ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

স্টাফ রিপোর্টার : কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। উক্ত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় না আনা হলে আগমী ৮ আগস্ট (বুধবার) সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন সাংবাদিক নেতারা এবং সেই সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দেয়া হয়েছে। একইসাথে সংবাদ মাধ্যমের ওপর আরোপিত সেন্সরশীপ তুলে নেয়ার দাবি জানানো হয়।  
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে’র মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিএইজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের নিউজ কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নারকীয় হামলার শিকার হয়েছে। সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত কয়েকদিনে ২৫/৩০ জন সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছে। আন্দোলনের সঠিক সংবাদ যেন সাংবাদিকরা না দিতে পারে এজন্য পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা করে ক্যামেরা ও মোবাইল ভাংচুর করা হয়েছে। সাংবাদিকরা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামায় না। আবার কাউকে ক্ষমতায় বসায় না। তাহলে কেন তাদের ওপর হামলা করা হলো।
তিনি বলেন, সরকার চাইছে যে হামলা, নির্যাতন করে তাদের ফ্যাসিবাদের অমরত্ব লাভ করাতে। সরকারের এ ফ্যাসিবাদ আচরণ সাংবাদিক সমাজ ও দেশবাসী মেনে নেবে না। অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সরকারের সকল নৈরাজ্য দূর করতে সাংবাদিক সমাজ দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে মুক্তির আন্দোলন করতে বাধ্য হবে।
এম আবদুল্লাহ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছে। সাংবাদিকদের ওপর যেভাবে হিংস্র হামলা হয়েছে তা কোনো মানুষ করতে পারে না। হামলাকারী চিহ্নিত হয়েছে। ছাত্রলীগের ঢাকা কলেজের সেক্রেটারির নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়েছে যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছে। সরকার যদি এ হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় না আনে তাহলে বুঝবো সরকারের ইন্ধনে এ হামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর যে নৃশংস হামলা চালিয়েছে তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর হামলা-নির্যাতন করা হচ্ছে। অনেক সাংবাদিক নিহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। এভাবে চলতে পারে না। গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশীপ আরোপ করা হয়েছে। অবিলম্বে এসব সেন্সরশীপ বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছি।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর যে নৃশংস হামলা চালিয়েছে তা কোনো মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা নীরব থাকতে পারি না। দেশে আজ দানবের শাসন চলছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলনকে ছাত্রলীগ সহিংস আন্দোলনে রূপ দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। 
মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, যেভাবে দিনের পর দিন হামলা-নির্যাতন করা হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে আমরা সাংবাদিক সমাজ নীরব থাকতে পারি না। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় যেসব ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, খুনিদের কাছে ক্ষমতা যাওয়ার কারণে আজ রাজপথ রক্তাক্ত হচ্ছে। এখন সাংবাদিকদের রক্তেও রাজপথ রঞ্জিত। এ দেশকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করতে এ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটানোর বিকল্প নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ