ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সমুদ্রের ভাঙনে সৌন্দর্য হারিয়েছে কুয়াকাটা সৈকত

এইচ,এম,হুমায়ুন কবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী): বঙ্গোপসাগরের বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের তা-বে সূর্যোদয় আ সূর্যাস্ত দর্শনের প্রসিদ্ধ স্থান খ্যাত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। শ্রাবণ রুদ্র রোষে ও প্রকৃতির এমন হেয়ালিপনায় হতাশ হয়ে পড়েছেন ভ্রমনে আসা পর্যটক, পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগকারী এবং স্থানীয়রা। অব্যাহত বালু ক্ষয় ও ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মানববন্ধন, সমাবেশসহ সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জোরালো দাবি তুলেছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন রোধে বার বার আশ্বাসের বাণী শোনালেও আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এদিকে কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে একটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও সেটি মন্ত্রণালয় থেকে বিস্তারিত সমীক্ষার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে সৈকত রক্ষার উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাই কুয়াকাটাকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে সৈকতের দিকে যেতেই চোখে পড়ে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ প্রচ- শব্দে সৈকতে আছড়ে পড়ছে। উত্তাল জলরাশির এমন উম্মাদ নৃত্যে কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টর প্রায় ২০ ফুট সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। সৈকতের পূর্ব দিকের নারিকেল, মেহেগনি, তাল গাছসহ বনবিভাগের রোপিত শতাধিক দৃষ্টি নন্দন ঝাউ গাছ উপড়ে পড়ে আছে বালু তটে। কিছু গাছের গোড়া থেকে বালু সরে গিয়ে গাছের মূলসহ শিকড়-বাকর কঙ্কালের মতো করে দাঁড়িয়ে আছে, এখন তাও ধ্বংসের অপেক্ষায়। জিও টেষ্টাইল ব্যাগ দ্বারা সৈকতের ভাঙ্গন ও বালুক্ষয় রোধে উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চলমান এ কাজ নিয়েও জনমনে রয়েছে নানা ক্ষোভ।স্থানীয় সমাজকর্মী ও কুয়াকাটা সী ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসাইন আমির বলেন, কুয়াকাটাকে রক্ষায় কার্যকর উদ্দোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। এখনই যথাযথ উদ্দোগ গ্রহণ করা না হলে বনবিভাগের গড়ে তোলা সবুজ বেষ্টনী, কুয়াকাটার দর্শনীয় একাধিক স্পট, ঝাউ বাগান, নারিকেল বাগান, সৈকতের পশ্চিম দিকে অবস্থিত লেম্বুরচরের ম্যানগ্রোভ বন কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে কি-না এ নিয়ে শঙ্কা দেখা আছে। ভাঙ্গন রক্ষার দাবিতে স্থানীয় বেশ কয়েটি সংগঠনের উদ্যোগে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। আবাসিক কিংস হোটেলের মালিক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। জমি এবং হোটেলসহ প্রায় এক কোটি টাকার সম্পত্তি সমুদ্রের হিংস্রতায় শেষ হয়ে গেছে। এ বছর সমুদ্রের ঢেউয়ের তোরে হোটেলের ভবনসহ জমি সমুদ্রের ঢেউয়ের তাণ্ডবে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া সৈকতের পশ্চিমে মাঝি বাড়ি পয়েন্টের বেড়িবাঁধের পাঁচ ফুট অংশ সমুদ্রের ঢেউয়ের তা-বে বিলীন হয়ে গেছে।সৈকত ঘেষা হোটেল সান রাইসের মালিক মো. শাহ জালাল জানান, বালু ক্ষয় রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে কিছুটা রক্ষা পাবে কুয়াকাটা সৈকত। কুয়াকাটা পৌর মেয়র ও সী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য আ. বারেক মোল্লা বলেন, পর্যটকদের স্বার্থে পাবলিক টয়লেটটি রক্ষার জন্য বালুর বস্তা এবং ইট সুঁড়কি দিয়ে রক্ষার চেষ্টা চলছে। পৌরসভার উদ্যোগে কোরবানি ঈদের পর জিও পাইপে বালু ঢুকিয়ে স্বল্প পরিসরে সৈকত রক্ষা করার উদ্যোগ নেয়া হবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, বালু ক্ষয় ও ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ীভাবে কুয়াকাটা সৈকত রক্ষার জন্য ‘সৈকত রক্ষা প্রকল্প’ প্রস্তাবনা আকারে পাঠানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে, যা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে ফের বিস্তারিত সমীক্ষার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। যার জন্য এবছর বর্ষা মৌসুমে সাগরের বালু ক্ষয় রোধে সৈকত রক্ষা প্রকল্পের কাজ অনিশ্চিত। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে স্বল্প পরিসরে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ এবং সৈকত প্রটেকশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ