ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংকটে পড়েছে তৈরি পোশাক শিল্প

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ)  সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প। গত এক সপ্তাহে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ঠিকমতো পোশাক শিল্পের আমদানি ও রপ্তানি পণ্য আনা নেওয়া করা সম্ভব হয়নি। এতে বন্দরের কন্টেইনার ভর্তি রপ্তানিযোগ্য পণ্য পড়ে আছে। আর জাহাজীকরণের অপেক্ষায় কারখানায় পড়ে আছে তৈরি পণ্য।
গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিজিএমইএ ভবনে ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিষয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলনে তিনি। এসময় বিজিএমইএ’ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, আমরা শঙ্কার সাথে লক্ষ্য করছি, ছাত্ররা ঘরে ফিরে গেলেও যানবাহন পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে পর্যাপ্ত যানবাহন নামেনি। ফলে, জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প। এমনিতেই আমরা গত ১ সপ্তাহে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ঠিকমতো পোশাকশিল্পের আমদানি ও রপ্তানি পণ্য আনানেওয়া করতে পারিনি। বন্দরে কন্টেইনার ভর্তি রপ্তানিতব্য পণ্য পড়ে আছে। জাহাজিকরণের অপেক্ষায় কারখানায় পড়ে আছে তৈরি পণ্য।
সিদ্দিকুর রহমান বলনে, যানবাহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অনেক কারখানা স্টকলটের শিকার হবে। অনেক কারখানা এয়ার ফ্রেইট করতে বাধ্য হবে। আর এর মাশুল দিতে হবে পোশাকশিল্পকে। আমরা যখন অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সকল শর্ত পূরণ করে নিজেদের মতো করে চলার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি আমাদেরকে পিছিয়ে দেয়। আমরা হতোদ্যম হয়ে পড়ি। ক্রেতাদেরও আস্থাহানি ঘটে। শিল্প ও দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ হয়, যা মোটেই কাম্য নয়। আমরা এমন কোনো কর্মকান্ড চাই না, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত ও স্থবির করে দেয়, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে ব্যাহত করে, ব্যবসা-বাণিজ্য পিছিয়ে দেয়।
তিনি আরো বলেন, গত ২৯ জুলাই দুঃখজনক বাসদুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী রাজীব ও মীমের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। আমি আন্দোলনকারী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাই এজন্য যে, তারা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সড়ক ছেড়ে ঘরে ফিরে গেছে এবং আমাদের এই সস্তানেরা যে কাজটি করেছে তা বিশাল। তারা সকলকেই দেখিয়ে দিয়েছে ও বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সড়কে কতো নৈরাজ্য রয়েছে, কতো বিশৃঙ্খলা রয়েছে। তাদের এই আন্দোলন সকলের টনক নড়িয়ে দিয়েছে, সকলের মধ্যে নৈতিকতাবোধ ও কর্তব্যবোধ জাগিয়ে তুলেছে, আইন প্রয়োগে নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে। তাই নিরাপদ সড়কের জন্য অনেক বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। কঠোর আইন যেমন দরকার, এর যথাযথ প্রয়োগও তেমনই নিশ্চিত করতে হবে। চালকদেরকে নিয়মিতভাবে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যাত্রী, চালকসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক দ্বারা গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে আমরাও সাপোর্ট করি। কিন্তু এতে করে বেশ কিছু বিদেশী ক্রেতা আমাদের সঙ্গে তাদের ট্রিপ বাতিল করেছে। সে জন্য আমরা দ্রত এই পরিস্থিতির সমাধান আশা করছি।
তিনি বলেন, যানবাহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অনেক কারখানা স্টকলট এর শিকার হবে। অনেক কারখানা এয়ার ফ্লেইট করতে বাধ্য হবে। এর মাশুল দিতে হবে পোশাক শিল্পকে। আমরা যখন অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স এর সকল শর্ত পূরণ করে নিজেদের মতো করে চলার প্রস্তুত নিচ্ছি তখন এ ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি আমাদের পিছিয়ে দেয়।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ বর্তমানে দ্রত গতিতে এগিয়ে চলছে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের জন্য এ দেশে সফরে আসছেন। বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল প্রতিনিয়ত দেশে সফর করছেন।
 তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ও আলোচনাও হয়েছে। কয়েকদিন আগেও ভারত থেকে বস্ত্র ব্যবসায়ীদের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে আমাদের উভয় পক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা একান্তভাবে আশা করি এমন কোনো কর্মসূচি নেয়া যাবে না যাতে আমাদের এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ