ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে পাচার কাপ্তাইয়ে বাঁশ শিল্প হুমকির মুখে

কাপ্তাই সংবাদদাতা : জুন, জুলাই ও আগস্ট তিন মাস সবধরনের বাঁশ আহরণ, কর্তন ও বিপণন বন্ধে বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাচার চলছে। বন্ধ মৌসুমে কাপ্তাইয়ে বাঁশঝাড় উজার থেমে নেই। বাঁশের কচি মাথা সবজি হিসেবে স্থানীয়ভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে। সাত-আটটি কচি বাঁশ থেকে এক কেজি সবজি ৩০-৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। একটি পরিপক্ক বাঁশ বিক্রি করলে কমপক্ষে ৩০-৫০ টাকা আয় হয়। নিষেধাজ্ঞাকালীন মৌসুমে বাঁশের দাম বেশি থাকায় সরকারি ও নিজস্ব বনায়ন থেকে আহরণ ও বিক্রি করা হচ্ছে। বংশ বিস্তারের মৌসুমেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না। কাপ্তাই উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার কারিগর বাণিজ্যিক ও সৌখিন পেশা হিসেবে বেতের আসবাবপত্র তৈরি করেন। বাঁশের তৈরি বিভিন্ন প্রকারের আসবাবপত্র রাইখালী বাজার, কাড়িগরপাড়া, বড়ইছড়ি বাজার, কাপ্তাই জেডিঘাট, চিৎমরম বাজারে হাটের দিন বিক্রি হয়। ওয়াগ্গা, চিৎমরম, কাপ্তাই, রাইখালী ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে শতশত উপজাতীয় পরিবার নিজেরা ব্যবহারের জন্য বাঁশের আসবাবপত্র তৈরি করেন। রাইখালী ইউনিয়নের মংসাই মারমা বলেন, বাঁশ একটি উপকারী উপকরণ। তাঁর প্রায় এক একর জায়গায় বাঁশ বাগান রয়েছে। প্রতিবছর ৫০-৬০ হাজার টাকার বাঁশ বিক্রি করেন। গত কয়েক বছর আগে বাঁশের মড়ক, ফুল আসা ও ইদুর বন্যার কারনে লক্ষ লক্ষ বাঁশ নষ্ট হয়। চিৎমরম বড়পাড়ার গৃহবধু ক্যাংমা মারমা জানান, বাঁশ বেতের তৈরি উপকরণ স্থানীয়দের মাঝে খুবই জনপ্রিয়। বাঁশের মাচাং ঘর, ছাউনি, বেড়া, দোলনা, জুড়ি, লাই, তুরুম, বাঁশি, যোগাযোগ কাজে সাঁকো, সেতু, কৃষিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে বাঁশের ব্যবহার হয়। রাইখালীর বিষু তংচংগ্যা বলেন, গৃহস্থালী কাজের জন্যে বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উৎসব, পালা, পার্বণে বসার উপকরণে ছিল বাঁশের তৈরি চাটাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ