ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন ক্রটিপূর্ণ অগ্রহণযোগ্য

স্টাফ রিপোর্টার : নিরপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন ত্রুটিপূর্ণ এবং অগ্রহণযোগ্য। এই আইনে শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। আইনে আমাদের মতের প্রতিফলন ঘটেনি। আমরা এ আইনের উপর যে সাজেশন দিয়েছি তা গ্রহণ করা হয়নি।
গতকাল সোমবার বিকালে চলমান নিরাপদ সড়কের আন্দোলন ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরী সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।  নিরাপদ সড়ক চাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন আইন অনুমোদন দেয়।
এ বিষয়ে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, মন্ত্রীসভায় উত্থাপিত সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ তে আমাদের মতের প্রতিফলন ঘটেনি। আমরা এ আইনের উপর যে সাজেশন দিয়েছি তা গ্রহণ করা হয়নি। প্রথমেই আমার আপত্তি আইনটির শিরোনাম নিয়ে। আমরা বলেছিলাম সড়ক দুর্ঘটনা নিরসন করতে হলে সড়কের নিরাপত্তার কথা প্রথমে আসে। এজন্য আইনটির শিরোনাম চেয়েছিলাম ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক পরিবহন আইন’ আমরা মনে করি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালক, মালিকের জেল জরিমানাতে সমাধান নয়। দুর্ঘটনার কারণ জানার পরে তা লাঘবে প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ, ত্রুটি সংশোধন ও চালককে দক্ষ করে গড়ে তুলতে ইনস্টিটিউশন গড়ে তুলতে প্রয়োজন পরিকল্পনা ও বাজেটের যা সড়ক নিরাপত্তার মাধ্যমেই সম্ভব।
তিনি বলেন, এ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলাম ১০ বছর, হাই কোর্টের নির্দেশনা ছিল ৭ বছর। কিন্তু করা হয়েছে ৫ বছর। সর্বোচ্চ শাস্তির কথা বলা হলেও সর্বনিম্ন শাস্তির কথা বলা হয়নি আমি এতে শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। এটাও পরিস্কার করতে হবে। ক্ষতিপূরণের জন্য যে ট্রাষ্টি বোর্ড গঠন করা হবে সেখানে সরকার, চালক ও মালিকের প্রতিনিধি থাকলেই চলবে না সেখানে থাকতে হবে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের প্রতিনিধি।
নিসচা চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমি বলব যে আইনই প্রণীত হোক তার যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে শক্তিশালী মনিটরিং টীম যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন হবে। থাকবে সড়ক, নৌ, রেল, বিমান, স্বরাষ্ট্র, বানিজ্য, স্বাস্থ্য, পরিকল্পনা, অর্থ, আইন এবং সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যারা কাজ করছে তাদের প্রতিনিধি। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিনিধি থাকতে হবে।
এক কথায় আমি বলব এ আইন বাস্তবমুখী ও কার্যকর করতে হলে সংশোধন ও সকল মহলের পরামর্শ গ্রহণ জরুরী। এ ব্যাপারে আশা করি সরকার স্বদিচ্ছার পরিচয় দিবেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আলম দীপেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লিটন এরশাদ, যুগ্ম-মহাসচিব লায়ন গনি মিয়া বাবুল, অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে আজাদ, আব্দুর রহমান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক বেবী ইসলাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মঈন জয়, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুলী কাজী, সহ-প্রচার সম্পাদক সাফায়াত সাকিব, সহ-দপ্তর সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন, কার্যনির্বাহী সদস্য ফিরোজ আলম মিলন, নজরুল ইসলাম ফয়সাল প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ