ঢাকা, রোববার 5 August 2018, ২১ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট॥ চিকিৎসা ব্যাহত

দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা : খুব শীঘ্রই জনবল আসবে এভাবেই চলছে  চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। চিকিৎসা সহায়ক উপকরণ চিকিৎসক নার্স কর্মকর্তা-কর্মচারির পদ শুন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নয়ন খাত হতে পাওয়া মেরামতযোগ্য ১টি এম্বুলেন্স ২০০৭ সাল থেকে অচল হয়ে পড়ে আছে। ১টি মেরামতযোগ্য পুরাতন ৫০ এমএ ২০০৪ সালের ১২ মার্চ হতে এবং ১টি মেরামতযোগ্য নতুন ৩০০ এমএ এক্স-রে মেশিন ২০০৯ সালের ৭ নভেম্বর থেকে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এখানে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ মোট ৩৮টি পদ শুন্য রয়েছে। মোট ১৪৭ জনের বিপরীতে নিয়োজিত আছেন ১০৯ জন। বাকি পদ শুন্য। আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদটিও শুন্য। নারী গাইনি চিকিৎসক পদ শুন্য থাকায় উপজেলার অধিকাংশ গাইনী রোগিদের যেতে হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ও গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকলেও দুজনই সাময়িক আদেশে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। একইভাবে সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্টের একমাত্র পদের চিকিৎসক প্রেষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত। একটি মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেশিয়া) পদ শুন্য ও ডেন্টাল সার্জন দীর্ঘ দিন অনমোদিত অনুপস্থিত রয়েছে। মেডিকেল টেকনোলজি  (রেডিও গ্রফার), যক্ষা ও কুষ্ট নিয়ন্ত্রণ সহকারিসহ পিওন, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মির পদ শুন্য রয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলা শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে চিৎলা গ্রামে অবস্থিত। চার কিলোমিটারের এ রাস্তাটিও তেমন উন্নত নয়। খানাখন্দে ভরা এ রাস্তা দিয়ে কোনো রোগিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে হলে সেই রোগি আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে। চুয়াডাঙ্গা থেকে দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর অতিক্রম করে যে প্রধান সড়কটি চলে গেছে তার আশপাশের অধিকাংশ দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামবাসিকে তাদের রোগি দামুড়হুদা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেয়ে ১০-১২ কিলোমিটার দূরের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া যুক্তি সংগত মনে করে। যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ার কারণে অনেকে মনে করে, দামুড়হুদা সদর থেকে চার কিলোমিটার ভেতরে যাওয়ার চেয়ে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে চুয়াডাঙ্গা পৌছে যাওয়া সহজ। 
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল বলেন, এ্যাম্বুলেন্স ও এক্সরে মেশিনের ব্যাপারে প্রায়ই উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়। কিন্তু কোন কাজ হয়না। ৩৮ শূন্য পদের ব্যাপারেও লেখা হয়েছে। ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন ৪০-৫০ জনের বেশি রোগি ভর্তি থাকে। আউটডোরে প্রতিদিন ৩০০-৪০০ রোগি চিকিৎসা নেন।
প্রধান সড়কের পাশের গ্রামগুলোর রোগিরা এখানে কম আসেন। তারা যান চুয়াডাঙ্গায়। সংকট দূর করে এখানকার সেবার মান বাড়ানো গেলে আরো বেশি মানুষকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ