ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যশোরে সড়ক মহাসড়কে চলছে সাড়ে পাঁচ হাজার ফিটনেসবিহীন গাড়ি

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের সড়ক মহাসড়কগুলোতে চলছে সাড়ে পাঁচ হাজার ফিটনেস সার্টিফিকেটবিহীন গাড়ি । আর ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহন অবাধে চলাচল করার কারণে সড়কে ঘটছে প্রতিনিয়ত নানা দুঘর্টনা। বারবার নোটিশ দিলেও বিআরটিএ কতৃপক্ষের আহবানে সাড়া দিচ্ছেনা এসব গাড়ির মালিকগণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায় যশোর ও নড়াইল জেলা নিয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যশোর সার্কেল অফিস। যশোর কালেক্টরেট ভবন ও জেলা নির্বাচন অফিসের সন্নিকটে যশোর বিআরটিএ অফিস। জন্মলগ্ন থেকে এ অফিস বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ, জিপ, মাইক্রোবাস ও মটরসাইকেল মিলে প্রায় ১২ হাজার যানবাহনের লাইসেন্স দিয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ি ওইসব যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন,রুট পারমিট,মালিকানা পরিবর্তন, নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নতুন যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন দিয়ে থাকে সরকারের এ দপ্তরটি। বিআরটিএ যশোর অফিসের একটি সূত্র জানায় যশোর অঞ্চলে চলাচলকারি যানবাহনের প্রায় ৭০ ভাগ যানবাহনের কোন ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। এসব যানবাহনকে ফিটনেসের আওতায় আনতে বিআরটিএ কর্মকর্তারা বাস ট্রাক মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে সভা করে, একাধিকবার নোটিশ করে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। সড়কে চলাচলকারি যানবাহনের মধ্যে ৩৩১টির দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। জরিমানা মওকুফের সুযোগ দেওয়া হলেও কোন গাড়ির মালিক তাতে সাড়া দেয়নি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে এসব যানবাহনের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। কিন্তু এসব যানবাহন সড়কে কিভাবে চলছে সে ব্যাপারে কোন তথ্য নেই বিআরটিএ কর্মকর্তাদের কাছে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যশোর সার্কেলের কর্মকর্তারা নোটিশ করে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা না পেয়ে অবৈধ গাড়ি ও মালিক শ্রমিকদের লাগাম টানতে পারছে না। ফলে বিআরটিএ কর্মকর্তারা এক প্রকার অনেকটা অসহায়ের মত বছরের পর বছর বকেয়ার হিসাব কষে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএ ও মালিক পক্ষের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান সড়কে গাড়ি চালানোর জন্য শ্রমিক ইউনিয়ন, ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয় সেখানে কাগজপত্র সঠিক থাকলে ও টাকা দিতে হয়, না থাকলেও টাকা দিতে হয়। সে কারনে গাড়ির মালিকরা কাগজপত্র নবায়নে আগ্রহ দেখাননা। এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে বিআরটিএ যশোর সার্কেলের সহকারি পরিচালক কাজী মোহাম্মদ মোরসালিন বলেন আমি অল্পকিছুদিন এ সার্কেলে যোগ দিয়েছি সবকিছু এখনো বুঝে উঠতে পারিনি তবে ফিটনেস, রুটপারমিট বিহীন যানবাহনের ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে। প্রয়োজনে এব্যাপারে উদ্ধতন কতৃপক্ষের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এদিকে সরকার অনুমোদিত গাড়ির বাইরেও সড়কে চলছে হাজার হাজার অননুমোদিত যানবাহন। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয়ভাবে নির্মিত নসিমন, করিমন, আলমসাধু, লাটাহাম্বার, পাওয়ারটিলার, ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, মটরভ্যান ও নানা প্রকারের থ্রি হুইলার। সড়ক মহসড়কে এসব যানবাহন চলতে না দেওয়ার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের সুস্পস্ট নিন্দেশনা থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সড়কে যখনই চেকিংএ বসে তখন কেবলমাত্র মটর সাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষা করে ,ভাবটা এমন এদেশে যেন কেবলমাত্র মটরসাইকেল গুলোই অবৈধ। পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে অবৈধ গাড়িগুলো সজোরে চলে গেলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ থাকেনা পুলিশের। এসব ব্যাপারে নসিমন করিমনসহ অবৈধ এসব যানবাহনের একাধিক চালকরা নাম প্রকাশ না করে জানান তারা সিন্ডিকেট করে নিজেদের মধ্য থেকে চাঁদা তুলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ প্রশাসনকে মাসোহারা দিয়ে থাকেন। যে কারনে বাস মিনিবাস মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষ বারবার আল্টিমেটাম দিয়েও সড়ক মহাসড়ক থেকে অবৈধ যানবাহন সরাতে পারেনি। সবমিলিয়ে যশোর অঞ্চলের সড়ক মহসড়কগুলো এখন অবৈধ যানবাহনের নিরাপদ চলাচল স্থল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ