ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইসলাম যা কুরআন থেকে এসেছে তা একেবারেই মধ্যপন্থী

৭ আগস্ট, সিএনএন : ৯৩ বছর বয়সী মালায়শিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বিশ্বের সবচাইতে বয়ষ্ক রাজনীতিবিদ। চলতি বছরের মে মাসে তিনি দেশটির ক্ষমতায় আবারো ফিরে আসেন এবং তার এ প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে বলেন, খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার পূর্বেই দুর্নীতিতে জর্জরিত তার দেশকে রক্ষা করতে আবারও ফিরে এসেছেন।

একসময় মাহাথির একটানা ২২ বছর (১৯৮১-২০০৩ সাল) মালায়শিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। এটি ছিল মালায়শিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড। সেসময় তিনি দেশটিকে কৃষি নির্ভর দেশ থেকে শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করেন। অবশ্য তার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে তিনি দেশটির অন্য বিরোধী দলগুলো এবং গণমাধ্যমগুলোর প্রতি লৌহ মানবের ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সম্প্রতি দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা সিএনএন তার সাথে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ইসলাম ও ব্যক্তিগত প্রেম-ভালবাসা নিয়ে আলোচনা করেন। তার সেই সাক্ষাৎকারটির (ভাষান্তরে) শেষ পর্ব নিম্নে আরটিএনএনের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

সিএনএন: আপনি একটি মধ্যপন্থি মুসলিম জাতির নেতা এবং ২০০৩ সালে আপনি সবাইকে ইসলামের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জনান। এটা কি কাজে দিয়েছে?

মাহাথির: আপনি বর্তমানে যে ইসলাম দেখতেছেন তা আসলে ধর্মে শেখানো সত্যিকারের ইসলাম নয়। এটা ক্ষমতাধর ব্যক্তি, নেতা এবং কিছু বুদ্ধিজীবী কর্তৃক ব্যাখ্যা করা ইসলাম। আমরা দেখেছি কুরআন আমাদের যেভাবে শিক্ষা দিয়েছে তা থেকে এটা কতটা ভিন্ন। সে জন্যই আমরা অনুভব করি যে কুরাআন আমাদের যেরকম ইসলাম শিক্ষা দেয় তা কতটা মধ্যপন্থি। এটা যুদ্ধ ছড়িয়ে দেয় না বরং এটা সমগ্র মুসলিমদেরকে ভাই বলে সম্বোধন করতে শেখায়। এটা হত্যা নিষিদ্ধ করেছে, কিন্তু আমরা সেগুলোই করে যাচ্ছি যা আমাদেরকে কুরআন করতে নিষেধ করেছে। সুতারাং এটাই হচ্ছে ধর্মের ব্যখ্যা যা আমাদের বিশ্বটাকে একটা রাষ্ট্রে মতন পরিণত করে।

সিএনএন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার মতে এটাই ব্যাখ্যা, তাহলে বর্তমানে আপনার ধর্ম কে চালাচ্ছে?

মাহাথির: হ্যাঁ! কেউ একজন, একাকী আসল খুবই জনপ্রিয় নেতা হয়ে গেল এবং সে ব্যাখ্যা দিল যে, তোমাদের যুদ্ধ করা উচিত, হত্যা করা উচিত, অন্য ধর্মের লোকদের সাথে মতবিরোধে জড়ানো উচিত। এমনকি আপনার ভেতরেও এরকম রয়েছে, আপনি নিজেও এমন মানুষদের পছন্দ করেন না যাদের ভিন্ন মত রয়েছে। এ সবের ফল স্বরূপ, অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছে, গৃহযুদ্ধ বাঁধছে এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাচ্ছে।

সিএনএন: শেষ আরেকটি প্রশ্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জনগণ আপনাকে কিভাবে মনে রাখবে বলে আপনি মনে করেন?

মাহাথির: আমি বিশ্বাস করি যে, যখন আপনি থাকবেন না, অনেক লোকই আপনার কৃত সবকিছুকে চূরমার করে দিতে চাইবে এবং তারা আপনার সম্পর্কে খুবই বাজে কথা বলবে। আমার কাছে এগুলো অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি তখন এগুলো শোনার জন্য সেখানে থাকবো না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ