ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

আমার বাংলাদেশ
মানসুরা আল আযাদ

কি ছেড়ে আজ কি লিখব
ভেবে না যে পাই,
দেশটা আমার চলছে আজি বাকশালী কায়দায়।
গুম-হত্যা নির্যাতন,
চলছে শত অপহরণ।
সত্য কথা বললে মুখে,
বন্দুক যায় বেঁধে বুকে,
চাকুরিচ্যুত হচ্ছে সবে।
কোটা নামে বোটা দিয়ে
মেধাবীদের মেধা খেয়ে,
প্রশ্নফাঁস করে আজি
পরিক্ষা নিয়ে কারসাজি।
ফলাফল হাতে আসে,
নিতে হয় হতাশ হয়ে।
ইলেকশনের নাম দিয়ে
সিলেকশন করে আগে,
গভীর রাতে কারচুপি
বলতে গেলে গুলি খাবি।
রাজনীতি করে ওরা,
অন্যায় যায় সবি ধরা।
বেপরোয়া গাড়ী চালক
মারছে ছাত্র নীরব ঘাতক,
প্রতিবাদী ছাত্রের উপর
চলছে ফের লাঠিচার্জ,
রক্ত নিয়ে ভর্তি হয় অনেক ছাত্র হাসপাতাল।
মন্ত্রী সাহেব হেঁসে বলে
দুই-একটা মরতেই পারে,
এ নিয়ে আন্দোলন করার আছে অযথা কিযে!
সোনা-কয়লা উধাও হয়
সব নাকি মাজে ক্ষয়!
রাজনীতির খেলা কর
নিষ্পাপ সব মানুষ কেন?
তোমাদের রোষানলে,যথা জেলে।
ইহাই কি স্বপ্নের দেশ?
শেখ মুজিবের বাংলাদেশ...!???


অনু কবিতা : নতুন সূর্যোদয়
ফাতিমা হক

আলোর মশাল জ্বালতে গিয়ে
আসুক যতই  রুদ্ধদার,
নিশুত রাতের স্বপ্ন ভেঙে
আনব প্রভাত শুদ্ধতার।
পথের আঁগল উপড়ে ফেলে
করবো বাতিল দূর্গ জয়,
চার দশকের চিহ্ন চোখে,
দেখছি নতুন সূর্যোদয়।


বীরাঙ্গনা
রওশন আরা স্বপ্না

স্বামীর সামনে ফাঁসির দড়ি
স্ত্রী দিচ্ছে সান্ত¡না,
ঈমানদারী দ্বীনদারীতে
আর কে বড় বীরাঙ্গনা!

এমন পরশ পাথর নারী
দেখছি আমি যত,
অবাক চেয়ে বিস্ময়ভরে
মুগ্ধ হচ্ছি তত।

দিনের পর দিন স্বামী তাদের
জেলখানাতে বন্দী,
জালেমশাহী করছে তাদের
মেরে ফেলার ফন্দি।

দুই মুমিনার স্বামী কে তো
দিলই ফাঁসি দিয়ে,
শাহাদাতের মরণ হলো
সবার দোয়া নিয়ে।

অশ্রু কি তাদের শুকিয়ে গেছে
স্বামীহারা আজ যারা,
নীরব নির্জন মোহীনিক্ষণে
কেমন থাকেন তারা?

দুঃখে আমার বুক ফেটে যায়
কবুল কর রব,
ও দুনিয়ায় তাদের তুমি
দিয়ে দিও সব।

এ দুনিয়া সহজ করো জামিল দিও,
ব্যথাগুলিকে পাওয়ার আশায়
আদরে মুছে নিও।


শেষ আশ্রয়
মাহমুদা খাতুন

জীবন চলার পথে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়
এ জীবনের শেষ কোথায়?
জীবনটা কি শুধুই বিলাসিতার...
নাকি উদ্দেশ্যহীনভাবে নিরলস পথচলা
নাকি হাজারো কাজের সমন্বিত চিন্তাধারা।
সময়, দিন, রাত পার হয়
পরের সকাল আসে নতুন সূচনায়।
শুভ্র আকাশের দিকে তাকাই..
জীবনের অর্থ খুঁজে ফিরি,
আকাশ... সেতো বিশালতারই প্রমাণ দেয়
বিরতিহীন নদী...
সে তো একাগ্রচিত্তে ছুটে চলে নিজ ঠিকানায়
কখনোবা দেখি সুউচ্চ পর্বতমালা
অবাক হই! তার দৃঢ়তা দেখে,
পাশেই থাকে অবিরাম ঝরণাধারা
যা কেবল উদারতার পরিচায়ক
জিজ্ঞাসিত বিবেক স্পষ্ট হয়ে যায়
এ সুনিপুণ পরিচালনা কার ইশারায়,
নিশ্চয়ই কোনো একক অধিপতির
যিনি মহীয়ান গরিয়ান,
এবং যার স্থায়িত্ব.... অনন্তকাল ॥


সময়ের ছড়া
তাসলিমা কবির

কেমন করে থাকছো তুমি
চুপটি করে বসে
পথের ধারে কত জীবন
যাচ্ছে পড়ে খসে।
পুকুর, নদী, খালে বিলে
লাশ উঠেছে ভেসে
তোমার লাশও উঠতে পারে
এই মিছিলের শেষে।
খুব আয়েশে কাটছে সময়
পাচ্ছো সুযোগ শত
তাই ভেবো না এ দিন রবে
মহাকালের মত।
বিবেক যতই ঢাকা রাখো
মুখে রাখো হাসি
টনক নেড়ে উঠবে যখন
পড়লে গলায় ফাঁসি।
বলছো ওরা ভুল করেছে
তাই পেয়েছে সাজা
সহযোগীর নিন্দা করো
কেমন তুমি রাজা?
তোমার যেটা করা উচিত
দিচ্ছে যে কেউ করে
দায়টা কেবল তাকে দিয়েই
যাচ্ছো দূরে সরে।
হয়তো সুযোগ আর পাবে না
চাইতে তোমার ক্ষমা খুলে দেখো
ঋণের বোঝা জমা।

(নদীতে ভেসে ওঠা আরিফের লাশ স্মরণে)


আহ্বান
শামীমা রহমান শান্তা

ধরে রাখো বয়সটা, ধরে রাখো মন,
সিজদায় অবনত, মাথা সারাক্ষণ।
তাসবীতে মুখর হোক জিহ্বা তোমার,
‘ভালবাসি নিজেকেই’ বলো বার বার ॥
চিরদিন থাকবোনা তুমি আমি কেউ,
পরকাল ছুড়ে দিবে জীবনের ঢেউ,
জেনে নাও ভাল করে কোথা সোজা পথ,
কীভাবে চলবে তুমি, পাবে জান্নাত।
অমর হতে চাও? ভালো কাজ করো,
কুরআনের রঙে ঢঙে নিজেকে গড়ো ॥
শান্তি প্রতিষ্ঠায় হও একমত,
জুলুম তাড়াতে রাখো মনে হিম্মত।
রাসূলের শিক্ষা অবারিত দ্বার,
খুলে দাও প্রতি প্রাণে বন্ধুরা আর।
মিলে মিশে গড়ি এসো নতুন ভুবন,
‘মুসলিম’ হই এসো, সকল আপন।


মমতাময়ী মা
রাহিমা আক্তার দিললুবা

শৈশব কেটেছে আমার
তোমার কোলে কোলে
কৈশোর কেটেছে আমার
তোমার আঁচল তলে।
সারাদিন গত হয়েছে
আমার খেলে দুলে
শত দোষ করে যদিও
ডাকি মা বলে
সকল মান অভিমান মাগো
যাও তুমি ভুলে।
বুঝে না বুঝে দিয়েছি
তোমার ব্যথা কতশত
তবুও তুমি মুখ ফিরাও নি
অন্য কারো মত।
এক পলক দেখিলে তোমার মুখ
ভুলে যাই আমার সকল দুখ
তুমি স্বর্গ তুমিই আঁধার ঘরের আলো
তোমায় ছাড়া লাগে না মা
বিন্দু মাত্র ভালো!
তোমার কাছে মাগো
আমার প্রথম বর্ণ শিখা
তাইতো আজ তোমার
জন্য এই কবিতা লিখা
মহৎ হওয়ার দীক্ষা
তোমার কাছেই শিক্ষা
তোমার সেই মমতা মাখা মুখখানা
ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ে
তোমার সেই মিষ্টি মুখের বকুনি
আজ যে শুনতে ইচ্ছে করে।
তুমি আমার সুখ সাধনা
তুমি আমার আশা
তাইতো মাগো তোমার জন্য
আমার ভালবাসা।
মা হলো জগতের এক মহান আশির্বাদ
সর্বলোকে জানে তাই আমার সকল চাওয়া বিসর্জন
দিয়ে সুখ দেব তোমায় এনে।
তুমি সুখী হলে আমার চাই না আর কিছু
আমি শুধু ছায়ার মত থাকতে চাই তোমার পিছু পিছু।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ