ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রতিশোধের বাস ধর্মঘট অব্যাহত

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তৃতীয় দিনের মতো সারাদেশে দূরপাল্লাসহ বেশ কিছু জেলায় অভ্যন্তরীণ রুটেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দিনে দিনে বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ। 

রোববার (৫ আগস্ট) সকালে রংপুর শহরের কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। ধর্মঘটে নৈশ কোচ চালু থাকলেও গতরাত থেকে তাও বন্ধ করে দেয়া হয়। দূরপাল্লার বাস না চলায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। তবে সীমিতভাবে অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল করছে। এছাড়া, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যান চলাচল।

গণপরিবহন না পেয়ে অনেকেই রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে করে ভেঙে ভেঙে অফিসে যাচ্ছেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এসব যানবাহন কম থাকায় বেশি ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। তার পরও অফিস ও গন্তব্যে পৌঁছাতে রাজি হচ্ছেন নগরবাসীরা। কিন্তু যাত্রীর চেয়ে যানবাহন কম হওয়ায় হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাত থেকে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এ কারণে রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান উবার ও পাঠাওয়ের নিবন্ধিত চালকরা ডেকে ডেকে যাত্রী তুলতে দেখা গেছে। তবে গণপরিবহন না থাকার সুযোগে তারা তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকাসহ সারা দেশে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। শনিবার রাত থেকে দূরপাল্লার নাইটকোচ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

রোববার ভোর থেকেই রাজধানীর গুলিস্তান, পল্টন, কাকরাইল, শাহবাগ ও এলিফ্যান্ট রোডে কোনো গণপরিবহন চোখে পড়েনি।

শনিবার দিনভর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ছিল সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও ঝিগাতলা এলাকা।

আজ ভোর থেকে এ এলাকাতে অনেকটা শুনশান নীরবতা বিরাজ করছে। এখানেও কোনো গণপরিবহন চলতে দেখা যায়নি।

বাসশূন্য সড়কের চিত্র পুরো মিরপুর রোড, সাতমসজিদ রোড, শ্যামলী ও কল্যাণপুরের

ভোর থেকে মিরপুর-১, ১০ ও ১১, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া, পল্লবী ও কালশীর সড়কে গণপরিবহন চলেনি।

এসব এলাকায় প্রধান সড়কে পরিবহন শ্রমিকদের জটলা করতে দেখা গেছে। গণপরিবহন না চলা নিশ্চিত করতে তাদের তৎপর দেখা গেছে।

দুয়ারীপাড়া থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত কিছু লেগুনা চলাচল করছিল।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রূপনগর আবাসিক এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে লেগুনা চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে ভেঙে ভেঙে কর্মস্থলসহ নানা গন্তব্যে চলাচলরত শত শত মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

সকাল ৯টার দিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোর থেকেই মগবাজার, মৌচাক, শান্তিনগর ও মালিবাগের সড়কগুলোতে কোনো গণপরিবহন চলাচল করছে না।

মহাখালী, গুলশান, বনানী, তেজগাঁও, নাবিস্কো, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার কোনো সড়কেও গণপরিবহন চলছে না।

উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, সড়ক, খিলক্ষেত ও প্রগতি সরণিতে কোনো বাস চলছে না।

তবে মাঝেমধ্যে উত্তরা-মতিঝিল রুটে বিআরটিসির এসি বাস চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।

এ ছাড়া গুলিস্তন-উত্তরা ও গাবতলী-উত্তরা রুটে সরকারি পরিবহন সংস্থাটির কিছু দোতলা বাস চলাচল করছে।

সকাল সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় রাজধানীর বাসশূন্য সড়কগুলোর চিত্র পরিবর্তনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হল শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তারা নৌপরিবহনমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খানের পদত্যাগ ও ৯ দফা দাবিতে টানা আট দিন ধরে আন্দোলন করেছেন। এ আন্দোলনের জের ধরে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় প্রথমে বাস চলাচল সীমিত হয়ে যায়। পরে বাস চলাচল একেবারেই বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ