ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আসাম পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : শুধু আসাম নয় বরং পুরো ভারতেই মুসলমানদের ক্রান্তিকাল চলছে। একটা ভীতিকর ও বৈরি পরিস্থিতির মধ্যেই তারা বসবাস করছেন। কথিত গোরক্ষার নামে নরহত্যা চলছে গোটা ভারতেই। উগ্রবাদী হিন্দুদের কাছে এখন মুসলমানদের জীবনের চেয়ে গরুর জীবনই বেশি মূল্যবান বলেই মনে হচ্ছে। দিল্লি জামে মসজিদের খতিব ঈমাম বোখারীর বক্তব্য তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের শান্তিপ্রিয় মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।
সম্প্রতি ভারতের কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিয়েছেন ঈমাম বোখারী। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ভারতের দাড়ি-টুপি থাকলেই টার্গেট করা হচ্ছে। গত সাত দশকের মধ্যে বর্তমান সময়ে মুসলমানরা সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। গোরক্ষার নামে কমপক্ষে ৬৪ জন নিরীহ মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসব প্রাণহানির দায় কি কেন্দ্র নেবে? তিনি কংগ্রেস সভাপতির কাছে তার প্রশ্ন রেখে বলেছেন, যেভাবে বিজেপি সরকার মুসলিমদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে তা প্রতিবাদযোগ্য।....
মূলত ঈমাম বুখারীর বক্তব্যেই মুসলমানদের বিষয়ে ক্ষমতাসীন বিজিপির অবস্থান ও  মুসলিমদের করুণ পরিণতির বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতে এসব কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং অতীতের ধারাবাহিকতা মাত্র। অতিসম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আসাম রাজ্যে নাগরিক তালিকার চূড়ান্ত খসড়া থেকে ৪০ লাখ লোকের নাম বাদ পড়ার পর তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এক সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আসামের মুসলমানদের রাষ্ট্রহীন করা হচ্ছে।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি নিয়ে মুসলমানদের অভয়বাণী শোনাচ্ছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর মতো আসামের প্রতিবেশি রাজ্যের অনেকেরই আশঙ্কা যে, আসামে অত্যাচারের মুখে পড়ে এই লাখ লাখ মানুষ পালাতে বাধ্য হবেন। পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, এতো বিপুল সংখ্যক মানুষকে ডিটেনশন সেন্টার বা আটক কেন্দ্রে রাখা সম্ভব নয়। আবার এদের কাউকেই বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোও যাবে না। রাতারাতি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য কেমন ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে সেটাই এখন প্রশ্ন। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় ও আসামের রাজ্য সরকারের কাছে এর কোন সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
আসামে নাগরিক তালিকা বা এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে ৪০ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এমনকি এসব বিপুল সংখ্যক মুসলমান স্বাধীন ভারতে এখন কিভাবে থাকবেন তার কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। অবশ্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘কেউ কেউ অযথা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন, অপপ্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই- ভয়ের কোনো কারণ নেই!’ কিন্তু ভারতীয় মন্ত্রীর কথায় কেউই আস্বস্ত হতে পারছেন না বরং আসামের মুসলমানরা এখন মারাত্মক শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই বসবাস করছেন। আসাম লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দল বিষয়টি নিয়ে বেশ সোচ্চার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। মমতা আশঙ্কা করছেন, আসাম থেকে এবার এই মানুষগুলোকে বিতাড়নের চেষ্টা হবে।
জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘তাদের ওপর যে কী অত্যাচার চলবে, আর কী হবে আমরা জানি না। কিন্তু সেটা চিন্তা করেই আমরা খুব বিচলিত। আসলে দেশে থেকে যারা আজ দেশেই রিফিউজি হয়ে গেল, তারা তো আমাদেরই ভাইবোন, তাই আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’ ‘এটা আসলে বাঙালি খেদাও চলছে। আর শুধু বাংলাভাষীরাই বা কেন, বিহারি খেদাওতো চলছে। এতে সবচেয়ে বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। কারণ পুশব্যাক যদি করতে চায়, আর বাংলাদেশ তাদের নিতে না চায়, তাহলে এই লোকগুলো যাবে কোথায়?’ প্রশ্ন রাখেন মমতা।
তার মতে, ‘এত বড় একটা জিনিস করার আগে সরকার কি একবারও ভেবেছে এই ৪০ লাখ লোক কোথায় যাবে?’ আসলে মমতা ব্যানার্জীর অনুমানই হয়তো সত্য হতে যাচ্ছে। কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার বারবার আস্তত্ব করলেও তারা যে এক সুগভীর পরিকল্পনায় এগুচ্ছেন এবং পরিণতিতে তা বাঙ্গাল খেদাও অভিযানে রূপ নেবে তা বাংলার মূখ্যমন্ত্রী মমতার বক্তব্যে খুবই স্পস্ট। হয়তো বাস্তবতাও সেদিকেই মোড় নিতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও পর্যন্ত সরকারি নীতি খুবই অস্পষ্ট। এমনকি সরকার কী করবে নিজেও জানে কিনা সন্দেহ! তাদের প্রস্তুতি বলতে এটুকুই যে এই লোকগুলোকে হয়তো ডিটেনশন সেন্টারে আটক করা হবে। কিন্তু বাস্তবতার সাথে তা মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
মূলত আসাম রাজ্যে লাখ লাখ মানুষের পরিচয় ও নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পিতভাবেই জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি ভারতের এমন একটি রাজ্য যেখানে বসবাস করে বহু জাতির মানুষ। এসব অধিবাসীর মধ্যে রয়েছে বাঙালি, অসমীয়া-ভাষী হিন্দু এবং বহু নৃতাত্ত্বিক গোষ্টীর শংকর। আসামের মোট জনসংখ্যা তিন কোটি ২০ লাখ। তার এক তৃতীয়াংশ মুসলিম। ভারত শাসিত কাশ্মীরের পর এই রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বসবাস। কিন্তু ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার এসব মুসলিমকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভারতীয় নাগিরক মনে করছেন না। আর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই অন্যায় ও অযৌক্তিক অবস্থানের বিরুদ্ধে আসামের মুসলমানরা দীর্ঘ সংগ্রামও করে আসছেন। প্রায় ছয় বছর ধরে চলা এক আন্দোলনের পর প্রতিবাদকারীদের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি চুক্তি হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চের পর যারা কাগজপত্র ছাড়া আসামে প্রবেশ করেছে তাদেরকে বিদেশি বলে বিবেচনা করা হবে।
সম্প্রতি বিতর্কিত এনআরসি  খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ হয়ে  অবৈধ বিদেশি বনে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন যেমন অবৈধ অভিবাসী পিতামাতার কাছ থেকে তাদের সন্তানদের আলাদা করে অন্য জায়গায় রেখেছিলেন তেমন ঘটনা ঘটেছে আসামেও। নাগরিক পঞ্জীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর চল্লিশ লাখ মানুষ রাতারাতি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ায় এই রাজ্যে সহিংসতারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে মানবাধিকারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে না।
বস্তুত, আসাম রাজ্য এখন শাসন করছে  হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি। দলটির পক্ষে অতীতেও ঘোষণা করা হয়েছে যে অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদেরকে এই রাজ্য থেকে বের করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রতিবেশী বাংলাদেশ যে এতে কিছুতেই রাজি হবে না সেটা নিশ্চিত। এর ফলে ভারত এখন নতুন একদল রাষ্ট্রহীন মানুষ তৈরি করছে, নিজের দেশের ভেতরেই জন্ম দিয়েছে অভিনব এক সঙ্কটের। যা কালের পরিক্রমায় ভারতে জন্য আত্মঘাতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আসামের মুসলমানদের পরিকল্পিতভাবে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ায় যারা বহু বহু বছর ধরে আসামে বসবাস করছেন, হঠাৎ করেই তারা তাদের ভোটাধিকার হারালেন। এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে যে এখন তারা তাদের জমি জমা ও বাড়িঘরও হারাতে পারেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা যখন সারা বিশ্বের প্রায় দশ কোটি রাষ্ট্রহীন মানুষের সঙ্কটের অবসানের চেষ্টা করছে তখন আসামে নতুন করে এই ৪০ লাখ মানুষের রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার বিষয়টি ভারতের জন্যেই বিব্রতকর। হয়তো এক সময় তা তাদের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।
এবিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে তারও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের পক্ষে বলা হচ্ছে, এনআরসি তালিকায় যাদের নাম নেই তাদেরকে কোন ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে না। নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্যে তাদেরকে আরো একবার শেষ সুযোগ দেওয়া হবে। একই সাথে সরকার বড় আকারের একটি ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা করছে। শেষ পর্যন্ত যারা তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবেন না তাদেরকে রাখা হবে এই ক্যাম্পে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের নাম তালিকায় নেই তারা আপিল করতে পারবেন বিশেষ আদালতে একথা সত্য। কিন্তু এই প্রশ্নের সমাধান হতে সময় লেগে যেতে পারে বছরের পর বছর, হয়তো কয়েক দশকও লেগে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর ফলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। সংখ্যালঘুদের মধ্যে তৈরি হবে আতঙ্ক। বাংলাদেশও নতুন শরণার্থীর আশঙ্কা করতে পারে। যা আসামের বাংলা ভাষী মুসলমানদের মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে ঠেলে দেবে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ হলো, দেশটির অন্যান্য রাজ্যে যে হারে জনসংখ্যা বেড়েছে, তারচেয়েও বেশি হারে বেড়েছে আসাম রাজ্যে। এর ফলে কিছু সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে প্রতিবেশি বাংলাদেশ থেকে লোকজন এসে এই রাজ্যে উঠেছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময়ও বহু মানুষ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসামে পালিয়ে  এসেছে। এর ফলে আসামে স্থানীয় লোকজনের জমির মালিকানা কমে গেছে, জমির আকার ছোট হয়ে এসেছে এবং বেড়েছে ভূমিহীন মানুষের সংখ্যাও। কিন্তু তাদের ধারণা অযৌক্তিক ও অমূলক বলেই মনে করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বা তার নিকট অতীতে বাংলাদেশ থেকে কোন অভিবাসীই আসামে আসেনি বরং অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবিভক্ত ভারতে নগণ্যসংখ্যক মুসলমান পূর্ব বাংলা থেকে আসামে হিজরত করেছিলেন। আর তা কোন মানদ-ই অবৈধ নয়।
অভিজ্ঞমহল মনে করছেন,  ভারতের ক্ষমতাসীনা নির্বাচনী স্বার্থে আসামে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তার দলটি বলছে, অবৈধ হিন্দুরা সেখানে থাকতে পারবে কিন্তু অবৈধ মুসলিম বাসিন্দাদেরকে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে। মূলত তারা সাম্প্রতিক বিভক্তি সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছে।
বস্তুত, আসামে যারা এনআরসি তালিকাভুক্ত হতে পারছেন না, তাদের সাধারণভাবে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বাংলাদেশে তাদের ফেরত পাঠানোর যে কোনো সম্ভাবনাই নেই। স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর  মতে, ‘বাংলাদেশ পরিষ্কার বলে দিয়েছে এরা তাদের লোক নয়, তারা নিতেও পারবেন না। অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে ভারত সরকারও বন্ধু-প্রতিম বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে এনআরসি নিয়ে তারা এমন কিছু করবে না যাতে বাংলাদেশের সমস্যা হয়। ফলে আমরা তাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না- এটাই পরিষ্কার কথা!’
ধারণা  করা হচ্ছে, প্রথমে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে পরে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। এতে ১০-১২ বছর হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু পরে এরা অ্যামনেস্টি বা সাধারণ ক্ষমা পেয়ে ভারতের নাগরিক হয়ে যাবেন। আবার, তাদের ধীরে ধীরে আসাম থেকে সরিয়ে অন্য সব রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এভাবে এই সমস্যার চাপটা একা আসামকে সামলাতে হবে না। তবে এগুলো সবই সম্ভাবনা মাত্র। আর তার বাস্তবায়নে অনেক সময়ও লাগবে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল তালিকা প্রকাশের পর পরই জানান, আসাম তার শান্তি ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য এখনো বজায় রাখবে বলেই তিনি আশাবাদী। ‘পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাই আমরা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলব। তারা যেভাবে যেভাবে বলবেন, আমরাও সেই অনুযায়ি চলব’ বলেন তিনি।
আসামে এনআরসি তৈরির উদ্যোগ যে তাদের নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই- কেন্দ্রের ও আসামের বিজেপি সরকার বারবার সে কথা বলারই চেষ্টা করছে। তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষদের কী হয়ে তা নির্ধারণের দায়ও যে তারা এখন শীর্ষ আদালতের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন সেটা পরিষ্কার।
মূলত ভারতের ক্ষমতাসীনরা পরিকল্পিতভাবেই আসাম পরিস্থিতিকে জটিল হতে জটিলতর করে তুলেছে। তারা কথিত এনআরসির নামে আসামের মুসলমানদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাদের রাষ্ট্রহীন করছে। সরকারের পক্ষে যদিও বলা হচ্ছে যে, তালিকায় বাদ পড়াদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু অভিজ্ঞমহল মনে করছেন যে তা সরকারের প্রাথমিক চাপ সামলানোর কৌশল মাত্র। আসামের মুসলামনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও পরিণতিতে তাদেরকে যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মত মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করা হবে এতে খুব একটা সন্দেহ করার সুযোগ থাকছে না।
কারণ, ভারতের ক্ষমতাসীন মুসলিমমুক্ত ভারত গড়ার পরিকল্পনায় নিয়েই অগ্রসর হচ্ছে। সম্প্রতি বিজিপির এক নেতা ঘোষণা করেছেন যে, মুসলমানরা পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে তাদের গণধোলাই কখনোই বন্ধ হবে না। এতে তাদের উদ্দেশ্য খুবই পরিস্কার। আর বাংলাদেশ আসামের মুসলমানদের গ্রহণ  করতে না চাইলেই যে তারা পুকব্যাক করবে না এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। কারণ, ভারত চাইলে তা ঠেকানোর মত সামর্থ আমাদের নেই। তাই আসাম সঙ্কট যে আগামী দিনে জটিল হতে জটিলতর হতে যাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ