ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় লাখ টাকা ঘুষ না পেয়ে এক যুবককে নাশকতা মামলায় চালানের অভিযোগ

খুলনা অফিস : খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র সোনাডাঙ্গা মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক এসআই সোবাহানের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিকভাবে ধরে এনে নিরাপরাধ অনেক মানুষকে চাহিদামত টাকা দিতে না পারলে মাদকসহ নাশকতা মামলায় চালান দিচ্ছেন তিনি। অনেক আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ শোনা গেলেও সম্প্রতি সময়ে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মাদরাসা রোডের বাসিন্দা মো. আব্দুর রব খানসহ তার পরিবারের সদস্যরা এসআই সোবাহানের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন।
মো. আব্দুর রব খানের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, শুক্রবার রাতে বাড়ির সকলে রাতের খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে বাড়ির গেটে মোটরসাইকেলযোগে ৪/৫ জন লোক এসে ডাকাডাকি করেন। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে গেট খুলতেই তারা আমার ছেলে রাসেল খান (২৪) কে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। এ সময় তাদের পরিচয় জানতে চাইলে সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশ বলে পরিচয় দেয়। কি অপরাধে রাসেলকে ধরে নেয়া হচ্ছে তা জানতে চাইলে কিছুই বলতে চায়নি তারা।
পরে এসআই সোবাহান মোল্লা বলেন, তেমন কিছু না একটু তদন্তের বিষয়ে রাসেলকে দরকার তাই নিচ্ছি। এক পর্যায়ে স্বজনদের কাছ থেকে ধস্তাধস্তি করে রাসেলকে নিয়ে যায় তারা। রাতে স্বজনরা থানায় গেলে তাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন এসআই সোবাহান। তারা এত টাকা দিতে অস্বীকৃতি ও কি কারণে দিতে হবে এ ধররের প্রশ্ন করেন। এরপর তাদেরকে সকালে দেখা করার জন্য বলে চলে যান এসআই সোবাহান। শনিবার সকালে স্বজনরা থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন রাসেলকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর দায়ের হওয়া একটি নাশকতার মামলায় সন্দেহভাজন আসামী দেখিয়ে আদালতে চালান করা হয়েছে।
রাসেলের বোন কলেজ ছাত্রী নিশাত আরা সীমা জানান, রাতে আমার ভাইকে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সে সময় আমরা কারণ জানতে চাইলে পরিবারের নারী সদস্যদের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন তিনি। এ ধরনের ব্যবহারের বিচার চেয়ে  তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানান।
এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমতাজুল হক জানান, রাসেল নামে যে যুবককে আটক করা হয়েছিল সে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শহরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের সাথে তার যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ