ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছাত্রদের দাবি না মানলে ৯-দফা ১-দফায় পরিণত হবে

স্টাফ রিপোর্টার : বাম গণতান্ত্রিক জোট কর্তৃক আয়োজিত পূর্বনির্ধারিত মতবিনিময় সভায় সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ছাত্রদের ৯-দফা মেনে নিন না হলে ৯-দফা ১-দফায় পরিণত হবে। মন্ত্রীসভা থেকে শাহজাহান খানকে অপসারণ করেন না হলে আপনাকেও ক্ষমতা ছাড়তে হবে।
গতকাল রোববার ‘ ভোটাধিকার নিশ্চিত এবং বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের প্রস্তাবনা’ নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট কর্তৃক আয়োজিত পূর্বনির্ধারিত মতবিনিময় সভায় রাজনীতবিদ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিকসহ বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে গত ২৯ জুলাই শহীদ রমিজউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের দুই ছাত্র রাজীব ও দিয়াসহ এ সময়কালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সড়কে নৈরাজ্যের অবসান, পরিবহন খাতে মাফিয়াতন্ত্রের অবসান, উদ্ধত মন্ত্রী শাহজাহান খানের মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণ দাবি করা হয়। সারাদেশে আন্দোলনরত স্কুল-কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান, মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়জুল হাকিম, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ স্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর হোসেন দুলাল, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক।
ড. শাহদীন মালিক বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে নিয়ে আসতে হবে। তিনি সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদপূর্তির আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপর জোর দিন। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন দেশবাসীর আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস বলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর নির্বাচিতদের হলফনামা পুংখানুপুংখভাবে তদন্ত করে মিথ্যা বয়ান থাকলে নির্বাচন বাতিল করে দিতে হবে। তিনি নৌমন্ত্রী শাহজাহান খনের পদত্যাগ দাবি করেন।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে হবে। পাশাপাশি আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনের প্রয়োজনে নির্বাচন করতে পারি; আবার প্রয়োজনে নির্বাচন বয়কটও করতে পারি।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ নেই সংসদ ভেঙে দিতে হবে। বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।
মিজানুর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশে চলছে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকারের অধীনে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার আগেই বিদ্যমান সংসদ ভেঙে দেয়া যেতে পারে। একইভাবে বিদ্যমান সংসদের সদস্যদের নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে। তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংশোধনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতির শুদ্ধতার জন্যে সংগ্রাম করতে হবে।
সাইফুল হক বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারে লড়াই কেবল নির্বাচন কেন্দ্রিক সংগ্রাম নয়। এ লড়াই দীর্ঘমেয়াদী। এর মধ্য দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতন্ত্রায়নকে এগিয়ে নিতে হবে।
মূল প্রবন্ধে ১৬ দফা সুপারিশমালায় বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং রাজনৈতিক দল ও সমাজের অপরাপর অংশের মানুষের মতামত নিয়ে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি’ সরকার গঠন করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভেঙে দিয়ে নতুন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। জাতীয় সংসদ ‘জাতীয়ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। সকল নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশিশক্তির ব্যবহার, প্রশাসনিক কারসাজি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির যেকোন অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। প্রার্থীদের জামানত হ্রাস করতে হবে। বাধ্যতামূলকভাবে ভোটার তালিকার সিডি ক্রয়ের বিধান প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচনী ব্যয় ৩ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোটে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ