ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আঘাতের শামিল

স্টাফ রিপোর্টার : মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে বিএনপির কোনো উস্কানি নেই বলেও জানান তিনি। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জাতিকে শিক্ষা দিয়ে দিয়েছে। এবার আমরা যারা বড় আছি, তাদের মাঠে নেমে আসতে হবে। তিনি বলেন, অবৈধ সরকার জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে আছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জাতির চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বড়দের একটা শিক্ষা হয়েছে। এখন সরকার হটাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বড়দেরই মাঠে নেমে আসতে হবে। তিনি বলেন, অতীতেও সরকার আন্দোলন ভিন্নখাতে নিতে বিএনপিকে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছে। এবারও একই পন্থা বেছে নিয়েছে। মূলত তারা দেশের জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, শনিবার রাতে মোহাম্মদপুরে সুজন সম্পাদক বদিউল আলমের বাসায় সরকারি দলের লোকেরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় সেখানে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাটও ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটের ওপর হামলা  দেশটির ওপর হামলার শামিল। তার বাসায় রাষ্ট্রদূত নৈশভোজে গিয়েছিলেন। তার আগেই সেখানে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছিল। তিনি বের হলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ হামলার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তিনি হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, বদিউল আলমের ওপর হামলা মুক্ত চিন্তার ওপর হামলা। এই হামলার ঘটনায় বিদেশে বাংলাদেশ সম্পর্কে খারাপ বার্তা যাবে। কূটনীতিকভাবে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসায় শনিবার রাতে দু’দফা হামলার নিন্দা জানান। বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, ক্ষমতাসীনরাই আমীর খসরুর নামে যে অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে, তার নায়ক। অতীতেও তারা আমাদের নেতাদের কণ্ঠ নকল করে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। তবে তিনি এও বলেন, অডিওতে যে বার্তা এসেছে, সেটিকে আমরা সমর্থন করি। কারণ, সাংবাদিক সম্মেলন করেই আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছি। মির্জা ফখরুল বলেন, চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কথোপকথন ফাঁসে অপরাধ কোথায়? সমস্ত দেশই তো তাদের পক্ষে। আমরা আগেই শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছিলাম। শিক্ষণীয় আন্দোলন করছে তারা। দেশের  রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ, বুদ্ধিজীবী সবাই বলছে যৌক্তিক।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমীর খসরুর কথোপকথন জের ধরে শনিবার রাতে দুবার অভিযান চালানো হয়েছে তাকে গ্রেফতার করার জন্য। কিন্তু কেন? তিনি তো সাবেক মন্ত্রী। এটিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। এগুলো সবই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর অভিযানের শামিল। বিএনপিকে নিয়ে গত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যে ভাষায় কথা বলছে, এটি শুধু আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য।
আন্দোলনে বিএনপিকে জড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতেও সরকার আন্দোলন ভিন্ন খাতে নিতে বিএনপিকে জড়িয়েছে বক্তব্য দিয়েছে। এবারও একই পন্থা বেছে নিয়েছে। মূলত তারা দেশের জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ঝিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ এ নেতা বলেন, ধানমন্ডিতে নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এতে বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। সারা দেশেই এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তারা। প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ অনির্বাচিত স্বৈরাচারী সন্ত্রাসী দল। তাদের কাছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের কোনো মূল্য নেই।
নিন্দা ও প্রতিবাদ: বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নুকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী গণতান্ত্রিক আচার আচরণ ত্যাগ করে অগণতান্ত্রিক পন্থায় একপেশে নীতিতে দেশ শাসন করছে। জনগণকে উপেক্ষা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অতি মাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রা এখন চরম হুমকির মুখে। সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্যাতন-নিপীড়নের পাশাপাশি চলছে গ্রফতারী অভিযানের হিড়িক। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নুুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দমন-পীড়ন চালিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ এবং বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর ক্রমাগত জুলুম নির্যাতনের ফলে দেশে এখন এক ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। এই ধরনের অন্যায় ও জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে বিএনপি’র বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু’র নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ