ঢাকা, সোমবার 6 August 2018, ২২ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দিনাজপুরে ইটভাটা স্থাপনে আইন উপেক্ষিত কৃষি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা: ইট পোড়া আইনকে উপেক্ষা করে দিনাজপুরের ১৩ টি থানায় গড়ে উঠেছে ইট ভাটা। জেলার কৃষি ফসল উৎপাদনের ৩ ফসলি কৃষি জমি ভাটা নির্মান কাজে ব্যবহার করে টপ সয়েল (উর্বর মাটি) ও মূল্যবান কাঠ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে ইট পুড়ে ফায়দা লুটছে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে সংরক্ষিত বনের জমি, ঘন সবতি এলাকা, বিভিন্ন ফলদ বাগান সংলগ্ন এলজিইডি’র পাকা রাস্তার পার্শ্বে নতুন করে ইট ভাটা স্থাপনের নির্দেশনা না থাকলেও কোনভাবেই অবৈধ নির্মিত ইট ভাটার লাগাম টেনে ধরতে পারছে না প্রশাসন। কোন জমিতে ইট ভাটা নির্মান করা যাবে এ ধরনের নির্দেশনা থাকলেও এ আইন দেখবে কে? প্রথমেই ইট ভাটা স্থাপন করতে গেলে প্রয়োজন হয় জমির। কৃষি অধিদপ্তর থেকে গ্রহণ করা হয় জমির শ্রেনীর প্রত্যয়ন। যেখানে ভাটা স্থাপন করা হবে সেই জমিটি কোন ধরনের, পতিত না ফসলী। স্ব-উদ্দ্যেগেই ভাটা ব্যবসায়ীরা নির্মান করেন এ স্থাপনা। দুই মাস ধরে চলে কাঁচা ইট প্রস্তুতির কাজ। এরপর ভাটা তৈরি করে পোড়ানো হয় ইট। জেলার বেশিরভাগ ইট ভাটায় অনুমোদন, পরিবেশ অধিদপÍরের ছাড়পত্র না থাকলেও দেদারছে ইট পোড়ার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। এলাকার কৃষকেরা অভিযোগ করে জানান- ধানের জেলা দিনাজপুরে এখন ইট ভাটা স্থাপনের প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। ইট ভাটার কালো ধোঁয়া পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ফল বাগান ও কৃষি ফসল। এদিকে ইট পোড়ার মৌসুম আসতে না আসতেই নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরে রামপুর বাজার হতে পূর্বে গাজীপুর এলাকায় তিন ফসলি ও কৃষি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করছে ইটভাটা। নির্মাণাধীন ভাটাটি কার্যক্রম চলতে থাকলে নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মশিউর রহমান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ওই ভাটা ভেঙ্গে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আইন অমান্য করে যে বা যারা যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন ইটভাটা নির্মাণ করা হলে তা গুড়িয়ে দেয়া হবে। এখনি বন্ধ করা না হলে ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুরের কৃষি ভান্ডার খ্যাত কৃষি উর্বর জমি নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন হ্রাস পাবে বলে উৎপাদনমুখী কৃষকেরা জানান। এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু রেজা আসাদুজ্জামান জানান, কৃষি তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এছাড়াও তার দপ্তর থেকে তিনি যোগদানের পর কোন ইটভাটাকে অকৃষি জমি হিসেবে প্রত্যয়ন দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে ওই অভিযানে উপস্থিত থাকা সদর বিট কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার জানান, অভিযানে ৩০ ফিট চিমনি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চলতি বছরে উন্নত প্রজাতির বিভিন্ন আমবাগানে আম চাষ করে ঝুকে পড়েছে শত শত বেকার যুবক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ