ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা-চুকনগর-আঠারোমাইল সড়ক পুনঃনির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ 

খুলনা অফিস : ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে ও বৃষ্টির কারণে খুলনা-চুকনগর-আঠারোমাইল সড়ক পুনঃনির্মাণ কাজ আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। অপরদিকে গুটুদিয়া, আঙ্গারদোহা ও বরাতিয়া থেকে আঠারমাইল পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিমাত্রায় বেহাল সড়ক ইট বিছিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী রাখতে চেষ্টা করা হলেও তাতে জনসাধারণের ভোগান্তি কমছে না। অতিমাত্রায় ভারী যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টিতে ওই সব ইট ভেঙে ও সরে গিয়ে ফের দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে।  সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-চুকনগর-আঠারমাইল সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়। সড়কের বেশির ভাগ স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়। কিছু কিছু জায়গায় বিটুমিন উঠে পরিণত হয় চাষ দেয়া ফসলের ক্ষেতে। যার ফলে ব্যস্ততম এই সড়কটিতে স্বাভাবিক যান চলাচল বিঘিœত হয়। ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি ব্যবহার করতে হয় গাড়ির চালক ও সাধারণ যাত্রীদের। প্রায়ই ঘটতে থাকে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জোড়াতালি দিয়ে সড়ক চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করলেও ভারী বৃষ্টি ও গাড়ির চাকায় ফের বেহাল হয়ে পড়ে। ফলে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য নানা মহল থেকে দাবি উঠে। এ অবস্থায় গাড়ি যাতায়াত স্বাভাবিক করতে ২৮ কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেয় হয়। 

সূত্রটি জানায়, উদ্যোগটি বাস্তবায়নে খুলনা বিভাগের গুচ্ছ প্রকল্পের আওতায় ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) তৈরি করে অনুমোদন জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রকল্পে থাকে ৭.৩ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ, দু’পাশে ১.৫ মিটার সোল্ডার ও সড়ক পুনঃনির্মাণ ইত্যাদি। গত বছর মে মাসে ওই প্রকল্প প্রস্তাবটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। এরপর ওই বছর ২৬ নভেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এ কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কিলোমিটার সড়ক পুনঃনির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ৪ কিলোমিটার সড়কের দুই সম্প্রসারিত কাজ চলমান রয়েছে। 

অপরদিকে এখনও গুটুদিয়া, আঙ্গারদোহা ও বরাতিয়া থেকে আঠারমাইল পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিমাত্রায় বেহাল সড়ক পড়ে রয়েছে। যা ইট বিছিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী রাখতে চেষ্টা করা হলেও জনসাধারণের ভোগান্তি কমছে না। অতিমাত্রায় ভারী যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টিতে ওই সব ইট ভেঙে ও সরে গিয়ে ফের দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তাপসী দাশ বলেন, বৃষ্টির সড়কের কাজ করা যাচ্ছে না। বৃষ্টিতে সড়ক ফুলে উঠছে। এছাড়া সামনে ঈদ রয়েছে। যার কারনে  টেকসই ও মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আপাতত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কে পূর্বে খোয়া ব্যবহারের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ্যস্টিমেটে আগের খোয়া ধরা রয়েছে। তাই নতুন খোয়ার সাথে পুরানো খোয়া মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়কে কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ