ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এখানে কোন ব্লেমগেম নেই

জাতীয় পত্র-পত্রিকায় এখন নিরাপদ সড়কের বিষয়টি প্রধান হয়ে উঠেছে। ঘরে-বাইরে সব জায়গায় এই বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। পরিবহণ খাতে বিশৃঙ্খলা নিয়ে বাংলাদেশের কিশোর শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে বিশ্বের ইতিহাসে তার নজির মিলবে না। তারা আঙ্গুল দিয়ে আমাদের অনেক কিছুই দেখিয়ে দিয়েছে। তারা যা দেখিয়েছে তা সবই সত্য, সেখানে কোন ব্লেমগেম বা মিথ্যে নেই। এখন প্রশ্ন হলো, উদ্ভূত এই পরিস্থিতি থেকে আমরা কি শিক্ষা নিতে সমর্থ হবো? করণীয় কি ঠিক করতে পারবো? শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরেছে। দেশের শিক্ষাবিদরা এবং সরকারপক্ষের লোকজনসহ প্রশাসকরাও শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন। এখন দেখার বিষয় হলো, সরকার ও কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিকতভাবে অগ্রসর হয়।
আমরা দেখেছি, সরকারের তরফ থেকে যেমন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোকে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকার করে তা পূরণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে, তেমনি ডিএমপি কমিশনার নিজেও স্বীকার করেছেন যে, তাদের অনেক ঘাটতি ও ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। তিনি আরো স্বীকার করেছেন যে, যেভাবে এত দিন চলছিল সেভাবে আর চরতে পারে না। তাহলে এখন তো পরিস্থিতি পরিবর্তনের মূল দায়িত্ব এসে পড়ে সরকার ও প্রশাসনের কাঁধে। তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিলে ছাত্রদের সড়ক ছেড়ে বাড়ি ফেরার পথ তৈরি হতে পারে।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পাশাপাশি লক্ষ্য করা গেছে প্রতিশোধের ধর্মঘট। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টা হিসেবে শ্রমিকদের রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। তারা বেআইনিভাবে অঘোষিত ধর্মঘটের পথ বেছে নেয়। তাদের প্রতিশোধের এই ধর্মঘটে সারা দেশের মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। অতীতেও পরিবহণ, মালিক-শ্রমিকরা ঘোষণা ছাড়া ধর্মঘট ডেকে দেশের মানুষকে দুর্ভোগে ফেলেছিল। অথচ মোটরযান আইন ও শ্রম আইনে এটা সম্পূর্ণ  অবৈধ। উল্লেখ্য যে, পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে আছেন সরকারের দুই মন্ত্রী ও এক নেতা। মূলত তারাই পরিবহণ খাতের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। অঘোষিত ধর্মঘটেও তাদের ইশারা ছিল বলে পত্রিকায় খবর মুদ্রিত হয়েছে। অবশ্য তাদের এই পরিকল্পনায় সরকারের সায় না থাকায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়া থেকে রেহাই পেয়েছে। এখন সরকারের উচিত ক্ষমতা ও দলের স্বার্থের চাইতেও দেশের স্বার্থকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া। সময়ের এই চাহিদা সরকার কতটা পূরণ করতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ