ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর সড়কে শিক্ষার্থীদের সতর্ক অবস্থান বিক্ষোভ-মিছিলে উত্তাল ॥ যান চলাচল বন্ধ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গতকাল রোববার ধানমন্ডির সাইন্সল্যাব মোড়ে ছাত্র আন্দোলনের একাংশ -সংগ্রাম

# ছবি তুলতে সাংবাদিকদের বাধা দিয়েছে অভিমানী ছাত্ররা
# পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিচ্ছে না শিক্ষার্থীরা
স্টাফ রিপোর্টার : নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকার সড়কের কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে; উত্তরায় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেয়। আগের দিনগুলোর মতো ব্যাপক আকারে না হলেও গতকাল রোববার শাহবাগ, উত্তরা, রামপুরা, আসাদ গেট, বনানী ও কুড়িলে রাস্তায় অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রাস্তায় নামে। প্রথমে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের দিক থেকে মিছিল নিয়ে সড়কের মাঝে এসে অবস্থান নেয় একদল শিক্ষার্থী। এরপর আজমপুরের দিক থেকে আরও একটি মিছিল এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভে দেখা গেছে। এই শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই ইউনিফর্ম পরা; আন্দোলনের মধ্যে নাশকতা ঘটাতে অন্য পক্ষ ঢুকছে বলে পুলিশের হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিচ্ছে না এই শিক্ষার্থীরা।
সড়ক অবরোধ করে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে  শ্লোগান দিচ্ছে তারা। তাদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। টঙ্গী থেকে আসা বিআরটিসির বাসগুলো ঘুরিয়ে দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
টঙ্গী থেকে আসা একজন চাকুরে শফিকুল ইসলাম বলেন, “টঙ্গী থেকে অনেক বলে কয়ে বাসটা আনলাম। অথচ এখানে নামিয়ে দিল। কোনো গাড়িও পাচ্ছি না। অনেক ভাড়া চাচ্ছে। হেঁটেই যেতে হবে। কী আর করা।” বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের ছবি তুলতে ও ভিডিও ধারণে বাধা দিচ্ছে।
কয়েকজন সাংবাদিক উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এর ফুট ওভার ব্রিজে গিয়ে ভিডিও করতে গেলে তাদের দিকে তেড়ে আসে একদল শিক্ষার্থী। পরে আরেক দল শিক্ষার্থী এসে ওভারব্রিজ থেকে সাংবাদিকদের নামিয়ে দেয়।
এক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের বলেন, “গতকাল আপনারা কোথায় ছিলেন? আপনারা তো কাল কিছুই করেননি। আপনাদের আর আমাদের দরকার নাই।”
গতকাল রোববার বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর সরকার সমর্থক ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছিল বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। বনানীতে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরাও ছবি তুলতে বাধা দেয় সাংবাদিকদের। কুড়িলে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়।
ভাটারা থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান জানান, “সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে যমুনা ফিউচার পার্কের দুই পাশে তিন-চারশ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছে। ফলে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।” দুপুরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয় রামপুরায়ও।
আসাদ গেটের আড়ং এর সামনে রাস্তায় জড়ো হয়েছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। দুপুর ১টার দিকে তাদের শুক্রাবাদের দিকে এগোতে দেখা গেছে।
শাহবাগে সকালে একদল শিক্ষার্থী অবস্থান নিতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। শান্তিনগর, কাকরাইল, মৌচাক, মালিবাগ মোড়, পল্টন এলাকায় দুপুর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নামতে দেখা যায়নি।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টায় অঘোষিত ধর্মঘটে থাকা পরিবহণ শ্রমিকদের মিরপুরে সড়কে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরাও।
গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সড়কে নামে শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে পরদিন ধরে টানা ঢাকার সড়কে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম ব্যুরো : শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের পর নিরাপওার অজুহাতে সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় গণপরিবহণ বের করে নি মালিক শ্রমিকরা। এর ফলে গতকাল রোববার চট্টগ্রামে রিক্সা, টেক্সি,কিছু ট্রাক ছাড়া বাস, টেম্পু, হিউম্যান হলার চলাচল করেনি। ফলে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। এ সুযোগে রিক্সা, টেক্সি চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে। গণপরিবহণ সংকটের কারণে নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, ২ নম্বর গেণট, কালুরঘাট, আন্দরকিল্লা, নিউ মার্কেট, কাজিরদেউরি, অক্সিজেন মোড়, শাহ আমানত সেতুসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়ে। দূরপাল্লার কাউন্টারগুলো বন্ধ ছিল। পথে পথে শ্রমিকরা যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়। চট্টগ্রামের বিভিন্ন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশ যেখানে আমাদের নিরাপত্তা দেবে সেখানে, উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা সড়কে গাড়ি চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছি।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, পরিবহন ধর্মঘটে অনেকটা অচল দেশের লাইফ হিসেবে খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। রবিবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে সড়কে কোন ধরনের গণপরিবহন চলাচল করেনি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে শত শত কর্মজীবী মানুষকে। সপ্তাহের প্রথম দিন হওয়ায় অনেকে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রাস্তায় বের হলেও কর্মস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। মাঝে মধ্যে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করলেও ভাড়া গুনতে হয়েছে প্রায় ৭-৮গুন বেশি।রবিবার সকাল থেকে সড়কের একেখান বাস স্ট্যান্ডে শত শত যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে শহর থেকে মিরসরাই, সীতাকুন্ড উপজেলায় অবস্থিত বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরীজীবী ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পায়নি। কেউ কেউ প্রতিষ্ঠানে যেতে পারলেও ৫০ টাকার ভাড়া ৩শ টাকা দিতে হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে ঘুরে দেখা গেছে, অনেকে গাড়ি না পেয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যস্থলে গেছে। বিভিন্ন বাজারের বাস ষ্ট্যান্ড গুলোতে মানুষের ঝটলা ছিল ছোখে পড়ার মত।উপজেলার সবচেয়ে বড় বাস স্ট্যান্ড বারইয়ারহাট পৌরসদরে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে যাত্রীদের ভিড়। কিন্তু কোন বাস ছেড়ে যায়নি।যাত্রী তাজুল ইসলাম, আরিফ চৌধুরী বলেন, আজকে সপ্তাহের প্রথম দিন, অফিসে তো যেতেই হবে। বাসা থেকে বেরিয়ে কোন সিএনজি অটোরিকশা পাচ্ছিলাম না। পরে দ্বিগুণ ভাড়ায় এ সিএনজিটি নিয়ে একেখান যাচ্ছিলাম। মাঝখানে মোটরসাইকেলবাহী ৩ পরিবহণশ্রমিক গাড়িটি থামিয়ে দিলো এবং না যেতে বাধ্য করলো। আন্দোলনের নামে দেশে  নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক হয়েছে, প্রশাসনের এবার এসব আন্দোলন থামানো দরকার বলেও মন্তব্য করেন তারা। পরে পায়ে হেঁেট সিটি গেণট এসে ৩শ টাকা করে একটি গাড়ি যোগে বারইয়ারহাট এসেছি। অথচ বারইয়ারহাট যেতে ভাড়া লাগে ৮০ টাকা।চট্টগ্রাম জেলা বাস মিনিবাস হিউম্যান হলার মালিক সমিতির সভাপতি রফিক উদ্দিন জানান বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশ যেখানে আমাদের নিরাপত্তা দেবে সেখানে, উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সীদ্ধান্ত অনুসারে আমরা সড়কে গাড়ি চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছি।’
খুলনা অফিস : নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে সারাদেশের মতো খুলনায়ও আন্দোলন করছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এতে মহানগরজুড়েই সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। গতকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ির মোড়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত প্লাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা শহর।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও এর বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে নৌ-মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান তারা।
শিববাড়ির মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ায় আশপাশের সব সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রিকশা কিংবা হেঁটে শিববাড়ির মোড় বাদ দিয়ে অন্য রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন অনেকে।
রোববারও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখেছেন। তবে, আজ কোনো স্কুল কিংবা কলেজের শিক্ষার্থী নয়, আন্দোলন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা জিলা স্কুলসহ বেশ কিছু স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও আন্দোলনে দেখা গেছে।
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা শিববাড়ির মোড়ের দিকে আসার পথে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় তাদের প্রতিহত করতে কয়েকশ’ পরিবহন শ্রমিক অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের বিশাল মিছিল দেখে তারা চলে যান।
এছাড়া সকাল থেকে শিববাড়ি মোড়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের বিশাল মিছিল দেখে তারাও কেটে পড়েন। যদিও স্কুল শিক্ষার্থীদের শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বাধায় পন্ড হয়ে যায়।
শিববাড়ি মোড় এলাকায় সকালে জল কামান নিয়ে শতাধিক পুলিশ ও র‌্যাব অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবস্থানে তারা কোনো বাধা দেয়নি।
সকালে অবস্থান নেয়া কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে তা প্রতিরোধে আমরা এখানে এসেছিলাম।
এদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই পাল্টা জবাব হিসেবে সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে না যাওয়ায় খুলনায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। গতকাল রোববার মহানগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালসহ শিববাড়ির মোড় ও রয়েল মোড় থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস চলাচল করছে না।
প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট পরিবহন ব্যবহার করে যাত্রীরা গন্তব্যে যাচ্ছেন। এর জন্য তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
আব্দুর রহিম নামে এক যাত্রী বলেন, দুইদিন ধরে ঢাকায় যাওয়ার জন্য কাউন্টারে এসে খোঁজ নিচ্ছি কবে বাস ছাড়বে। কিন্তু কেউ সঠিক উত্তর দিতে পারছে না। তিনি জানান, ঢাকায় তার জরুরি কাজ আছে। সময় মতো না যেতে পারলে ক্ষতি হয়ে যাবে।
খুলনা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোগেণ সোনা বাস চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববারও খুলনা থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাউন্টারে অলস সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে। বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের ভেতরে রাখা রয়েছে। কবে নাগাদ বাস চলবে এমন প্রশ্নের জবাবে খুলনার স্থানীয় কাউন্টার ম্যানেজার ও শ্রমিক নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীরা যে মুহূর্তে তাদের আন্দোলন বন্ধ করবে। সে মুহূর্ত থেকেই আবারো নিয়মিত বাস চলাচল শুরু করবে।
সিলেট ব্যুরো : নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জবাবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। রোগী ও সিলেটে আসা ব্যবসায়ীসহ যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌছেছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি নাই বললেই চলে। অনেকে সারাদিন দোকান খোলা রেখে খালি হাতে বাসায় ফিরতে হচ্ছে। গতকাল রোববারও সকাল থেকে সিলেটের সড়কে কোনো বাস চলাচল করছে না। সিএনজি ও অটোরিক্সাও পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ জরুরী দরকারে প্রাইভেট কার ও সিএনজি (ফোরষ্টক) বের হলে নগরীর চন্ডিপুল, হুমায়ূন চত্বর, জিতু মিয়ার পয়েন্টসহ বিভিন্ন মোড়ে অতি উৎসাহী কিছু শ্রমিক গাড়ী ভাংচুর করছেন। যাত্রী সাধারণরাও তাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে দেখা যায়। ফলে লক্ষ মানুষের এই নগরীতে ফোরষ্টক না পেয়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া দিয়ে অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে মানুষকে। আবার মানুষের তুলনায় রিকশা কম বলেই সবাই তা পাচ্ছেনও না। অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্য স্থলে যেতে হচ্ছে।
গত ২৯ জুলাই রোববার ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সড়কে নামে শিক্ষার্থীরা। এরপর বৃহস্পতিবার সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মানার ঘোষণা দিয়ে তাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানানোর পর অঘোষিত ধর্মঘট শুরু করে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।
পরিবহণ মালিকরা বলছেন, গাড়ি ভাংচুরের কারণে নিরাপত্তা না থাকায় চালকরা বাস চালাতে চাইছেন না। শ্রমিকরা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে মালিকরা বাস চলাচল বন্ধ রাখতে বলেছেন। এ ব্যাপারে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাস চলাচল শুরু হবে।
 ভোগান্তির স্বীকার আব্দুল জলিল জানান, বাস বা সিএনজি না পেয়ে মোগলাবাজার থেকে তাকে অটোরিকশায় করে বন্দরবাজারে আসতে হয়েছে। ভাড়াও ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ।
নগরীর বাস টার্মিনাল কদমতলী থেকে জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, সুনামগঞ্জ, জগণœাতপুরের দিকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। ওইসব এলাকা থেকে কোনো বাস আসেনি।
 র্কোট পয়েন্ট থেকে হুমায়ুন চত্বর হয়ে বিভিন্ন রুটে যেসব টাউন বাস চলে তাও বন্ধ। আম্বরখানা থেকে সালুটিকরের উদ্দেশে কোনো অটোরিকশা ছাড়ছে না।
নগরীর ধোপাদিঘীর পাড় থেকে বটেশ্বর, জৈন্তাপুর ও টুলটিকর রুটে কোনো লেগুনা, অটোরিকশা চলছে না। ওই সব গন্তব্য থেকে বন্দরবাজারের দিকেও কোনো লেগুনা, অটোরিকশা চলাচল করছে না।
সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ সামছুল হক মানিক দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, “আমরা জনগণকে দুর্ভোগ থেকে বাঁচাতে গাড়ি ছাড়তে প্রস্তুত আছি। কিন্তু সড়কে আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিবে কে? নিরাপদ বোধ করছি না আমরা। সিলেটসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলাতেও ছাত্ররা অবরোধ করে রেখেছে। বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে, শ্রমিকরা আহত হয়েছে।
মাদারীপুর সংবাদদাতা : নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী শাজাহান খানের নিজ জেলা মাদরীপুরেও চলছে চর্তুথ দিনের মতো অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট। রবিবার সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ রুটসহ দূরপাল্লার সকল পরিবহন বন্ধ রেখে সড়কে অবস্থান করেছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। এসময় রিক্সা, অটোভ্যানসহ হালকা যানবাহন চলাচল করতে দেখা গিয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ রুটসহ অন্য পরিবহন বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা দাবি করে আরো জানান, দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রী ও শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খানের সম্পূক্ত না থাকা সত্বেও তার পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। তারপরে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দাবি অনুসারে ক্ষমাও চেয়েছে। তারপরেও তৃতীয় কোন শক্তির জন্যে ঢাকাতে পরিবহন খাতে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব কারণেই অনির্দিষ্টকালের জন্যে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন বন্ধ থাকারও হুমকি দেন মালিক-শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকরা অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে দাবি করেন। এদিকে সব ধরণের পরিবহন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
মাদারীপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ফাইজুল শরীফ জানান, ‘কেন্দ্রীয় ভাবে পরিবহনের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন বন্ধ থাকবে। আমাদের পরিবহনের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকরা। আমাদের এতে কিছুই করার নেই।’
দিনাজপুর অফিস : গতকাল রোববার তৃতীয় দিনের মতো দিনাজপুরে থেকে ঢাকাসহ দেশের সাথে সকল প্রকার দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, কোচ, ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারনে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। গত ৩ আগস্ট শুক্রবার সকাল থেকে দিনাজপুরের সাথে ঢাকাসহ সারা দেশে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিকে যানবাহন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন দিনাজপুর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া সাধারণ যাত্রীরা। বাস, ট্রাক বন্ধ থাকায় যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ইজিবাইক ও রিকশা চড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করছেন সাধারণ যাত্রীরা।
দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জানান, দিনাজপুর থেকে সারা দেশের সাথে সকাল প্রকার যানবাহন বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে যানবাহন চলাচল করবে না বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ