ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর সড়কে পরিবহণ শ্রমিক-আ’লীগ কর্মীদের অবস্থান

স্টাফ রিপোর্টার : নিরাপদ সড়কের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে রাজপথে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের পর এবার সড়কে নেমেছে পরিবহণ শ্রমিক ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটের মধ্যে গতকাল রোববার ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে কয়েকশ পরিবহণ শ্রমিক অবস্থান নেয়।
সনি সিনেমা হলের সামনে তাদের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগেরও কয়েকশ নেতা-কর্মী। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে সকাল ১০টার দিকে সনি প্রেক্ষাগৃহের সামনে জড়ো হন।
 যেখানে গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ছিল, সেখানে অবস্থান নেয়ার কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে তা প্রতিরোধে তাদের এই কর্মসূচি।
দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হক হ্যাপি বলেন, “সাধারণ ছাত্রদের যে প্রতিবাদ, তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাদের সব দাবি তিনি মেনে নিয়েছেন। “কিন্তু তারপরও শিক্ষাঙ্গনকে অশান্ত করার জন্য যারা রাজপথে অরাজকতা করছে, দেশে অরাজকতা করছে, তাদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি।”
এদিকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অল্প কিছু স্থানে শিক্ষার্থীদের সড়কে নামার খবর পাওয়া গেছে। আসাদ গেইট, উত্তরায় শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়েছে। আগের দিন উত্তপ্ত থাকা জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় গতকাল রোববার সকালে পরিস্থিতি ছিল শান্ত, সেখানে তৎপর ছিল পুলিশ ও স্কাউটসরা। সেখানে ওভারব্রিজের নিচে রাস্তা পার হতে গেলে স্কাউট সদস্যরা বাধা দিয়ে সবাইকে বলছেন, জীবনের নিরাপত্তার জন্য ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করুন।
 সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সার্জেন্ট মাহবুব আলম বলেন, “সাধারণ মানুষ এখন নিজ উদ্যোগে পুলিশের কাছে সহযোগিতার জন্য আসছেন। গাড়ির কাগজপত্র দেখাচ্ছেন, আর প্রয়োজনীয় পরামর্শও নিচ্ছেন।”
তার পাশে দাঁড়ানো মোটর সাইকেল আরোহী মো.ইমতিয়াজ বলেন, “গত কয়েকদিন রাস্তায় চরম সমস্যা হয়েছে। বারবার শিক্ষার্থীরা গাড়ির কাগজ দেখতে চেয়েছে। কাগজ না বুঝে অনেক সময় কাগজ ছিঁড়েও ফেলে।”
দুপুরে একদল যুবককে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় মোটর সাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। একই ধরনের মহড়া দেখা গেছে শ্যামলীতেও। তবে দুপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে সায়েন্স ল্যাবরেটরির কাছে ধানমন্ডির দুই নম্বর সড়কে।
গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে দুই কলেজ শিক্ষার্থী বাসচাপায় মারা গেলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পরদিন থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিলে অচল হয়ে পড়ে রাজধানীর সড়ক।
শিক্ষার্থীরা গাড়ির ও চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করতে থাকে, তা না পেলে গাড়ি আটকে দিচ্ছিল। আন্দোলনের মধ্য থেকে ওঠা নয়টি দাবি পূরণের ঘোষণা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানায় সরকার। তারপরও সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মধ্যে শনিবার কয়েকটি স্থানে তাদের উপর হামলা হয়, যা সরকার সমর্থক সংগঠনগুলো ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টায় শুক্রবার থেকে সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। গতকাল রোববারও ঢাকার সড়কে সরকারি সংস্থা বিআরটিসির বাস ছাড়া অন্য কোনো বাস চলছে না বলে দুর্ভোগ কাটেনি রাজধানীবাসীর। বাস না পেয়ে অনেক বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্য পৌঁছাতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই হেঁটে রওনা দিয়েছেন গন্তব্যে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক শওকত আলী বাবুল বলেন, “সড়কে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নাই। কোথাও নিরাপত্তা দিতে পারছে না, তাই আমরা বাস চালাতে পারছি না।” “ঢাকার মধ্যে তো আরও নিরাপদ না। কারণ কখন বিক্ষুব্ধ ছেলেরা রাস্তায় বাস ভাংচুর করে, তার কোনো ঠিক নাই। তাই পরিস্থিতির উত্তরণ না হলে আমরা বাস নামাব না,” বলেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ