ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দলিল লেখক সমিতি রেজিস্ট্রি ফি’র নামে লাখ লাখ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দলিল লেখক সমিতি রেজিস্ট্রারী ফির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করেই চলছে অফিসটি। বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা রেজিস্ট্রারী করতে এসে সরকারি ফি ছাড়া তাদেরকে বিভিন্ন দপ্তরে আরও দিতে হচ্ছে ৪/৫ গুণ অর্থ। বর্তমানে এ অফিসটিতে দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন এসব দেখার কেউ নেই। ৩১ জুলাই মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে মাস্টার রোলের রামকৃষ্ণ সরকার (৫৫) নামের ১ জন কর্মচারী দলিল প্রতি টিপ বাবদ ৫০/৮০ টাকা উত্তোলন করছে। তার কাছে এই অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আজ নতুন কিছু না, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এই অফিসে এটি আদায় করে আসছি। এ টাকা মসজিদের নামে দলিল প্রতি ২০ টাকা দেয়া হয় এবং বাকি অর্থ আমি রাখি। অপর দিকে দেখা যায়, দলিল লেখক সমিতির সহসভাপতি মাহমুদ মোল্লার হলফনামা সরকারি ফি ২০০ টাকা হলেও প্রতিটি হলফ নামা ১০০০ টাকা করে গ্রহণ করছেন, এছাড়াও রেজিস্ট্রারীর পূর্বে তার নিকট কাউন্টার ফি বাবদ সর্বনিম্ন ৪৫০০/- টাকা হতে শ্রেণিভেদে ৭০০০/- টাকা পর্যন্ত জমা প্রদান পূর্বক রেজিস্ট্রারী করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এদিকে পূর্বের রেজিস্ট্রারীকৃত মুল দলিল উত্তোলনের জন্য শ্রেণিভেদে সরকারি ফি সর্বনিম্ন ৫০/- টাকা হতে সর্বোচ্চ ২৫০/- টাকা হলেও তা নেয়া হচ্ছে ২০০০/২৫০০/- টাকা পর্যন্ত। জাবেদা ফি সরকারি শ্রেণিভেদে সর্বনিম্ন ৭৫০/- হতে ৮৫০/- টাকা হলেও অফিসের নকল নবিশরা তা আদায় করছে ১৫৫০/- টাকা। ৩১ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে লালমনিরহাট সদরের পঞ্চগ্রাম ইউপির বাসিন্দা আব্দুল মজিদ (৬০) ২০১০ সনে রেজিস্ট্রারীকৃত জমির মুল দলিল নিতে রাজারহাটের জনৈক ডিড রাইটারের নিকট আসলে তিনি দলিল উত্তোলন পূর্বক ২৫০০/- টাকা দাবী করে, তার নিকট ওই অর্থ না থাকায় দলিল উত্তোলন না করে বাড়ি ফিরে যেতে দেখা গেছে। এসব বিষয়ে রাজারহাট সাব-রেজিস্ট্রার (অতিঃ দাঃ) মো. আরিফুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। পরদিন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে বসার কথা জানিয়ে পাশ কাটিয়ে যান। কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার (ডিআরও) মো. আনোয়ার হোসেন মিয়ার মুঠোফোনে এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, কোন বিষয়ে জানতে হলে সরাসরি আসেন। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ: রাশেদুল হক প্রধানের নিকট এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসটি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত। লিখিত অভিযোগ পেলে এডিসি (রাজস্ব) মহোদয় বরাবর রিপোর্ট প্রদান করবো। তিনি আরও জানান, বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার রাজারহাটে দায়িত্ব পাওয়ার ৩ মাস অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত আমার সঙ্গে তার পরিচয় হয়নি। রাজারহাট দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, হলফ নামার সরকারি ফি ছাড়া উদ্বৃত্ত অর্থ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের কাজে চাঁদা হিসাবে দিয়ে আসছি। কাউন্টার ফির অর্থ প্রতি মাসে সমিতির ৬৫ জন সদস্যের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়ে থাকে। রাজারহাট সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে ৪০০/৪৫০টি দলিল রেজিস্ট্রারী হয়ে থাকে। শুধুমাত্র প্রতি মাসে হলফ নামায় সরকারি ফি বাদে দলিল লেখক সমিতি ৪ হতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ক্রেতাদের নিকট হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া দলিল লেখক সমিতি কাউন্টার ফি বাবদ প্রতি মাসে কমপক্ষে ২০ হতে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।  সবমিলিয়ে রাজারহাট সাব-রেজিস্ট্রার অফিসটিতে বর্তমান দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ