ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কি অপহরণ করার কথা?

স্টাফ রিপোর্টার : আটক আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের নি:শর্ত মুক্তি চেয়েছেন তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ। শহিদুল আলমকে নিঃশর্তে ও অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়ে তার স্ত্রী বলেন, এটা অপরহণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপহরণ করেছে। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কি অপহরণ করার কথা? অপহরণ করে গু-ারা, আমরা জানি। তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যদি জোরপূর্বক ঘর থেকে ধরে নিয়ে যায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা ও ভাষা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানম-িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আসার পর ‘পুলিশের ডাক পেয়ে’ তড়িঘড়ি চলে যান তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ। গতকাল সোমবার বেলা ১২টার দিকে ধানম-িতে শহিদুল আলমের প্রতিষ্ঠান দৃক গ্যালারিতে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ সেখানে বলেন, তার স্বামীকে ‘তুলে নেওয়ার পর’ পরিবার ও আইনজীবীকে কিছু জানানো হয়নি।
তার বক্তব্যের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী শিরিন হক এবং এনজিওকর্মী তাহমিনা রহমান বক্তব্য দেন।
এরপর ড. রেহনুমা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয়ার সময় দৃক কার্যালয়ের ফোনে ডিবি অফিস থেকে ফোন এসেছে বলে জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে কিছুটা বিরতি দিয়ে আবার কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এরপর সাংবাদিক সম্মেলন দ্রুত শেষ করে টেলিফোনে কথা বলে পৌনে ১টার দিকে সেখান থেকে বেরিয়ে যান শহিদুল আলমের স্ত্রী।
দৃক গ্যালারির জিএম এএসএম রেজাউর রহমান সে সময় জানান, অধ্যাপক রেহনুমাকে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। পরে তিনি বলেন, রেহনুমাকে পুলিশ সদরদপ্তরে যেতে বলা হয়েছে। তবে রেহনুমাকে কেন ডাকা হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার ঝিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে আসেন শহিদুল। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারেরও সমালোচনা করেন। এরপর রোববার রাতে শহিদুল আলমকে তার ধানম-ির বাসা থেকে উঠিয়ে নেয়া হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
দৃকের সাংবাদিক সম্মেলনে রেহনুমা আহমেদ বলেন, রোববার রাত ১টা থেকে সোমবার সাড়ে ১১টায় তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসার আগ পর্যন্ত তার স্বামীর বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। সকাল ১০টার দিকে মাইক্রোবাসে করে তাকে (ডিবি কার্যালয় থেকে) বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক বেশি লোক, তার চারপাশ পরিবেষ্টিত। আমি যখন এগিয়ে গেলাম, কথা বলতে চাইলাম। আমাদেরকে কিছু বলা হয়নি।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যারা নিয়ে গেছে তাদেরকে জানাতে হবে কী কারণে এবং কোথায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাত ১টা থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে আসার আগ পর্যন্ত ডিবি কার্যালয়ে ছিলাম, আমরা কিছু জানতে পারিনি। আমরা জানতে চাই, কী এমন অভিযোগে তাকে তুলে নেয়া হয়েছে। রেহনুমা বলেন, শহিদুলকে ৩০-৩৫ জনের একটি দল অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে তারা হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরায় টেপ মেরে দেয়। নিরাপত্তারক্ষীকে আটকে রাখা হয়। তিনটি গাড়িতে করে তারা এসেছিল এবং কাউকে কথা বলতে না দিয়ে দ্রুত চলে যায়।
রোববার রাতে ধানম-ি থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে সেখানেও ‘কালক্ষেপণ’ করা হয় বলে অভিযোগ করেন রেহনুমা। তিনি বলেন, পুলিশ পরে একটি লিখিত অভিযোগ রাখলেও তা মামলা হিসাবে নথিভুক্ত করা হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ