ঢাকা, বুধবার 8 August 2018, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ২৫ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জায়গার অভাবে খুলনায় শিল্প স্থাপন হচ্ছে না

খুলনা অফিস : শিরোমণি বিসিক শিল্প নগরীতে নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য প্লট খালি নেই। শিল্প প্লট না থাকায় নতুন শিল্প স্থাপন হচ্ছেনা। হচ্ছেনা নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। নতুন শিল্পনগরী স্থাপনে জায়গা দেখা হলেও সে প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। সূত্র জানায়, ১৯৬৬ সালে খুলনা-যশোর সড়কের শিরোমণিতে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে ৪৪ দশমিক ১ একর জায়গায় বিসিক স্টেট স্থাপন করা হয়। ২৩৪টি শিল্প প্লট এর প্রায় সব কয়টিতেই বিনিয়োগ করেছে শিল্প মালিকরা। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় বর্তমান সময় পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে শিরোমণি বিসিক শিল্প নগরীতে। ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য এই নগরী প্রতিষ্ঠা করা হলেও বর্তমানে সেখানে মাঝারী, ভারি ও রপ্তানিমুখি শিল্পও রয়েছে। ব্যাটারি শিল্প প্রতিষ্ঠান হ্যামকো, অটোমেটিক চাল ও আটার কল তারক-পরশ, হুগলি বেকারী, মাহাবুব ব্রাদার্স এর মত নামী শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রয়েছে রফতানিমুখি দুই একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। বিসিকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনাম আহমেদ জানান, শিরোমণি বিসিক শিল্পনগরীতে অবরাদ্দকৃত শিল্প প্লট নেই। দীর্ঘদিন পূর্বেই শিরোমণি বিসিক শিল্প নগরী কলকারখানায় ভরে গেছে। নতুন শিল্প স্থাপনকারীরা তাদের কাক্সিক্ষত শিল্প প্লট না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে। তবে, ২০১৬ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে খুলনায় একটি টিম আসে নতুন শিল্পনগরীর জায়গা দেখতে। টিমের সদস্যরা ফুলতলায় ৩০ একর, রূপসায় ২০ একর, ডুমুরিযায় ২০ একর ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় ২০ একর জমি বিসিকের নতুন শিল্পনগরী স্থাপনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করেন। বিষয়টি ওখানেই থেমে আছে নতুন করে আলোর মুখ দেখেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বিসিকের সাবেক (২০১৭ সালে কর্মরত) আঞ্চলিক পরিচালক মোর্শেদ আলী’র সময়ে ঢাকা থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি টিম খুলনায় বিসিকের জন্য দু’টি স্থান পরিদর্শন করেন। এই টিমের সদস্যরা একটি খুলনা বাইপাস সড়কের পাশে অপরটি হরিণটানা থানার পাশে ১৫ থেকে ২০ একর জমি সরেজমিনে দেখেন। কিন্তু টিমের সদস্যরা চলে যাওয়ার পরে নতুন করে আর এ বিষয়ে উদ্যোগ দেখা যায়নি।  বিসিকের আঞ্চলিক কর্মকর্তা সুভাষ কুমার বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইতোপূর্বে খুলনা থেকে নতুন বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। খুলনা খুবই সম্ভাবনাময় স্থান। এখানে শিল্প স্থাপন করার লোক আছে কিন্তু শিল্পনগরী নেই। এখানকার জনপ্রতিনিধিরা মন্ত্রণালয়ে নতুন বিসিক নগরীর জন্য প্রস্তাব পাঠালে অবশ্যই তা অনুমোদন হবে। তিনি আরও জানান, খুলনায় বিশেষ করে নওয়াপাড়া ও বাগেরহাটে নতুন শিল্পনগরী গড়ে তোলার উপযুক্ত স্থান। পদœা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলে প্রচুর দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আসবে, শিল্পের প্রসার ও কর্মসংস্থানে সমূহ সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ