ঢাকা, মঙ্গলবার 7 August 2018, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে যমুনা ভাঙন অব্যাহত থাকলেও বন্ধ হচ্ছেনা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: শাহজাদপুর যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত থাকলেও বন্ধ হচ্ছেনা যমুনা গর্ভ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন। ফলে যমুনা নদী আগের তুলনায় এখন বেশি করে ভাঙতে শুরু করেছে।  দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। প্রতিদিন যমুনা নদীর পাঁচিল, কৈজুরী, ঠুটিয়া, জগতলা, ভাটপাড়া এলাকা থেকে ট্রাক ও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে লাখ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীগর্ভে বড় বড় ড্রেজার মেশিন দিয়ে এই বালু উত্তোলন করায় তীরবর্তী জনপদ ভাঙনের কবলে পরছে।  সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ভড়াট যেমন, রাস্তা. বাঁধ, কিম্বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজে বালু তোলা হচ্ছে বলে অযুহাত দিচ্ছে। এদিকে জেলা কিম্বা উপজেলা প্রশাসনের কোন অনুমতি ছাড়াই এসব বালূ ১০/১২টি ট্রাকে এবং পাইপ দিয়ে দুরের বিভিন্ন খাল ভড়াট করে দিচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে এ বালু প্রকাশ্যে উত্তোলন ও  বিক্রি করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেও যেন প্রতিবাদ করতে পারছেনা কেউ। তীরবর্তী এলাকার মানুষ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কাছে মুখ খুললেও প্রতিবাদ প্রতিরোধ করতে পারছেনা। বিধায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।  কারণ বালু উত্তোলনকারী চক্রটি ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী হওয়ায় প্রতিবাদকারীদের নানা ভাবে ভয়ভীতি এমনকি চাঁদাবাজ হিসেবে মামলা দেয়ার হুমকী দিচ্ছে। যমুনা নদীর পানি শুকিয়ে চর জেগে উঠায় এসব চরে ট্রাক দিয়ে বালু উত্তোলণ করছে। ফলে নদী তীরে ঘর-বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুমকীর মুখে পড়ছে। সরে জমিনে ঘুরে দেখা গেছে প্রভাবশালী মহলটি বালূ দস্যুর ন্যায় নদীগর্বের বালু গ্রাস করছে। যমুনা নদীর কৈজুরী পয়েন্টে প্রতিদিন ১০/১২টি ট্রাক বালু উত্তোলণ করে বিভিন্ন এলাকায় ১০০০/১২০০টাকা প্রতি ট্রাক বালু সকাল থেকে স›ন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তোলন করছে। এসব বালু বিক্রি কারা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে সবাই দুষছেন কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে। তবে সাইফুল চেয়ারম্যানের বিস্বস্ত একজন জানান, মূলত যমুনা নদী থেকে সাইফুল চেয়ারম্যানের ভাই নজরুল ও স্থানীয় এক ইউপি মেম্বর এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতার নেতৃত্বেই চলছে বালু উত্তোলন ও বিক্রির কাজ। তবে কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি এই বালু বিক্রির ব্যবসার সাথে জড়িত নন। তাঁর নাম ব্যবহার করে নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় সুবিধাবাদী কয়েকজন বালু উত্তোলন করছে।   এ ব্যাপারে নদী তীরের লোকজন দিন দিন ফুঁসে উঠেছে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে।  এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁন জানান, বালু উত্তোলনকারীরা অনুমতি নিয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। শীঘ্রই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক জানান, বালু ব্যবসায়ীরা দেদারসে ব্যবসা করে গেলেও যমুনা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হবে ভাঙ্গন। কিন্তু মহলটি কোন ক্রমেই বালু উত্তোলন বন্ধ করছেনা বিধায় আগামী বন্যায় মৌসুমে লাখ লাখ টাকা দিয়ে তৈরী সিসি ব্লক ধসে নদী তীরের বসতবাড়ী ভাঙ্গনের কবলে পড়বে। তাই নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা প্রয়োজন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ