ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইনজুরিতে মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে সাকিব ও নাজমুল অপুকে

স্পোর্টস রিপোর্টার : ইনজুরি  থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি সাকিব আল হাসান। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে আঙুলের ইনজুরিতে পড়েন সাকিব। গত কয়েক মাস ধরে বিশেষ ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। ব্যথানাশক ইনজেকশন বারবার ব্যবহার শরীরের জন্য মোটেও আদর্শ নয়।

 যদিও খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সাকিব ব্যবহার করছেন তা। তাতে বোলিং ঠিকমতো করতে পারলেও ব্যাটিংয়ে সমস্যা হচ্ছে। তাই আঙুলে অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে সাকিবের, তাতে দেড় মাসের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যাবেন এই অলরাউন্ডার। এছাড়া আপাতত তিন সপ্তাহের বিশ্রামে যেতে হচ্ছে বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুকে।  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী গতকাল মিরপুরে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘সাকিব দেশে ফিরে এসে অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। বিসিবির চিকিৎসকের বলেন, ‘সাকিবের বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের হাড় সরে গেছে। সাকিব মূলত ব্যাটিংয়ে সমস্যায় পড়ছে। নিজের সেরাটা দিয়ে ব্যাটিং করতে পারছে না। বিষয়টি বেশ কয়েকবার আমাদের জানিয়েছে। এই জন্য ওকে অস্ট্রেলিয়াতে একজন সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছিল। ওই ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ওকে একটা ইনজেকশন দেওয়া হয়। ফলে গত কয়েক মাস সে মোটামুটি ব্যথামুক্ত হয়েই খেলতে পেরেছে।’ যদিও পুরো ফিট সাকিবকে পেতে হলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প নেই বলেই মনে করেন বিসিবির এই চিকিৎসক। অবশ্য সেক্ষেত্রে সাকিবকে দেড় মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হবে, ‘এই মুহূর্তে কিছুটা ব্যথামুক্ত হলেও কিছু সমস্যা থেকেই গেছে। সার্জনের কথা মতো শর্ট টার্ম ম্যানেজমেন্টের জন্য ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু লং টার্মে এটা খুব একটা কাজ করবে না। সাকিব দেশে ফেরার পর ম্যানেজমেন্ট ও আমরা সবাই মিলে তার ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেব।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘কারণ এই অপারেশন হলে প্রায় দেড়-দুই মাস রিহ্যাবের জন্য দরকার পড়বে। সামনে ব্যস্ত সূচিতে সাকিব ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এশিয়া কাপের অনুশীলন শুরুর পর সাকিব মানিয়ে নিতে পারলে আপাতত যেভাবে আছে, সেভাবেই চলবে। তবে অনুশীলনের সময় যদি ওর সমস্যা বেড়ে যায়, তাহলে হয়তো আমাদের এ ব্যাপারে চিন্তা করতে হবে।’ অস্ত্রোপচার করালেও নাকি সাকিব চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠবেন না, এমন তথ্যই দিয়েছেন দেবাশিষ। যদিও  সেরা খেলাটা খেলতে শতভাগ সুস্থতার দরকার নেই বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি, ‘এই ইনজুরি থেকে পুরোপুরি  সেরে ওঠা যাবে না কখনই। কিন্তু শতভাগ রিকভারি আসলে গুরুত্বপূর্ণ না। ৬০-৭০ ভাগ রিকভারি হলেই খেলতে অসুবিধা হবে না।’ এছাড়া আঙুলে ২৫টি সেলাই নিয়ে আপাতত তিন সপ্তাহের বিশ্রামে যেতে হচ্ছে বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুকে। বিশ্রাম শেষেই বোঝা যাবে পুরোপুরি সুস্থ হতে কতদিন অপেক্ষা করতে হবে তরুণ এই স্পিনারকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে তার করা শেষ ওভারেই ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে ফর্মে থাকা নাজমুল মাত্র ৩ বল করে মাঠ ছেড়েছেন চোটের শিকার হয়ে। ফ্লোরিডাতে তৃতীয় ম্যাচে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা চ্যাডউইক ওয়াল্টনের বুটের নিচে চাপা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার বাম হাতের আঙুল। নাজমুলের ইনুজির নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক দেবাশিষ বিশ্বাস বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ‘নাজমুল ইসলাম অপুর হাতে ক্ষত তৈরি হয়েছে। ব্যাটসম্যানের পায়ের নিচে চাপ পড়ে হাতের উল্টো পিঠে প্রায় চার জায়গায় ক্ষত তৈরি হয়েছে। যদিও এক্স- রের মাধ্যমে দেখা গেছে তার হাড়ে কোন ইনজুরি হয়নি। শুধু মাত্র সফট টিস্যু ক্ষতিপ্রস্থ হয়েছে।’ দেবাশিষ আরও জানালেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে সেলাই করা হয়েছে। চোট থেকে তাকে রক্ষা করতেই সেলাই দিতে হয়েছে, ‘আপাতত সেলাই করা হয়েছে। ইনজুরিটাকে ম্যানেজ করতেই এই সেলাই। এর মধ্যে তিনটা ক্ষত খুব একটা সমস্যা করবে না। একটা ক্ষত যেহেতু জয়েন্টের উপরে, সেটা সারতে একটু সময় লাগতে পারে। আপাতত দুই থেকে তিন সপ্তাহের বিশ্রাম নিতে হবে। এরপর বোঝা যাবে সুস্থ হতে কতটুকু সময় লাগবে। ’ অপুর হাতে কতটি সেলাই পড়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবির এই চিকিৎসক জানান, ‘ওর চারটা জায়গায় প্রতিটাতেই চার-পাঁচটা করে সেলাই লেগেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৪-২৫টার মতো সেলাই হয়েছে।’ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দুবাইয়ে বসবে এশিয়া কাপের আসর। এই টুর্নামেন্টে অপু খেলতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে  দেবাশিষ বিশ্বাস জানান, ‘আপাতত তিন সপ্তাহ সে খেলার বাইরে থাকবে। তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। ইনজুরি সারতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম খুব দরকার। এরপর কিছুদিন পুনর্বাসনে থাকতে হবে। সব মিলিয়ে বলতে পারি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ওর  খেলায় ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ