ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইস্ট ওয়েস্ট-নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর আফতাবনগর ও বসুন্ধরা গেট এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। একই সময় সরকারপন্থী সন্ত্রাসীরা লাঠিশোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ।

শনিবার জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকালে এ সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের সামনে জড়ো হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার জন্য টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে জানান, পুলিশের নিক্ষেপ করা টিয়ারশেল ক্যাম্পাসের ভেতরেও পড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি হেলমেট পড়া আক্রমণকারীরা ক্যাম্পাসের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে জানান ওই শিক্ষক।

ক্যাম্পাসের ভেতরে আশ্রয় নেয়া শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শিক্ষার্থীরাও হামলাকারীদের উদ্দেশ্যে ইট ছুড়ে মারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী জানান, পুলিশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পেটানো ও কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থী, পুলিশ ও দুর্বৃত্তদের মাঝে দুপুর ২টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা গেট এলাকায় জড়ো হলে তাদের সাথে পুলিশ ও আক্রমণকারীদের সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার জন্য টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং বহিরাগত দুর্বৃত্তরা লাঠি নিয়ে হামলা চালায়।

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগের দাবিতে দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

জানা গেছে, সেখানে সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগের বেশ কিছু সদস্য সকাল ১০টার দিকে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যাম্পাস ঢুকতে বাঁধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র হৃদয় ইসলাম বিবিসিকে বলেছেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে। ভাঙচুর করেছে।

পরে পুলিশ বেশ কয়েক দফা কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে।

"সকাল সাড়ে দশটার দিকে হাঙ্গামা শুরু হয়। মনে হয়, গতকাল ছাত্রলীগের একটি মিছিলকে ধাওয়া করার ঘটনার বদলা নিতে এই হামলা করা হয়েছে," বলেন হৃদয় ইসলাম।

বেলা তিনটার দিকে তিনি জানান, হাজার খানেক ছাত্র-ছাত্রী ক্যাম্পাসে আটকা পড়ে আছেন, ভয়ে বেরুতে পারছেন না।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ