ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাংবাদিকদের উপর হামলার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর জিগাতলা ও সায়েন্স ল্যাব মোড়ে গত শনি ও রোববার সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে প্রায় ২০০ সাংবাদিক অংশ নেন। আর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে মানবন্ধন করেছে আইন, বিচার, মানবাধিকার ও সংবিধানবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম।
এ সময় তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি সাঈদ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাসান জাবেদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি এম বদি-উজ-জামান, আশুতোষ সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মিশন, আজিজুল ইসলাম পান্নু ও বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কবির হোসেন ও মো. ইয়াসিন। এ ছাড়া সহ-সভাপতি হিরা তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন ছাড়াও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অর্ধশতাধিক সদস্য।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষ নয়। তারপরও বারবার পেশাগত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে কেন হামলার শিকার হতে হচ্ছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ সময় তারা হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
কাওরান বাজার
কাওরান বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ বলেন, গত কয়েকদিনের আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ১২ জন সাংবাদিককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমরা এসব ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
দীপ আজাদ বলেন, আন্দোলনে গুজব ছড়িয়ে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়া ৩০ জনের নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে তাদের নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
নাগরিক টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক দীপ আজাদ বলেন, হামলাকারীদের ছবি এরই মাঝে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও ভিডিও ফুটেজে আছে। তাই এদের চিহ্নিত করতে বেশি কষ্ট হবে না। আমরা চাই এসব হামলাকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এই সাংবাদিক নেতা বলেন, আমরা আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ জনগণের কাছে তুলে ধরি। আমরা সরকার বা আন্দোলনকারী কারোই প্রতিপক্ষ নই। কিন্তু বারবারই আমাদের ওপর নগ্ন হামলা হচ্ছে। সরকারকে অবশ্যই এসব হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
মানববন্ধনে একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিল বলেন, বিশ্বের কোথাও যুদ্ধের ময়দানেও সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয় না। কিন্তু ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। এখানে যেকোনো পরিস্থিতিতে হামলার শিকার হয় সাংবাদিকরা। কিন্তু বারবারই এসব হামলাকারীরা পার পেয়ে যায়। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, অতি দ্রুত সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ আইন করা হোক। যাতে আর কেউ সাংবাদিকদের ওপর হামলার সাহস না করে। আর কখনো কেউ সাংবাদিকেদের ওপর হামলা করলে পুলিশ যেন নিজে বাদী হয়ে এর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে সেই বিধান রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় রোববার শিক্ষার্থীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের হাতে ছিল লাঠি-রড-রামদা-চ্যালা কাঠ। পরিচয় লুকাতে মাথায় ছিল হেলমেট। অনেকের মুখ কাপড় বাঁধা ছিল।
শিক্ষার্থী ছাড়াও কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরও খুঁজে খুঁজে নির্মমভাবে পেটান তারা। এমনকি নারী চিকিৎসক, বৃদ্ধ পথচারীও রেহাই পাননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ