ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অন্যায়ের অবসান

মানুষ এজন্যই মানুষ; কারণ তার মনুষ্যত্ব রয়েছে। ন্যূনতম মনুষ্যত্ববোধ যার মাঝে কাজ করে না, সে তো মানুষরূপি পশু; অমানুষ।
বাসে উঠতে যাওয়া হতভাগ্য সেই পায়েল কি কখনো ভেবেছিল এভাবে তার মৃত্যু হবে? আঘাত পাওয়ার পর পায়েল বাসে উঠতে সক্ষম হলে হয়তো বা সেসহ গাড়ির সব যাত্রিরা ড্রাইভারকে অনেক বকা বা অপমান করত।এটা থেকে বাঁচার জন্য কি কৌশলে তাকে লোকচক্ষুর আড়ালে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিল!
প্রতিটি প্রাণী ছোট ছোট বাধা অতিক্রম করতে করতে বড় বড় বাধাও পেরিয়ে যায় অতি সহজে। ঠিক তেমনি ছোট ছোট অন্যায় করতে করতে বড় বড় অন্যায়গুলোও তাদের কাছে অতি নগন্য হয়ে যায়। পায়েল হত্যার মধ্য দিয়ে তা কতটা জঘন্যভাবে প্রমাণিত হল!
যেই অপরাধের শাস্তি যত কঠোর হবে, সেই অপরাধের প্রবণতাও তত কম হবে; আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ অন্তত সেই শাস্তি পাবার ভয়টা কাজ করে।পায়েল ও বিমানবন্দর রোডে বাসের চাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থী কি কখনো ন্যায় বিচার পাবে? বর্তমান সময়ে দেশে ন্যায় বিচার চাওয়াটাই মনে হচ্ছে প্রহসনমূলক।
একমাত্র আইনের যথাযথ প্রয়োগই পারে অন্যায় দমন করতে। আমাদের আইনে সব অন্যায়েরই বিচার ব্যবস্থা আছে, তবে নেই শুধু তার প্রয়োগ।
সাগর-রুনি, তনুর কথা আমরা ভুলিনি আজও। কিন্তু বিচার করবে কে? মা নিজেই যদি অন্যায় করতে থাকে, তবে তার সন্তানরা কিভাবে দোষ মুক্ত হবে? একটি অন্যায়, আরো অনেকগুলো অন্যায়ের জন্ম দেয়। এটা এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
আজ রাজপথে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরাও নামতে বাধ্য হয়েছে। সে সাথে উপরের নির্দেশে সরকারের বাহিনীদের ভূমিকাও সবাই দেখছে। যখনি কোন কণ্ঠ উচুতে উঠে, সাথে সাথেই তা স্তব্ধ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলতে থাকে আমার এই দেশে। আজ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আঙ্গুলি দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে বড় বড় কর্মকর্তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন গাড়ি কীভাবে রাস্তায় চলছে। কিভাবে মন্ত্রিদের গাড়ি উল্টো রাস্তায় চলছে, তাও আবার প্রোটোকলসহ।
আজ খুন হওয়াটা কতটা সহজ হয়ে গেছে! যতদিন না এসব অন্যায়ের ন্যায় বিচার হবে, ততদিন এসব অন্যায়ের পরিমান কমা অসম্ভব। আমাদের দেশে সবসময় উপরের নির্দেশ বলে একটা কথা খুব কাজ করে। আর এ জন্যই সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়তই।
এরকম চলার ফলে জনগণ আইন হাতে তুলে নিবে, আর এটাই স্বাভাবিক। তাই রাষ্ট্রে এ রকম আন্দোলন বারে বারে না চাইলে, অন্যায়ের অবসান করুন ন্যায় বিচার কার্যকরের মাধ্যমে। রাষ্ট্রের নিয়ম শৃক্সক্ষলা আগে নিজেদের মধ্যে কায়েম করুন, রাষ্ট্রে আপনা আপনিই কায়েম হয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ