ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঈদের আগেই অনেক কারখানা বন্ধ হবার আশংকা

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) থেকে: মাধবদীতে ঈদের আগেই বর্তমানে চালু বেশ কিছু বৃহৎ শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাপড় প্রস্তুতকারক তাঁত ও পাওয়ারলোম কারখানা বন্ধ হলে সেই সাথে বন্ধ হবে ডাইং, ফিণিশিং কারখানাও। বেকার হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন বিশাল শ্রমিক সমাজ। মাধবদী, শেখেরচর বাবুর হাট এলাকা স্বাধীনতা উত্তর সময় থেকেই তাঁত ও পাওয়ারলোমে তৈরি কাপড় উৎপাদন ও বৃহৎ বিপণন কেন্দ্র হিসেবে বাংলার ম্যানচেষ্টার খ্যাতি অর্জন করেছে। এখানকার কাঠের তৈরি হস্ত তাঁত ও পাওয়ারলুম সেই তখন থেকেই পুরো ম্যানচেস্টার এলাকায় কাপড়ের প্রসিদ্ধ এলাকা হিসেবে সুনামের সাথেই মাথা উঁচু করে জায়গা করে নিয়েছে অসংখ্য বস্ত্র কারখানা। কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার বেকার মানুষের। এখানকার তাঁত ও পাওয়ারলোমে তৈরি কাপড় স্বনামধন্য দেশীয় পোশাক তৈরি প্রতিষ্ঠান আড়ং, অঞ্জন’স, সহ বেশ কিছু বড় বড় পোশাক রফতানী কারক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ হয়ে আসছে। উন্নত টেকসই কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক ও গ্রে-কাপড় সরবরাহ হচ্ছে। এক যুগ আগে থেকেই বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে সম্মানজনক ভাবে রপ্তানী হচ্ছে এখানকার তাঁত ও পাওয়ারলোমে তৈরি কাপড় ও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের তৈরি পোশাক। যে কোন কারখানা বা বস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান যাদের শ্রমে উন্নয়নের উচ্চশিখরে আরোহণ করে সে সব শ্রমজীবী মানুষের জীবনে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি কখনই। তাদের প্রতি মালিক পক্ষের অবহেলা নির্যাতন ছাড়াও নারী/পুরুষের মজুরি বৈষম্যও দূর হয়নি কখনো। অথচ প্রতিটি বৃহৎ উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের মূল ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় অবহেলিত নিম্ন শ্রেণীর শ্রমিকদের শরীরে ঘাম আর বুকের তাজা রক্তই মিশে আছে বেশী প্রতিটি উৎপাদিত বস্ত্রে। অথচ যুগ যুগ পেরোলেও সেই শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি আজও। তাদের ন্যায্য মজুরিও নির্ধারিত হয়নি আজও। আর তাই মালিক পক্ষের ইচ্ছা মাফিক কাজ করেও শঙ্কাগ্রস্ত থাকতে হয় প্রতিটি শ্রমিককে। কারণ লিখিত কোন নিয়োগ চুক্তি পত্র না থাকায় যখন তখন ছাটাই বা কারখানা থেকে বের করে দিলেও কিছুই করার থাকেনা শ্রমিকের। গত কয়েক দিনে বেশ কিছু কারখানা মালিকদের সাথে কথা বলে ঈদুল আজহার পূর্বে কারখানা বন্ধের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন মাধবদীতে সম্প্রতি অনেক কারখানায় কাঁচামাল তুলা, রং, সুতা খুচরা যন্ত্রাংশ সংকট চলছে, সরবরাহ কম এসব কারনে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ঈদের আগেই আরো ৫০/৬০টি বৃহৎ কারখানা বন্ধ করে দেয়ার মৌখিক নোটিশে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এসব কারখানায় কর্মরত শত শত শ্রমজীবী মানুষ। গত শুক্রবার ভূইয়া টেক্সটাইল মিল, জাকির ইয়ার্ণ ট্রেডিং কারখানা, মোল্লা স্পিণিং সহ বেশ কিছু কারখানায় মালিক পাওয়া না গেলেও দায়িত্বশীল ম্যানেজার বা পরিচালকদের সাথে কথা বলার সময় তারা জানান কারখানা বন্ধ বা খোলা রাখা একান্তই মালিকের ব্যাপার আর বর্তমানে কাপড়ের বিশাল স্টক রয়েছে কারখানায় মার্কেটে বিক্রি কম এ কারনেই মিল বন্ধ রাখতে হতে পারে। শুধু মাধবদী নয় নরসিংদী সদর উপজেলার সকল কারখানায়ই শ্রমিকদের কোন লিখিত নিয়োগ পত্র নেই। দিনে এবং রাতে উৎপাদনের উপর মজুরি ভিত্তিতে কাজ করেন শ্রমিকরা। আর তাই যখন তখন শ্রমিক ছাটাই বা বহিস্কার অথবা কারখানা বন্ধ করলে ও কোন অভিযোগ করার জায়গা নেই। শ্রমিকদের কোন শক্তিশালী সংগঠনও নেই এখানে। সব মিলিয়ে মাধবদীর তথা এখানকার বস্ত্র শিল্পখাত অস্তিত্ব সংকটে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রায় ১ বছর আগে থেকেই। অধিকাংশ কারখানার শ্রমিকরাই মানবিক কারনে ঈদের আগে কারখানা বন্ধ না করার জন্য মালিকদের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন বলে জানান কর্মরত শত শত শ্রমজীবী মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ