ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফরটা শেষ পর্যন্ত ভালোই কাটল টাইগারদের। শুরুটা ভালো না হলেও শেষটা হয়েছে দারুণ। এই সফরে টেস্টে না পারলেও ওয়ানডের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতেছে বাংলাদেশ। গতকাল ফ্লোরিডার লডারহিলে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশ বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। আর এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলো সাকিবরা। ফলে ২০১৫ সালের পর আবারো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। এটা দ্বিতীয়বারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। আর নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে পঞ্চমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। ২০১১ সালে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচের সিরিজ জিতেছিলো টাইগাররা। গতকাল প্রথমে ব্যাট করে লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৪ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৭.১ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান করার পর বৃষ্টি নামে। ফলে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ১৯ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। ম্যাচসেরা হয়েছেন লিটন দাস। আর সিরিজসেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান। এর আগে ওয়ানডে সিরিজটিও ২-১ ব্যাবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। গতকাল শেষ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক সাকিব। আর ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবাল শুরুটা করে ঝড়ের গতিতে। ফলে প্রথম ৪ ওভারেই বাংলাদেশ করে ৫৬ রান। এ সময় লিটনের  রান  ১২ বলে ৩৫  এবং  তামিমের  ১২ বলে ২১। শুরুটা উড়ন্ত করার পর পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে  কার্লোস ব্র্যাথয়েটের শিকার হয়ে মাঠ ছাওেপেনার তামিম। ফলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৩ বলে ২১ রানেই থামতে হয় থাকে। তামিমের বিদায়ে তিনে মাঠে নেমে বরাবরের মতো ব্যর্থ ছিলেন সৌম্য সরকার। বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ৪ বলে ৫ রান করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। এরপর চার নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে লিটনের সাথে জুটি বাঁেধন মুশফিকুর রহিম। এ সময় লিটনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাওয়ার প্লে’তে ৭১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। পাওয়া প্লে শেষ হবার পর দলের স্কোর বড় করার পথেই হাটচ্ছিলেন লিটন ও মুশফিক। কিন্তু জুটিতে ৩১ রান আসার পর বিচ্ছিন্ন হতে হয় তাদের। ১৪ বলে ১২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান মুশফিক। তবে কেসরিক উইলিয়ামসের বলে এ্যাশলে নার্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে লিটন দাস দলের পক্ষে করেন সর্বোচ্চ ৬১ রান। টি- টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া লিটন দাস ৩২ বল মোকাবেলা করে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা নিজের ইনিংসটি সাজান। ১১তম ওভারে দলীয় ১০২ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে লিটন ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন অধিনায়ক সাকিব ও মাহমুুদুল্লাহ রিয়াদ। রান তোলার গতি ধরে রেখে স্কোর বোর্ডকে শক্তপোক্ত করছিলেন তারা। তবে ১৬তম ওভারের শেষ বলে থামতে হয় সাকিবকে। ২টি চারে ২২ বলে ২৪ রান করেন সাকিব। দলনেতা যখন ফিরেন তখন দলের স্কোর ১৪৬। ইনিংসে ৪ ওভার তখন বাকী ছিলো। এ অবস্থায় শেষ ৪ ওভারে ৩৮ রান যোগ করেন মাহমুুদুল্লাহ ও সাত নম্বরে নামা আরিফুল। ফলে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৪ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে পঞ্চম ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। মাহমুদুল্লাহ ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ২০ বলে অপরাজিত ৩২ ও আরিফুল ১টি চারে ১৬ বলে অপরাজিত ১৮ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও কেমো পল ২টি করে উইকেট নেন। তবে জয়ের জন্য ১৮৫ রানের টার্গেট খেলতে ভালো শুরুর পথেই যাচ্ছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু উদ্বোধনী জুটিতে ২৬ রান আসার পর বিচ্ছিন্ন হতে হয় ক্যারিবীয়দের দুই ওপেনার চাঁদউইক ওয়ালটন ও আন্দ্রে ফ্লেচারকে। ৬ রান করা ফ্লেচারকে শিকার করেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। দ্রুত থামতে হয় ওয়ালটনকেও। নাজমুল ইসলাম তার প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে আঙ্গুলে ব্যাথা পেয়ে মাঠ ছাড়লে বাকী বল শেষ করার জন্য আক্রমণে আসেন মিডিয়াম পেসার সৌম্য। ঐ ওভারের পঞ্চম বলেই ওয়ালটকে তুলে নেন সৌম্য। ১৯ রান করেন ওয়ালট। ৪ রানের ব্যবধানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২ উইকেট তুলে নেয়া বাংলাদেশ, দ্রুতই তৃতীয় সাফল্য পেয়ে যায়। তিন নম্বরে নামা মারলন স্যামুয়েলসকে বোল্ড করে বাংলাদেশের হাতে ম্যাচের লাগাম দিয়ে দেন সাকিব। ২ রান করেন আউট হন স্যামুয়েলস। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ অবস্থায় দলকে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেন রোভম্যান পাওয়েল ও দিনেশ রামদিন। রান তোলার গতি বাড়িয়ে দলকে খেলায় ফেরার চেষ্টায় ছিলেন তারা। নিজেদের পরিকল্পনায় সাফল্যও পেয়েছিলেন তারা। কিন্তু পাওয়েল ও রামদিনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন। জুটিতে ৩৫ বলে ৪৫ রান আসার পর রামদিনকে থামান রুবেল। নামের পাশে ২১ রান রেখে আউট হন রামদিন। বেশিদূর যেতে পারেননি পাওয়েলও। ২০ বলে ২৩ রান করা পাওয়েলকে থামিয়ে দেন  মোস্তাফিজ। ফলে ৯৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কারন এসময় ৪১ বলে ৮৯ রান প্রয়োজন ছিলো ক্যারিবীয়দের। আস্কিং রান রেট ছিলো ১৩র কাছাকাছি। তবে এ অবস্থায় ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন হার্ড-হিটার আন্দ্রে রাসেল। উইকেটে গিয়েই ছক্কার নেশায় মেতে উঠেন তিনি। ফলে রানের গতি বেড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তবে অন্যপ্রান্ত দিয়ে কোনো সহায়তা পাচ্ছিলেন তারা রাসেল। তারপরও নিজের সেরাটা দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ফলে ম্যাচ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ১৮তম ওভারের প্রথম বলে বাংলাদেশকে চিন্তা মুক্ত করেন মোস্তাফিজ। রাসেলকে বিদায় দেন তিনি। ৬টি ছক্কা ও ১টি চারে ২১ বলে ৪৭ রান করেন রাসেল। তার বিদায়ের পরপরই বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাড়ায় ১৭ দশমিক ১ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৫ রান। এ সময় বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে পিছিয়ে ছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ইতি টানেন আম্পায়ার ও রেফারিরা। ফলে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে ম্যাচ হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের পক্ষে ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। এছাড়া রুবেল, হায়দার, সৌম্য, সাকিব ১টি করে উইকেট নেন। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮৪/৫ (লিটন ৬১, তামিম ২১, সৌম্য ৫, মুশফিক ১২, সাকিব ২৪, মাহমুদউল্লাহ ৩২*, আরিফুল ১৮*; বদ্রি ০/২৩, নার্স ০/৩১, রাসেল ০/৩৬, ব্র্যাথওয়েট ২/৩২, পল ২/২৬, উইলিয়ামস ১/৩২)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৭.১ ওভারে ১৩৫/৭ (ওয়ালট ১৯, ফ্লেচার ৬, স্যামুয়েলস ২, পাওয়েল ২৩, রামদিন ২১, রাসেল ৪৭, ব্র্যাথওয়েট ৫, নার্স ০*; আবু হায়দার ১/২৭, রুবেল ১/২৮, মুস্তাফিজ ৩/৩১, নাজমুল ০/২, সৌম্য ১/১৮, সাকিব ১/২২)

ফল: ডাকওয়ার্থ-লুইসে বাংলাদেশ ১৯ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: লিটন দাস

ম্যান অব দা সিরিজ: সাকিব আল হাসান। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ