ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কপোতাক্ষ নদের বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় দু‘পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ

কেশবপুর : কপোতাক্ষ নদের বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় দু’পাড়ের মানুষের চরম দুর্ভোগ

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত‘র জন্মস্থান সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদের ওপর দু‘পাড়ের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকোটি গত শুক্রবার ভেঙে পড়েছে। ফলে দু‘পাড়ের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতসহ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জানা যায়, ২০১১ সালে সাগরদাঁড়ি বাজারের সাথে কলারোয়া ও তালা উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্যে সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির উদ্যোগে দু‘পাড়ের মানুষের কাছ থেকে বাঁশ ও অর্থ সংগ্রহ করে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে কপোতাক্ষ নদের দু‘পাড়ের শার্শা, সানতলা, কৃষ্ণনগর, পাঁচপাড়া, সেনেরগাতী, সরুলিয়া, ধানদিয়া, জয়নগর এবং এ পারের সাগরদাঁড়ি, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর, রেজাকাটিসহ দু‘পাড়ের প্রায় ৫০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতো। নদের ওপারের মানুষজন ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজার, সওদাসহ সকল কর্মকান্ড সাগরদাঁড়ি বাজারে পরিচালনা করে আসছেন। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা বাণিজ্যসহ সকল কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে গেছে। যার কারণে ওই বাজারের ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নেমেছে। প্রতিবছর সাগরদাঁড়িতে ২৫ জানুয়ারী থেকে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত‘র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ সময় লাখ লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে সাগরদাঁড়িতে। যার অধিকাংশ মানুষই যাতায়াতের জন্যে ওই সাঁকোটি ব্যবহার করে থাকেন। গত শতকের ১৯৯৪ সালে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত‘র জন্মবার্ষিকীর সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস ওই সাঁকোর স্থানে ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মধুমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবির জন্মস্থান সাগরদাঁড়িতে মধুপল¬ী ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়ন হলেও ওই ব্রিজ নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যে কারণে দু‘পাড়ের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠে ওই বাঁশের সাঁকোটি। দীর্ঘদিন বাঁশের সাঁকোটি সংস্কার না হওয়ায় গত শুক্রবার  হঠাৎ ভেঙে পড়ে। ফলে সেই থেকে জনগণকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য সুভাষ চন্দ্র দে জানান, বাঁশ ও অর্থ সংগ্রহ করে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার কারণে দু‘পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বাজারে ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নেমেছে। এছাড়াও প্রতিদিন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পর্যটকসহ শত শত মানুষের আগমণ ঘটে সাগরদাঁড়িতে। এদের অনেকেই কপোতাক্ষ নদে নৌকা ভ্রমণ ও সাঁকো ব্যবহার করতো। জরুরী ভিত্তিতে সাঁকোটি নতুন করে নির্মাণ করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এর জন্য যে পরিমান অর্থের দরকার তা আমাদের নেই। সরকারি অর্থ ছাড়া সাঁকোটি নির্মাণ করা সম্ভব নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান বলেন, সাঁকোটি স্থানীয় জনগণ নির্মাণ করেছিলেন। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষের চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সাঁকোটি মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ