবস্থার জন্য তিনি দায়ী। এসব হামলার দায়ভার একমাত্র তাঁর।  শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন শেষে শাহবাগ মোড় থেকে চলে যায়। এরপর সেখানে আবারও যান চলাচল শুরু হয়।
গতকাল সকাল নয়টার পর থেকে সোহরাওয়ার্দী কলেজ, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ও সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে এসে জড়ো হয়। তারা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে থাকে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন দিক থেকে আসা শাহবাগ মোড়ের যানবাহনগুলোর কাগজপত্র, চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করতে থাকে।
বিদেশীর গাড়ি ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা: এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে শাহবাগে এক বিদেশীর গাড়ি ঘিরে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে থাকা প্রথম আলো প্রতিবেদক জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হলুদ নম্বরপ্লেটের একটি প্রাইভেট কার শাহবাগ মোড়ে আসে। দ্রুতগতির ওই গাড়িকে থামিয়ে শিক্ষার্থীরা লাইসেন্স দেখতে চায়। চালক তা না করে দ্রুতগতিতে মোড় পার হয়ে যাওয়ার সময় গাড়িটি এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গাড়িটির পিছু নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় জাদুঘরের মাঝে থাকা পদচারী-সেতুর নিচে আটকে দেয়। তারা গাড়িটিকে ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে। ওই সময় গাড়ির ভেতরে একজন বিদেশী নারীকে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর শাহবাগ থানা-পুলিশ এসে গাড়িটিকে থানায় নিয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ