ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা বিআরটিএ অফিসে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স করার হিড়িক

খুলনা অফিস : গাড়ি চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহনের কাগজপত্র নবায়ন করতে খুলনা বিআরটিএ অফিসে হঠাৎ করেই আবেদনের হিড়িক পড়েছে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা শুরু করার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানের আদেশে অফিসের কর্মঘন্টা বাড়িয়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা করা হয়েছে। এছাড়া সপ্তাহের শনিবার অফিস খোলা রাখতে বলা হয়েছে। শুধু শুক্রবার বন্ধ থাকবে। অপরদিকে মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে স্কুল-কলেজের বিএনসিসি শিক্ষার্থীরা। যানজট নিরসনসহ গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় খুলনাতে চলছে ট্রাফিক সপ্তাহ। এতে করে মোটরযান আইনে মামলার পরিমাণ বেড়েছে। আবার অঘোষিত প্রথা ভেঙে আসছে না কোন গাড়ি ছাড়ানোর তদ্বিরও। 

খুলনা বিআরটিএ অফিসে গাড়ির রুট পারমিট, ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এদিন দুপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১৫০ জন শিক্ষানবীস ড্রাইভার পরীক্ষার অংশগ্রহণ করেন। এ সময় পরীক্ষার পরিদর্শনে ছিলেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংগাজাই মারমা, জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তালুকদার বেলায়েত হোসেন ও বিআরটি’র পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম। 

সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা বিভাগীয় ও জেলা বিআরটিএ কার্যালয় কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের জন্য জমায়েত হয়েছে বিআরটিএ কার্যালয়ে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যারা দীর্ঘদিন অসচেতন ও অবহেলায় গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স করেনি তারা ভীড় জমিয়েছেন। ফলে শুধু বিআরটিএ অফিসেই নয় কর্ম ব্যস্ততা বেড়েছে বিআরটি’র ব্যাংকের দু’টি শাখাতেও। 

বিআরটি’র পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে খুলনা বিআরটিএ অফিসে স্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রাকটিক্যাল ও মৌখিক পরিক্ষার নিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়। কোন অবস্থাতেই পরিক্ষা না দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়না।  

বিআরটিএ তে সেবা নিতে আসা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সময় করে উঠতে না পারায় এতদিন লাইসেন্স করার জন্য আসতে পারিনি। কিন্তু হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদের কঠোর আন্দোলনে কাগজ ছাড়া রাস্তায় নামা মানেই বিপদ। এ জন্য লাইসেন্স করতে এসেছি।’ অপর এক ব্যক্তি শান্তনু ভদ্রা জানান, লাইসেন্সের জন্য দীর্ঘ সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে সব কাজ করতে হচ্ছে। বিআরটিএতে আসা মো. মানিক বলেন, এখানে কর্ম ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে দালালদের দৌরাত্ম। এখানে কাজ শেষ করতে গেলে দালালদের দিতে হয় টাকা।    

এ ব্যাপারে খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, হঠাৎ করে কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সপ্তাহের শনিবার অফিস খোলা রাখা ও কর্মঘন্টা বাড়িয়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত করা হয়েছে। 

এদিকে মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে স্কুল-কলেজের বিএনসিসি শিক্ষার্থীরা। যানজট নিরসনসহ গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় খুলনাতে চলছে ট্রাফিক সপ্তাহ। এতে করে মোটরযান আইনে মামলার পরিমাণ বেড়েছে। আবার অঘোষিত প্রথা ভেঙে আসছে না কোন গাড়ি ছাড়ানোর তদ্বিরও।

সরেজমিনে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে থেকে দেখা যায় এসব চিত্র। সাধারণ পথচারী ও গাড়ির চালকরাও এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়। সকাল থেকে তিন ঘন্টার ব্যবধানে ৩৫টির মতো মামলা ও রেজিস্ট্রেশন না থাকায় তিনটি গাড়ি জব্দ করা হয়। ট্রাফিকদের সাথে রাস্তায় সহায়তাকারী শিক্ষার্থীরা খুলনার খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষের পাঁচজন (বিএনসিসি’র) শিক্ষার্থী। এরা হলেন, ক্যাডেট সুমি, ক্যাডেট সোহান, ক্যাডেট সোনিয়া, ক্যাডেট তাহের ও ক্যাডেট তাহের। 

কেএমপি’র সার্জেন্ট আশরাফুল ইবনে আকবর বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের কাজে সহযোগিতা করছে এটা খুবই আনন্দ লাগছে। তাছাড়া বিভিন্ন যানবাহন সিগন্যাল দিলে নানা পরিচয়ে তদ্ববির আসে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সাথে থাকায় তা করতে পারছে না। এটা আমাদের কাজের জন্য অনেক ভালো হয়েছে। ট্রাফিক সপ্তাহ ২০১৮ এর অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ খুলনার শিববাড়ি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের এ অভিযানে ৩৫টির মতো মামলা হয়েছে। মোটরযান আইন লঙ্ঘনের কারণে এ মামলাগুলো হয়েছে বলে জানান তিনি। রাস্তায় যানজট নিরসনে সহায়তাকারী শিক্ষার্থীরা বলল, প্রচন্ড রোদে আমাদের একটু কষ্ট হচ্ছে। তবে দেশের জন্য কাজ করছি এজন্য কষ্ট কম অনুভূত হচ্ছে। আমরা দেশের কাজে আসতে পেরে খুশি ও আনন্দিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ