ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছাত্রলীগের বর্বর হামলার শিকার সাংবাদিকরা

স্টাফ রিপোর্টার : নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের অষ্টম দিনেও আক্রান্ত হয়েছেন সংবাদকর্মীরা। গতকাল রোববার আক্রান্ত হয়েছে নাগরিক টিভির একটি গাড়ি। নাগরিক টিভি সূত্রে জানা যায়, ধানমন্ডির সামনে থাকা নাগরিক টিভির একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন যুবক। পরে জানাযায়, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। হামলায় আহত হয়েছেন গাড়িতে থাকা চ্যানেলটির ক্যামেরাপারসন রিপন হাসান, গাড়ি চালক গোলাম মোর্শেদ এবং রিপোর্টার আবদুল্লা সাফী। নাগরিক টেলিভিশনের রিপোর্টার আবদুল্লা সাফী জানান, আমাদের গাড়ি সিটি কলেজের সামনে ইউটার্ন নিচ্ছিল, তখন একদল যুবক এসে আমাদের গাড়িতে হামলা করে। এক পর্যায় তারা বড় বড় ইটের টুকরো ছুড়ে ভাঙচুর চালায়।
সাফী আরও জানান, আক্রমণকারীদের গায়ে ইউনিফর্ম ছিল, পরে আরেকদল ইউনিফর্ম পরা ছাত্র এসে তাদের উদ্ধার করেন এবং নিরাপদে সরিয়ে নেন। এদিকে এসোসিয়েট প্রেস (এপি)-এর ফটো সাংবাদিক এ. এম. আহাদও একই এলাকায় আক্রান্ত হন। জনৈক সিনিয়র ফটো সাংবাদিক হাবিবুর রহমান জানান, বেলা সোয়া একটার দিকে সেখানে থাকা সাংবাদিকদের উপরে হেলমেট মাথায় লাঠিসোটা ও রামদা নিয়ে একদল যুবক আক্রমণ করে। এতে এপি’র এ.এম আহাদ, প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক সাজিদসহ সেখানে থাকা আরও অনেকে আহত হন। এসময় আক্রমণকারীরা ফটো সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নেয় এবং তাদের এলোপাথাড়ি মারধর করে। হামলায় আহত এ এম আহাদকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আহমেদ দীপ্ত। আহত সাংবাদিক দীপ্ত ঢাকার এক বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি আছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ধানমন্ডি ১ (আড়ংয়ের সামনে) রড দিয়ে আঘাত হয়েছে তাকে। তার শরীরে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মিরপুরে দায়িত্ব পালনকালে একটি অনলাইন পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি গোলাম সামদানীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। মিরপুর ১০ গোলচত্বরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গোলাম সামদানী জানান, আন্দোলনরত ছাত্রদের লাঠিসোটা হাতে ছাত্রলীগ কর্মীরা ধাওয়া দেয়। সেই ছবি তুলতে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তার হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় মারে এবং তার আইডি কার্ড ছিঁড়ে ফেলে। কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে, মোবাইল কেড়ে নেয়, ছবি তোলার কারণে আমাকে গালাগালি করতে থাকে। মোবাইল কেড়ে নেয়, ছবি ডিলিট করে এবং মোবাইল ভাঙ্গতে উদ্যত হয়, যোগ করেন সামদানী। মিরপুর-১০ গোলচত্বরে বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও কেউ সহযোগিতা করেননি বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ